Dhaka ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
গোবিন্দগঞ্জের কৃতিসন্তান কাজী জেসিন বিটিভির মহাপরিচালক গাজীপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও গাজীপুর ৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান ডিবি পুলিশ এর হাতে আটক কালিগঞ্জ আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি অভিষেক সভা অনুষ্ঠিত নরসিংদীর বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর চিকিৎসককে বরখাস্ত নিবন্ধন বাতিল মাধবপুরে সরকারি কবরস্থানের জায়গা দখলের অভিযোগ, উচ্ছেদের দাবিতে ইউএনও বরাবর এলাকাবাসীর আবেদন। কালীগঞ্জে বাবা-মায়ের সঙ্গে মৃত বাড়ি যাচ্ছিল শিশুটি, ট্রাকের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে মৃত্যু মেধার আলো ছড়িয়ে দিতে দেশব্যাপী ‘ইতমিনান বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬’ ১৯ নভেম্বর কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে কুখ্যাত ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার দৌলতপুরের ভুরকা পাড়ায় পদ্মার ভাঙন দেখতে গিয়ে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার ডুমুরিয়ায় ঘ্যাংরাইল নদীতে অবৈধ বাঁধ ও নেট-পাটার বিরুদ্ধে অভিযান: ১০টি বাঁধ ও নিষিদ্ধ জাল ধ্বংস
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

‘বিজয় অথবা শহীদ’ পোস্টের কিছুক্ষণ পরই গুলিতে প্রাণ হারান রাকিব

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:০৮:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩১ Time View

‘বিজয় অথবা শহীদ’— আন্দোলনের শেষ মুহূর্তে ফেসবুকে এই বার্তাটি শেয়ার করেছিলেন তরুণ শিক্ষার্থী রাকিব হোসাইন। পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই সহপাঠীদের সঙ্গে মিছিলে যোগ দেন তিনি। পরে ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন রাকিব। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আজ (৫ আগস্ট) শহীদ এই তরুণকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন তার পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মানিককাঠি গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেনের ছোট ছেলে ছিলেন রাকিব। ছেলেকে হারানোর শোক আজও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তার বাবা-মা। অসুস্থ মা এখনও বিশ্বাস করেন, একদিন ছেলে ফিরে আসবে। আর বাবা প্রায় প্রতিদিনই ছেলের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে স্মৃতিচারণ করেন।

পরিবার ও সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদের ‘বিজয় অথবা শহীদ’ শিরোনামের একটি ফেসবুক পোস্ট নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন রাকিব। এর আগে তিনি আন্দোলনের কয়েকজন নেতার ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘আজ যুদ্ধে যাচ্ছে বাংলাদেশ।’

এরপর প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর একটি মিছিলে যোগ দেন তিনি। মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্দেশে যাত্রা করে।

রাকিবের বড় ভাই আবুল কালাম প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল প্রায় ১১টার দিকে মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে সেখানে অবস্থানরত পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে সামনের সারিতে থাকা রাকিবসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। সহপাঠীরা দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরদিন বাবুগঞ্জ উপজেলার মানিককাঠি বাজারে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তিনি আরও জানান, পুলিশের ছোড়া দুটি গুলি রাকিবের পেটে লাগে। এর মধ্যে একটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়।

রাকিব বাবুগঞ্জের খানপুরা আলিম মাদরাসা থেকে দাখিল এবং বরিশালের ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। পরে তিনি সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১০ম ব্যাচে বিএসসি অধ্যয়ন করছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  বৃষ্টির প্রভাবে ঢাকার বাতাসে স্বস্তি, দূষণে শীর্ষে সৌদি আরবের রিয়াদ

রাকিবের সহপাঠী হাসানুল বান্না বলেন, শুরু থেকেই তারা একসঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তার ভাষায়, রাকিব ছিলেন মেধাবী, সাহসী ও প্রতিবাদী একজন তরুণ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার থাকতেন এবং প্রায়ই মিছিলের সামনের সারিতে থাকতেন। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, রাকিব এলাকায় সাহসী ও ন্যায়বোধসম্পন্ন তরুণ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অন্যায় দেখলে কখনো নীরব থাকতেন না। কৃষক বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করা, কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেছে।

কৃষক বাবা আলমগীর হোসেন বলেন, অনেক কষ্ট করে কৃষিকাজের আয় দিয়ে ছেলেকে ঢাকায় পড়তে পাঠিয়েছিলেন। আশা ছিল লেখাপড়া শেষ করে একদিন পরিবারের দায়িত্ব নেবে। কিন্তু ফিরে এসেছে শুধু তার নিথর দেহ। তিনি জানান, আন্দোলনের সময় বড় ছেলের চাকরিটিও চলে যায়। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে বড় ছেলের জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, শহীদ পরিবারের খোঁজখবর রাখতে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত কাজ করছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে তাদের সম্মানের সঙ্গে আমন্ত্রণ জানানো হয়। উপজেলার তিন শহীদ পরিবারের জন্য রাস্তা নির্মাণ, টিউবওয়েল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকীতে রাকিবকে স্মরণ করে তার পরিবার, বন্ধু ও এলাকাবাসী বলেন, স্বপ্নবাজ এই তরুণের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগাবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

গোবিন্দগঞ্জের কৃতিসন্তান কাজী জেসিন বিটিভির মহাপরিচালক

‘বিজয় অথবা শহীদ’ পোস্টের কিছুক্ষণ পরই গুলিতে প্রাণ হারান রাকিব

সময়: ০৮:০৮:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

‘বিজয় অথবা শহীদ’— আন্দোলনের শেষ মুহূর্তে ফেসবুকে এই বার্তাটি শেয়ার করেছিলেন তরুণ শিক্ষার্থী রাকিব হোসাইন। পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই সহপাঠীদের সঙ্গে মিছিলে যোগ দেন তিনি। পরে ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন রাকিব। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আজ (৫ আগস্ট) শহীদ এই তরুণকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন তার পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মানিককাঠি গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেনের ছোট ছেলে ছিলেন রাকিব। ছেলেকে হারানোর শোক আজও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তার বাবা-মা। অসুস্থ মা এখনও বিশ্বাস করেন, একদিন ছেলে ফিরে আসবে। আর বাবা প্রায় প্রতিদিনই ছেলের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে স্মৃতিচারণ করেন।

পরিবার ও সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদের ‘বিজয় অথবা শহীদ’ শিরোনামের একটি ফেসবুক পোস্ট নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন রাকিব। এর আগে তিনি আন্দোলনের কয়েকজন নেতার ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘আজ যুদ্ধে যাচ্ছে বাংলাদেশ।’

এরপর প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর একটি মিছিলে যোগ দেন তিনি। মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্দেশে যাত্রা করে।

রাকিবের বড় ভাই আবুল কালাম প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল প্রায় ১১টার দিকে মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে সেখানে অবস্থানরত পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে সামনের সারিতে থাকা রাকিবসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। সহপাঠীরা দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরদিন বাবুগঞ্জ উপজেলার মানিককাঠি বাজারে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তিনি আরও জানান, পুলিশের ছোড়া দুটি গুলি রাকিবের পেটে লাগে। এর মধ্যে একটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়।

রাকিব বাবুগঞ্জের খানপুরা আলিম মাদরাসা থেকে দাখিল এবং বরিশালের ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। পরে তিনি সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১০ম ব্যাচে বিএসসি অধ্যয়ন করছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে গ্যাসের তীব্র সংকট, রান্না বন্ধ বহু ঘরে; রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভরশীল নগরবাসী

রাকিবের সহপাঠী হাসানুল বান্না বলেন, শুরু থেকেই তারা একসঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তার ভাষায়, রাকিব ছিলেন মেধাবী, সাহসী ও প্রতিবাদী একজন তরুণ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার থাকতেন এবং প্রায়ই মিছিলের সামনের সারিতে থাকতেন। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, রাকিব এলাকায় সাহসী ও ন্যায়বোধসম্পন্ন তরুণ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অন্যায় দেখলে কখনো নীরব থাকতেন না। কৃষক বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করা, কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেছে।

কৃষক বাবা আলমগীর হোসেন বলেন, অনেক কষ্ট করে কৃষিকাজের আয় দিয়ে ছেলেকে ঢাকায় পড়তে পাঠিয়েছিলেন। আশা ছিল লেখাপড়া শেষ করে একদিন পরিবারের দায়িত্ব নেবে। কিন্তু ফিরে এসেছে শুধু তার নিথর দেহ। তিনি জানান, আন্দোলনের সময় বড় ছেলের চাকরিটিও চলে যায়। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে বড় ছেলের জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, শহীদ পরিবারের খোঁজখবর রাখতে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত কাজ করছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে তাদের সম্মানের সঙ্গে আমন্ত্রণ জানানো হয়। উপজেলার তিন শহীদ পরিবারের জন্য রাস্তা নির্মাণ, টিউবওয়েল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকীতে রাকিবকে স্মরণ করে তার পরিবার, বন্ধু ও এলাকাবাসী বলেন, স্বপ্নবাজ এই তরুণের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগাবে।