Dhaka ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

সুনামগঞ্জ এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়: অভিভাবকরা হতাশ

 

সুনামগঞ্জ বিশেষ প্রতিনিধি: তৌফিকুর রহমান তাহের,

 

সুনামগঞ্জ জেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় এবার ভয়াবহ ফল বিপর্যয় ঘটেছে। জেলার প্রতিটি কলেজে ফলাফল নিয়ে হতাশ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

 

 

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সুনামগঞ্জ জেলার ১২ হাজার ৫৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৭৬৫ জন পাস করেছে। পাশের হার ৪৭.৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ, ফেল করেছে ৬ হাজার ৭৭০ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৫২.৬৫ শতাংশ।

 

 

গত বছর পাশের হার ছিল ৮৬.৯৪ শতাংশ — এক বছরের ব্যবধানে ৩৯.৫৯ শতাংশ কমে যাওয়া দেশের অন্য কোনো জেলায় নজিরবিহীন।

 

 

 

জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে বড় ধস
২০২৪ সালে সুনামগঞ্জে ৪৩৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও, ২০২৫ সালে এই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৬০ জনে। এক বছরে ৩৭৬ জনের পতন, যা ৮৬ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে।

 

 

সেরা প্রতিষ্ঠান

জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ সবচেয়ে এগিয়ে, যেখানে ৩২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

পাশের হারে শীর্ষে রয়েছে দোয়ারাবাজার উপজেলার সমুজ আলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যার পাশের হার ৯৪.৬৪ শতাংশ। উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে শাল্লা উপজেলা সামগ্রিকভাবে এগিয়ে।

 

 

 

সবচেয়ে খারাপ ফলাফল

•   দোয়ারাবাজারের প্রগতি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ: ৭৩ জনের     মধ্যে পাস ৪ জন (৫.৪৮%)।

•   দিরাইয়ের রজনীগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ: ৪৭ জনের     মধ্যে পাস ৩ জন (৬.৩৮%)।

•  ধর্মপাশার গোলকপুর হাজী এ. হাফেজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ: ১৫ জনের মধ্যে পাস ১ জন (৬.৬৭%)।

 

এছাড়াও জেলার ২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশের হার ৩০ শতাংশের নিচে।

 

 

 

অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া

ফল বিপর্যয়ে হতাশ অভিভাবকরা বলেন,

আমরা অনেক আশা নিয়ে সন্তানদের কলেজে পাঠাই যেন তারা লেখাপড়া করে ভালো ফল করে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করে। এবারের ফলাফল আমাদের খুব কষ্ট দিয়েছে। এখন ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সবাইকে মিলে পড়ালেখার পরিবেশ ঠিক করতে হবে।”

 

আরও পড়ুনঃ  বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি, বাঁশখালীতে আমীরে জামায়াত

 

প্রশাসনের মন্তব্য

এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জীব সরকার বলেন,

আশানুরূপ ফল হয়নি। আমরা কলেজগুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নে পদক্ষেপ নেব।”

 

 

 

 

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

বোয়ালখালী পৌরসভাস্থ দুশত বছরের বৌদ্ধ মন্দির ধ্বংসের পথে!

সুনামগঞ্জ এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়: অভিভাবকরা হতাশ

সময়: ০৬:৫৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

 

সুনামগঞ্জ বিশেষ প্রতিনিধি: তৌফিকুর রহমান তাহের,

 

সুনামগঞ্জ জেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় এবার ভয়াবহ ফল বিপর্যয় ঘটেছে। জেলার প্রতিটি কলেজে ফলাফল নিয়ে হতাশ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

 

 

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সুনামগঞ্জ জেলার ১২ হাজার ৫৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৭৬৫ জন পাস করেছে। পাশের হার ৪৭.৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ, ফেল করেছে ৬ হাজার ৭৭০ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৫২.৬৫ শতাংশ।

 

 

গত বছর পাশের হার ছিল ৮৬.৯৪ শতাংশ — এক বছরের ব্যবধানে ৩৯.৫৯ শতাংশ কমে যাওয়া দেশের অন্য কোনো জেলায় নজিরবিহীন।

 

 

 

জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে বড় ধস
২০২৪ সালে সুনামগঞ্জে ৪৩৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও, ২০২৫ সালে এই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৬০ জনে। এক বছরে ৩৭৬ জনের পতন, যা ৮৬ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে।

 

 

সেরা প্রতিষ্ঠান

জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ সবচেয়ে এগিয়ে, যেখানে ৩২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

পাশের হারে শীর্ষে রয়েছে দোয়ারাবাজার উপজেলার সমুজ আলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যার পাশের হার ৯৪.৬৪ শতাংশ। উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে শাল্লা উপজেলা সামগ্রিকভাবে এগিয়ে।

 

 

 

সবচেয়ে খারাপ ফলাফল

•   দোয়ারাবাজারের প্রগতি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ: ৭৩ জনের     মধ্যে পাস ৪ জন (৫.৪৮%)।

•   দিরাইয়ের রজনীগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ: ৪৭ জনের     মধ্যে পাস ৩ জন (৬.৩৮%)।

•  ধর্মপাশার গোলকপুর হাজী এ. হাফেজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ: ১৫ জনের মধ্যে পাস ১ জন (৬.৬৭%)।

 

এছাড়াও জেলার ২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশের হার ৩০ শতাংশের নিচে।

 

 

 

অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া

ফল বিপর্যয়ে হতাশ অভিভাবকরা বলেন,

আমরা অনেক আশা নিয়ে সন্তানদের কলেজে পাঠাই যেন তারা লেখাপড়া করে ভালো ফল করে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করে। এবারের ফলাফল আমাদের খুব কষ্ট দিয়েছে। এখন ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সবাইকে মিলে পড়ালেখার পরিবেশ ঠিক করতে হবে।”

 

আরও পড়ুনঃ  শিক্ষকদের সম্মানী বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, পর্যায়ক্রমে পাবে প্রশিক্ষণ ও নতুন সুবিধা

 

প্রশাসনের মন্তব্য

এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জীব সরকার বলেন,

আশানুরূপ ফল হয়নি। আমরা কলেজগুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নে পদক্ষেপ নেব।”