Dhaka ০২:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিস্ফোরক মামলায় ভাঙ্গুড়া পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও আ.লীগ নেতা কালু গ্রেপ্তার ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির দাবি আদমদীঘিতে চোলাইমদ ও ওয়াশসহ শাশুড়ি-জামাই গ্রেপ্তার নরসিংদীতে বিশেষ অভিযানে ২৩৭ গ্রেফতার, বিপুল অস্ত্র-মাদক ও অবৈধ পণ্য উদ্ধার মেয়াদোত্তীর্ণ দুধে তারিখ কারসাজি, নকল BSTI লোগো: চট্টগ্রামে ৩ প্রতিষ্ঠানে ৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা জরিমানা বগুড়ায় দিনে দুপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বাসায় ডাকাতি, লুটপাট-ভাঙচুর; আহত ৪ শ্যামনগরে নারীর প্রতি সহিংসতা কমাতে পুরুষদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল থেকে অবসর নিলেন ডা. নূরুল হক কালিয়াকৈরে অভিযান: ১১০টি কারেন্ট ও রিং জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

জয়পুরহাটের হাসপাতালে রোগী ফেলে ডায়গনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় জনতার অবরুদ্ধ করে ডাক্তারকে

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ Time View

মোঃ মাফিজুল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি:

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি হাসপাতালে রোগী রেখে পাশের একটি বেসরকারি দ্বি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে ডা. মোর্শেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অবরুদ্ধ করেন। পরে পুলিশ ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রোগীদের অভিযোগ, ওই সময় ডা. মোর্শেদুল ইসলামের আক্কেলপুর উপজেলা সরকারি হাসপাতালে রোগী দেখার কথা ছিল। তার কাছে চিকিৎসা নিতে কয়েকজন রোগী অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি ফোন পেয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পার হলেও তিনি হাসপাতালে ফিরে না আসায় অপেক্ষমাণ রোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ইয়াসমিন নামের এক রোগী বলেন, ডাক্তারের কাছে দেখানোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তিনি ফোন পেয়ে উঠে চলে যান। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাকে পাইনি।

পরে স্থানীয়রা খোঁজ নিয়ে হাসপাতালের পাশের দ্বি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ গিয়ে ডা. মোর্শেদুল ইসলামকে রোগী দেখার সময় দেখতে পান৷ সেখানে রুজিনা নামের এক রোগী তার কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

স্থানীয় সিফাত হোসেন বলেন, দুপুর ১২টার সময় তার সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের কথা। কিন্তু তাকে পাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখতে দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।পরে আক্কেলপুর থানা পুলিশের সদস্য ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ডা. মোর্শেদুল ইসলামকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. মোর্শেদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কে বলেছে আপনাকে ভাই? আমি পাঁচ মিনিট পর আপনাকে ফোন ব্যাক করতেছি। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তার কাছ থেকে আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  বদলগাছীতে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে র‍্যালি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

এ বিষয়ে জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কোনো চিকিৎসক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেছেন কি না, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, আমি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছিল, সেগুলো জমা দেওয়ার জন্যই আমি সেখানে যাই। ওই সময় আমার সামনে কোনো রোগী ছিল না এবং রোগী দেখার জন্য কোনো প্যাড, খাতা বা কলমও ছিল না। সেখানে অনেক লোকজন উপস্থিত ছিলেন। আমি ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সপ্তাহে একদিন রোগী দেখি। তবে ঘটনার সময় আমি কোনো রোগী দেখছিলাম না।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

জয়পুরহাটের হাসপাতালে রোগী ফেলে ডায়গনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় জনতার অবরুদ্ধ করে ডাক্তারকে

সময়: ০৮:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

মোঃ মাফিজুল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি:

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি হাসপাতালে রোগী রেখে পাশের একটি বেসরকারি দ্বি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে ডা. মোর্শেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অবরুদ্ধ করেন। পরে পুলিশ ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রোগীদের অভিযোগ, ওই সময় ডা. মোর্শেদুল ইসলামের আক্কেলপুর উপজেলা সরকারি হাসপাতালে রোগী দেখার কথা ছিল। তার কাছে চিকিৎসা নিতে কয়েকজন রোগী অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি ফোন পেয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পার হলেও তিনি হাসপাতালে ফিরে না আসায় অপেক্ষমাণ রোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ইয়াসমিন নামের এক রোগী বলেন, ডাক্তারের কাছে দেখানোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তিনি ফোন পেয়ে উঠে চলে যান। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাকে পাইনি।

পরে স্থানীয়রা খোঁজ নিয়ে হাসপাতালের পাশের দ্বি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ গিয়ে ডা. মোর্শেদুল ইসলামকে রোগী দেখার সময় দেখতে পান৷ সেখানে রুজিনা নামের এক রোগী তার কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

স্থানীয় সিফাত হোসেন বলেন, দুপুর ১২টার সময় তার সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের কথা। কিন্তু তাকে পাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখতে দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।পরে আক্কেলপুর থানা পুলিশের সদস্য ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ডা. মোর্শেদুল ইসলামকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. মোর্শেদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কে বলেছে আপনাকে ভাই? আমি পাঁচ মিনিট পর আপনাকে ফোন ব্যাক করতেছি। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তার কাছ থেকে আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  সুনামগঞ্জ সীমান্তে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, তাহিরপুর-মধ্যনগরে উত্তেজনা

এ বিষয়ে জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কোনো চিকিৎসক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেছেন কি না, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, আমি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছিল, সেগুলো জমা দেওয়ার জন্যই আমি সেখানে যাই। ওই সময় আমার সামনে কোনো রোগী ছিল না এবং রোগী দেখার জন্য কোনো প্যাড, খাতা বা কলমও ছিল না। সেখানে অনেক লোকজন উপস্থিত ছিলেন। আমি ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সপ্তাহে একদিন রোগী দেখি। তবে ঘটনার সময় আমি কোনো রোগী দেখছিলাম না।