Dhaka ০৬:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
দিনাজপুর বীরগঞ্জে বিপর্ণা নামীয় এক কিশোরীর রহস্য জনক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হরিণাকুণ্ডুতে ৮৩ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর আপনারা যেমন তার যত্ন করেন, ঠিক সেইভাবে শিশু চারাটিকেও প্রতিদিন যত্ন করতে হবে—ইউএনও এটিএম কামরুল ইসলাম নাসিরনগরে সংখ্যালঘু পরিবারকে বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ, টয়লেট-পানির পথও বন্ধ যে মুখে মা ডাকি, সে মুখে মাদক নয়—হরিণাকুন্ডুতে মাদক, জুয়া, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্র জেএসডির মতবিনিময় সভা ধামইরহাটে নারী হত্যা: ১২ ঘণ্টায় দুই আসামি গ্রেপ্তার বকশিগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত কলকাতায় অগ্নিদুর্ঘটনায় নিহত দেবাশীষের মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নিল এডুকেয়ার স্কুল ফরিদপুরে সিজারিয়ান রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই, দেড় মাস পর রোগীর মৃত্যু
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

কালিয়াকৈরে ক্যারাম ও মোবাইল অনলাইন জুয়া-ক্যাসিনো গেমে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ পরিবার

  • Reporter Name
  • সময়: ১১:০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৬ Time View

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিনোদনের আড়ালে গড়ে উঠেছে রমরমা অনলাইন মোবাইল জুয়া। জুয়া খেলে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ পরিবার। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকানে এখন প্রকাশ্যে চলছে ক্যারাম খেলা। তবে এটি কেবল খেলা নয়, এর আড়ালে চলছে রমরমা জুয়ার আসর। এতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ আসক্ত হয়ে পড়ছে।

আমাদের প্রতিনিধির ক্যামেরায় ধরা পড়েছে কালিয়াকৈরের একটি চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ড ঘিরে তরুণদের ভিড়। সকাল-সন্ধ্যা এভাবেই চলে জুয়ার আসর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক, কালিয়াকৈর সদর, রামচন্দ্রপুরসহ প্রায় ৮০টিরও বেশি চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ড বসানো হয়েছে। চন্দ্রা বাজার, সফিপুর বাজার, কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড ও তেলিপাড়া এলাকায় সকাল ১০টা থেকে গভীর রাত ২টা পর্যন্ত চলে এই আসর। প্রতি গেমে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা হচ্ছে। হার-জিতের নেশায় সর্বস্ব হারাচ্ছে কিশোর ও যুবকরা।

স্থানীয়রা জানান, অনেক দোকানে ক্যারামের পাশাপাশি মোবাইলে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো গেমও খেলা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা টিফিন ও বাসা থেকে চুরি করা টাকা এনে জুয়ায় হারাচ্ছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, মাদকের পাশাপাশি এই জুয়ার আসরগুলো যুবসমাজকে পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে, টিউশনির টাকা মেরে অনেক ছাত্র এখন জুয়ার আসরে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক অস্থিরতা ও চুরি-ছিনতাই আরও বাড়বে।

কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের এক শিক্ষক বলেন, আমাদের অনেক মেধাবী ছাত্র এখন ক্লাসে আসে না। খোঁজ নিয়ে দেখি, তারা চন্দ্রা-সফিপুরের ক্যারাম বোর্ডে বসে থাকে। এটা জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম ভাষায় বলেন, ক্যারাম খেলার নামে জুয়ার আসর বসার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আমি স্পষ্ট করে বলছি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উপজেলার প্রতিটি পয়েন্টে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। যেখানেই ক্যারাম বোর্ডের আড়ালে জুয়া পাওয়া যাবে, সেখানেই বোর্ড জব্দ, জুয়াড়িদের গ্রেফতার করে জেল-জরিমানা করা হবে। অপরাধী যেই হোক, সে নেতা হোক আর জনপ্রতিনিধি হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুনঃ  কালীগঞ্জে ব্যবসায়ীল বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনায় গৃহকর্ত্রী খুন, বাবা-মেয়ে গুরুতর জখম

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজ ও পরিবেশ নষ্ট করছে। জুয়াড়ি ও তাদের মদদাতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কালিয়াকৈরকে অপরাধমুক্ত রাখতে আমরা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

দিনাজপুর বীরগঞ্জে বিপর্ণা নামীয় এক কিশোরীর রহস্য জনক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কালিয়াকৈরে ক্যারাম ও মোবাইল অনলাইন জুয়া-ক্যাসিনো গেমে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ পরিবার

সময়: ১১:০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিনোদনের আড়ালে গড়ে উঠেছে রমরমা অনলাইন মোবাইল জুয়া। জুয়া খেলে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ পরিবার। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকানে এখন প্রকাশ্যে চলছে ক্যারাম খেলা। তবে এটি কেবল খেলা নয়, এর আড়ালে চলছে রমরমা জুয়ার আসর। এতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ আসক্ত হয়ে পড়ছে।

আমাদের প্রতিনিধির ক্যামেরায় ধরা পড়েছে কালিয়াকৈরের একটি চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ড ঘিরে তরুণদের ভিড়। সকাল-সন্ধ্যা এভাবেই চলে জুয়ার আসর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক, কালিয়াকৈর সদর, রামচন্দ্রপুরসহ প্রায় ৮০টিরও বেশি চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ড বসানো হয়েছে। চন্দ্রা বাজার, সফিপুর বাজার, কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড ও তেলিপাড়া এলাকায় সকাল ১০টা থেকে গভীর রাত ২টা পর্যন্ত চলে এই আসর। প্রতি গেমে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা হচ্ছে। হার-জিতের নেশায় সর্বস্ব হারাচ্ছে কিশোর ও যুবকরা।

স্থানীয়রা জানান, অনেক দোকানে ক্যারামের পাশাপাশি মোবাইলে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো গেমও খেলা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা টিফিন ও বাসা থেকে চুরি করা টাকা এনে জুয়ায় হারাচ্ছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, মাদকের পাশাপাশি এই জুয়ার আসরগুলো যুবসমাজকে পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে, টিউশনির টাকা মেরে অনেক ছাত্র এখন জুয়ার আসরে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক অস্থিরতা ও চুরি-ছিনতাই আরও বাড়বে।

কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের এক শিক্ষক বলেন, আমাদের অনেক মেধাবী ছাত্র এখন ক্লাসে আসে না। খোঁজ নিয়ে দেখি, তারা চন্দ্রা-সফিপুরের ক্যারাম বোর্ডে বসে থাকে। এটা জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম ভাষায় বলেন, ক্যারাম খেলার নামে জুয়ার আসর বসার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আমি স্পষ্ট করে বলছি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উপজেলার প্রতিটি পয়েন্টে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। যেখানেই ক্যারাম বোর্ডের আড়ালে জুয়া পাওয়া যাবে, সেখানেই বোর্ড জব্দ, জুয়াড়িদের গ্রেফতার করে জেল-জরিমানা করা হবে। অপরাধী যেই হোক, সে নেতা হোক আর জনপ্রতিনিধি হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুনঃ  কালীগঞ্জে ব্যবসায়ীল বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনায় গৃহকর্ত্রী খুন, বাবা-মেয়ে গুরুতর জখম

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজ ও পরিবেশ নষ্ট করছে। জুয়াড়ি ও তাদের মদদাতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কালিয়াকৈরকে অপরাধমুক্ত রাখতে আমরা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।