হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ:
গত ২১ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার, যুক্তরাজ্য সময় সন্ধ্যা ৬টা (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা এবং নিউইয়র্ক সময় অপরাহ্ন ১টায়) আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। খবর আইবিএন নিউজ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এএনএম ঈসা এবং পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব এমএ রউফ (কাতার)।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট শিল্পপতি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রজ্ঞন। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন আলহাজ ফারুক আহমেদ চৌধুরী।
প্রধান অতিথি সাবেক সাংসদ ও বিশিষ্ট শিল্পপতি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রজ্ঞন বলেন, “প্রবাসীদের উন্নতি মানেই দেশের উন্নতি। প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাদের কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের কারণেই দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। তাই কোনো অবস্থাতেই প্রবাসীদের প্রতারণা বা হয়রানির শিকার হতে দেওয়া যাবে না।”
তিনি বলেন, অভিবাসী বাঙালিরাই দেশের প্রকৃত কূটনীতিক। যেসব দেশে ১০ হাজারের বেশি বাঙালি বসবাস করেন, তাদের থেকেই বাংলাদেশ মিশনগুলোতে কূটনৈতিকসহ কর্মকর্তা নিয়োগের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। অভিবাসী বাঙালিরা যারা প্রবাসে কর্মরত রয়েছেন, তাদের উচিত ৫০% আয়ের টাকা খরচ এবং ৫০% আয়ের টাকা সঞ্চয় করা।
প্রধান অতিথি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রজ্ঞন আয়োজকদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আলহাজ ফারুক আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রবাসীরা বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের অবহেলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন সেবাখাতে তাদের ভোগান্তির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তিনি এসব সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট এএনএম ঈসা বলেন, সরকার প্রবাসী কার্ড চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। তবে এই কার্যক্রমে যদি কোনো ধরনের ভুয়া নিবন্ধন, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, প্রতারণা কিংবা প্রবাসীদের হয়রানির সুযোগ সৃষ্টি হয়, তাহলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই কর্মসূচি হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রকৃত প্রবাসীদের কল্যাণকেন্দ্রিক।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স পাঠান না, তারা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি এবং জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
তিনি ভার্চুয়াল সভার সকল অতিথি এবং অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
রংধনু নারী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন্স শাহিদা পারভীন রত্না এবং রংধনু নারী ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা নাসরিন আক্তার তরফদার রউফসহ সভায় অংশগ্রহণকারী সকল বক্তা আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ঘোষিত ছয় দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
দাবিগুলো হলো—
১. দীর্ঘদিন বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য একটি স্থায়ী পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
২. বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যয় কমিয়ে দালাল ও সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
৩. আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. দেশে ও বিদেশে প্রবাসীদের জীবন, সম্পদ ও মর্যাদার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. দুর্ঘটনা, মৃত্যু ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী প্রবাসী কল্যাণ ও জরুরি সহায়তা তহবিল গঠন করতে হবে।
৬. প্রবাসীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সংসদে ১০টি সংরক্ষিত আসন এবং একজন মন্ত্রীর প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করতে হবে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব এমএ রউফ (কাতার) বলেন, বছরের পর বছর পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে যারা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে না। প্রবাসীদের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে, শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস হিসেবে নয়।
সভা থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, প্রবাসী কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, প্রকৃত প্রবাসীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং কোনো ধরনের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা হয়রানির সুযোগ কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক এবং লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন, অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান, লেখক সুমন, সৌদি আরবের আহ্বায়ক রিমন হোসেন, হেলাল আহমেদ, যুক্তরাজ্য কমিটির আহ্বায়ক মোসাদ্দিক মিয়া মানিক, সৈয়দ খালেদ মিয়া অলিদ, রেজা নবী, রেয়াজ আবু সাঈদ, শাহিন তালুকদার, মাহারাজ মিয়া (দুবাই), আরব আলী, কাজী মোকলিছ, আবূল হোসেন সরদার, শাহাজান মিয়া, হেলাল উদ্দীন, শাহাজান খান, কামাল মিয়া, আবূ তাহের মিয়া, লুৎফুর রহমান, মোহাম্মদ এনাম মিয়া, ইকবাল তালুকদার, নাজমা আক্তার, অ্যাডভোকেট তাজূল ইসলাম, মেজর ইমরান মিয়া, আঃ হামিদ মিয়া, শুভ মীর, মো. সজীব, সাব্বির হোসেন, রবিউস সানী, মামুন মোল্লা, সাগর মিয়া, আব্দুল ওয়াহাব রিংকো, গাজীপুর সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদক এবং প্রকাশক দৈনিক শব্দ দেশ-এর আব্দুল ওয়াব রিংকো, মীর আশরাফ, জামাল উদ্দীন, ডক্টর মালেক ফরাজী, জামাল মোস্তফা, রহিম মিয়া, আজাদ রহমান, রিপন মিয়া, আক্তার মিয়া, মুস্তাফিজুর রহমান রিপন, ফোটন, আব্দুল কাইয়ুম, আব্দুল লতিফ, হারুনুর রশিদ, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, কামাল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, সিরাজ খান, কামাল হোসেন, শাহাদাৎ হোসেন, আজাদ রহমান, নাজমা আক্তার, কাওসার আহমেদ, আবূল বাসার, আব্দুল লতিফ, ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট এনাম, শাহাজান মিয়া, আলী আশরাফ, শেখ ফরিদ, নুরুল হুদা, মনিরুজ্জামান, ইসমাইল খান, এস এম আব্দুস সাত্তার, লায়ন আব্দুল কাদের জিলানী, প্রফেসর আলহাজ ডক্টর শরিফ সাকি, এনামূল কবির লিটু, এনাম চৌধুরী, কবির আহমেদ মাসূম, হোসেন আহমেদ ইনসাফ, হাবিবুর রহমান রানা, সেলিম রানা, আলী নবাব খান খোকন, জগলু আহমেদ, নজিবুল রহমান মধু, এস এম আব্দুস সাত্তার, সিরাজ খান, আব্দুস সালাম রাজা, রফিক উদ্দিন চৌধুরী, কর্নেল ফেরদৌস আজিজ, মেজর ইমরান মিয়া, কাপ্তান মিয়া, এনাম চৌধুরী খোকন, আরমান, আকাশ দেওয়ান, হেলাল খান, আজাদ দেওয়ান, লিটু, হামিদুল ইসলাম, জাকির হোসেন, ইসমাইল, খালিদ, ইউসুফ আলী, হাসান, কাপ্তান মিয়া, মনিরুজ্জামান, আবূল খায়ের, সাইদুল করিম, ফজলুল করিম, ইসমাইল খান, হেলাল খান, আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, কর্নেল আলী ও ইসরাত জাহান রিপাসহ আরও নেতৃবৃন্দ।
Reporter Name 




























