
মো. বুলবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের উলিপুরের সাহেবের আলগা থেকে রাজিবপুরের মোহনগঞ্জ পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার বিকেলে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটির পাইকান্টারী বল্লভ পাড়া এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ, রাজিবপুর উপজেলা শাখা।
সমাবেশে সংগঠনের রাজিবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
তিনি বলেন, “চরের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ছাড়া কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। চরের নাজুক শিক্ষাব্যবস্থার কারণে বাল্যবিবাহ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এর ফলে প্রতিবন্ধী শিশু জন্মের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা প্রায় এক লাখ।”
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ব্রহ্মপুত্রের বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার এক চর থেকে অন্য চরে স্থানান্তর হতে বাধ্য হয়। এছাড়া গত পাঁচ বছরে নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে প্রায় ছয় হাজার পরিবার ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে।
সমাবেশে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, “নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ শতাধিক চর রয়েছে। এসব এলাকার মানুষ নদীভাঙন, বন্যা ও খরার সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে বেঁচে আছেন। তাদের একমাত্র দাবি নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে। অথচ আমাদের দেশে নদীভাঙনে বাড়ি-ভিটা বিলীন হয়ে গেলেও তা সরকারি খাস জমিতে পরিণত হয়। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
সমাবেশ থেকে উলিপুরের সাহেবের আলগা থেকে রাজিবপুরের মোহনগঞ্জ পর্যন্ত প্রস্তাবিত সাড়ে ৮০০ কোটি টাকার স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
এ সময় বক্তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএর কার্যকর ভূমিকার দাবি জানান। পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে পৃথক ‘চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবিও তুলে ধরেন তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু দারদা হেলাল, ওয়াজেদ আলী ঝিনুক, চিলমারী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল হক, রাজিবপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান মাস্টার, মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম আনু, সাংবাদিক হাবিবুর রহমানসহ ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা।
এদিকে নদীভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ বিভিন্ন নদীর ৪২টি ভাঙন পয়েন্টে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ লাখ ২২ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজ করা হয়েছে। নতুন করে আরও ৬টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেখানে কাজ শুরু করা হবে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রশাসন নজরদারি করছে। জরুরি ভাঙন প্রতিরোধে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১ লাখ ৭৪ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
Reporter Name 






















