Dhaka ০৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ চলন্ত গাড়ির বনেট থেকে বেরিয়ে এলো বিশাল সাপ, আতঙ্কে পরিবার মির্জা ফখরুলের বিদায়ী বার্তায় সারজিসের শুভকামনা বন্যার পর আজ থেকে চট্টগ্রামে ফের শুরু এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষা স্বামীর শেষ বিদায়ে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেলেন দীপু মনি এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, ঢাকার সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি বাঁশখালী থানার উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সমাবেশ দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধের আহ্বান, রবিবার ভার্চুয়াল সভা হ্নীলায় ৭০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার: কথিত মূল হোতা নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তে আসতে পারে আরও তথ্য স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেলেন দীপু মনি
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

হ্নীলায় ৭০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার: কথিত মূল হোতা নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তে আসতে পারে আরও তথ্য

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:৫২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মগপাড়া এলাকায় পুলিশের অভিযানে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই সহোদরের সঙ্গে বড় কোনো মাদকচক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগে হ্নীলার মাহাবু ওরফে মাহবুবুর রহমানের নামও উঠে এসেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।

গত ১৮ আগস্ট হ্নীলার মগপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আলী (৩২) ও মোহাম্মদ আমিন (২৯) নামে দুই সহোদরকে গ্রেপ্তার করে টেকনাফ থানা পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ভাই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন। তাঁদের কাছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা কীভাবে এলো এবং এর পেছনে কারা রয়েছে—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র ইয়াবার চালানের সঙ্গে মাহাবু ওরফে মাহবুবুর রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

একটি স্থানীয় সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ আমিন অতীতে মাহাবুর একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। ওই সূত্রের অভিযোগ, তাঁকে ও তাঁর ভাইকে ইয়াবা পরিবহন ও বাজারজাতকরণে ব্যবহার করা হতো। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ১৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে আসা একটি বড় ইয়াবার চালানের অংশবিশেষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়ে এবং বাকি অংশ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, পুরো চালানে প্রায় দেড় লাখ পিস ইয়াবা ছিল। তবে এ তথ্যেরও কোনো স্বাধীন বা সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে অভিযোগ ওঠা মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইয়াবার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “ইয়াবার মালিক সাংবাদিকেরা।” পরে সাংবাদিকদের কাছে তাঁর পক্ষ থেকে সমঝোতার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  ফেনীতে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার এর উদ্যোগে শিক্ষা সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ইয়াবার মালিক কে, সেটা অবশ্যই বেরিয়ে আসবে। মাদক ব্যবসায়ী যত বড়ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুই সহোদরকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবার উৎস, অর্থের লেনদেন, সরবরাহকারী এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে পুলিশ।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে মাদকের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা জরুরি। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

হ্নীলায় ৭০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার: কথিত মূল হোতা নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তে আসতে পারে আরও তথ্য

সময়: ০৮:৫২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মগপাড়া এলাকায় পুলিশের অভিযানে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই সহোদরের সঙ্গে বড় কোনো মাদকচক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগে হ্নীলার মাহাবু ওরফে মাহবুবুর রহমানের নামও উঠে এসেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।

গত ১৮ আগস্ট হ্নীলার মগপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আলী (৩২) ও মোহাম্মদ আমিন (২৯) নামে দুই সহোদরকে গ্রেপ্তার করে টেকনাফ থানা পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ভাই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন। তাঁদের কাছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা কীভাবে এলো এবং এর পেছনে কারা রয়েছে—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র ইয়াবার চালানের সঙ্গে মাহাবু ওরফে মাহবুবুর রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

একটি স্থানীয় সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ আমিন অতীতে মাহাবুর একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। ওই সূত্রের অভিযোগ, তাঁকে ও তাঁর ভাইকে ইয়াবা পরিবহন ও বাজারজাতকরণে ব্যবহার করা হতো। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ১৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে আসা একটি বড় ইয়াবার চালানের অংশবিশেষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়ে এবং বাকি অংশ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, পুরো চালানে প্রায় দেড় লাখ পিস ইয়াবা ছিল। তবে এ তথ্যেরও কোনো স্বাধীন বা সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে অভিযোগ ওঠা মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইয়াবার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “ইয়াবার মালিক সাংবাদিকেরা।” পরে সাংবাদিকদের কাছে তাঁর পক্ষ থেকে সমঝোতার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে বীরগঞ্জে মাছের পোনা অবমুক্ত

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ইয়াবার মালিক কে, সেটা অবশ্যই বেরিয়ে আসবে। মাদক ব্যবসায়ী যত বড়ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুই সহোদরকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবার উৎস, অর্থের লেনদেন, সরবরাহকারী এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে পুলিশ।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে মাদকের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা জরুরি। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।