Dhaka ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
সারা বাংলা মিড ডে মিল কর্মীরা বিভিন্ন দাবী নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল ও ডেপুটেশন দিলেন ডুমুরিয়ায় কৃষি পুনর্বাসন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন কালিয়াকৈরে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ে সেরা ১০-এ এনজেড আলিম মাদ্রাসা, কৃতী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সংবর্ধনা কালিগঞ্জে প্রত্যয় আইডিয়াল স্কুলে বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা মিতালী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন মো. ফয়সাল খান মধ্যনগরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা পেল বৃত্তি, বাইসাইকেল ও সেলাইমেশিন যশোরে সাংবাদিকের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন, ৬ ঘণ্টা হেফাজতে রাখার অভিযোগ তাহিরপুরে সাংবাদিক আলম সাব্বিরকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা নওগাঁয় এক শিক্ষার্থী অপহরণ, ৩ সপ্তাহে মেলেনি সন্ধান, থানায় মামলা দায়ের
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

মেয়াদোত্তীর্ণ সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ট্রাক আটকা

ভারি যান চলাচল বন্ধ, স্থবির সোনাহাট স্থলবন্দর; নতুন সেতুর কাজ দ্রুত শেষের দাবি।

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ঐতিহাসিক ও মেয়াদোত্তীর্ণ সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় ভারি যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার (১ জুলাই) সকালে সেতুর স্টিলের অংশের একটি পাটাতন ভেঙে বালুবাহী একটি ড্রাম ট্রাক আটকে পড়ে। এ ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাকসহ সব ধরনের ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে সেতুর দুই প্রান্তে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর বিভিন্ন স্থানের পাটাতন ভাঙা এবং স্টিলের ট্যাংক জ্যাম (লোহার পাত) খুলে থাকলেও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছিল বিভিন্ন যানবাহন। তবে বুধবার সকালে পাটাতন ভেঙে ট্রাক আটকে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১,২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু নির্মিত হয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সেতুর একটি অংশ ধ্বংস করা হয়। পরে এরশাদ সরকারের আমলে সেতুটি সংস্কার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের তিন ইউনিয়ন, কচাকাটা ও মাদারগঞ্জের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু করা হয়।

নির্মাণের সময় সেতুটির আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০০ বছর। সেই হিসাবে প্রায় ৪০ বছর আগেই এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নড়বড়ে এই সেতুটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। পাশাপাশি সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে দুধকুমার নদের দক্ষিণ পাশে প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। তাই দ্রুত নতুন সেতুর কাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি (বিজিপি)’র বিক্ষোভ শুক্রবার, ৩ জুলাই

সেতু সংলগ্ন ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও নুর ইসলাম জানান, পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচলের সময় পুরো সেতু কেঁপে ওঠে। আবার সেতুটি এতটাই সরু যে একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় অন্য কোনো যানবাহন চলাচলের সুযোগ থাকে না। ফলে প্রায় প্রতিদিনই সেতুর দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানিকারক-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম বলেন, “প্রায়ই সেতুর পাটাতন ভেঙে যায়, পরে সড়ক বিভাগ তা মেরামত করে। কিন্তু এভাবে আর চলতে পারে না। এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু দিয়ে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকলে স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে।”

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ জানান, সেতুটি দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত ওজন বহনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “সেতুটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কার কাজ শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব যান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।”

 

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

সারা বাংলা মিড ডে মিল কর্মীরা বিভিন্ন দাবী নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল ও ডেপুটেশন দিলেন

মেয়াদোত্তীর্ণ সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ট্রাক আটকা

সময়: ১১:৪১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ভারি যান চলাচল বন্ধ, স্থবির সোনাহাট স্থলবন্দর; নতুন সেতুর কাজ দ্রুত শেষের দাবি।

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ঐতিহাসিক ও মেয়াদোত্তীর্ণ সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় ভারি যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার (১ জুলাই) সকালে সেতুর স্টিলের অংশের একটি পাটাতন ভেঙে বালুবাহী একটি ড্রাম ট্রাক আটকে পড়ে। এ ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাকসহ সব ধরনের ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে সেতুর দুই প্রান্তে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর বিভিন্ন স্থানের পাটাতন ভাঙা এবং স্টিলের ট্যাংক জ্যাম (লোহার পাত) খুলে থাকলেও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছিল বিভিন্ন যানবাহন। তবে বুধবার সকালে পাটাতন ভেঙে ট্রাক আটকে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১,২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু নির্মিত হয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সেতুর একটি অংশ ধ্বংস করা হয়। পরে এরশাদ সরকারের আমলে সেতুটি সংস্কার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের তিন ইউনিয়ন, কচাকাটা ও মাদারগঞ্জের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু করা হয়।

নির্মাণের সময় সেতুটির আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০০ বছর। সেই হিসাবে প্রায় ৪০ বছর আগেই এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নড়বড়ে এই সেতুটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। পাশাপাশি সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে দুধকুমার নদের দক্ষিণ পাশে প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। তাই দ্রুত নতুন সেতুর কাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি (বিজিপি)’র বিক্ষোভ শুক্রবার, ৩ জুলাই

সেতু সংলগ্ন ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও নুর ইসলাম জানান, পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচলের সময় পুরো সেতু কেঁপে ওঠে। আবার সেতুটি এতটাই সরু যে একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় অন্য কোনো যানবাহন চলাচলের সুযোগ থাকে না। ফলে প্রায় প্রতিদিনই সেতুর দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানিকারক-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম বলেন, “প্রায়ই সেতুর পাটাতন ভেঙে যায়, পরে সড়ক বিভাগ তা মেরামত করে। কিন্তু এভাবে আর চলতে পারে না। এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু দিয়ে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকলে স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে।”

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ জানান, সেতুটি দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত ওজন বহনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “সেতুটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কার কাজ শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব যান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।”