বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘিতে রবিউল ইসলাম ফকিরের শয়নকক্ষে তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। রবিউলের অভিযোগের পর এবার হামিদুল ইসলাম ফকিরও তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা যায়, উপজেলা সদরের কেশরতা মৌজার ৫৬৭ নম্বর খতিয়ানের সম্পত্তির মূল মালিক আজিজার রহমান শেখ, হাফিজার রহমান শেখ, জরিনা বেওয়া ও হালিমা বিবি। ওই সম্পত্তিতে দখলস্বত্ব হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে হামিদুল ফকির ও রবিউল ফকিরের পূর্বপুরুষরা বসবাস করে আসছিলেন। পরবর্তীতে তাদের মৃত্যুর পর বর্তমানে সেখানে দুই পরিবারের সদস্যরা বসবাস করছেন।
রবিউল ফকির দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে দেখতে পান, তার শয়নকক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তিনি গত সোমবার (১৭ আগস্ট) থানায় অভিযোগ করেন। পরে উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ওই ঘরের তালা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘরের তালা খুলতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
এরপর হামিদুল ইসলাম ফকিরের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ এনে রবিউল ফকির, শাহিনুরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগটি গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, রবিউল পক্ষের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি সত্য নয় এবং ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজনেরও দাবি, ঘটনাস্থলে মারধর বা শ্লীলতাহানির কোনো ঘটনা তারা দেখেননি।
এদিকে, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই গ্রামের একটি অরাজনৈতিক ক্লাবে ভাঙা একটি চেয়ার ও একটি ব্যানারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার দায়ও রবিউল ও তার লোকজনের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগেরও সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, মারামারি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 



























