Dhaka ০৯:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি হ্রাসে প্রয়োজন পূর্ব সতর্কীকরণ ও প্রাথমিক ব্যবস্থার উন্নয়ন পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত না করায় বঞ্চনার অভিযোগ ও ক্ষোভ বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি, বাঁশখালীতে আমীরে জামায়াত নিকলী থানার হাজতে পরোয়ানাভুক্ত আসামির মৃত্যু, আইনগত তদন্ত শুরু সারাদিনের প্রবল বর্ষণে কলকাতার জনজীবন বিপর্যস্ত, পথচলতি মানুষ বিপাকে ঠাকুরগাঁওয়ে বুকসমান পানি পেরিয়ে মায়ের জানাজা আলহামদুলিল্লাহ,  ​মানবতার সেবায় আরেকটি ছোট্ট উদ্যোগ সফলভাবে সম্পন্ন হলো ভারী বর্ষণে খুলশীর লালখান বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন সংসদ সদস্য: সাঈদ আল নোমান নেত্রকোনা পূর্বধলায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষে আহত ১০, থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা; গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ ঠাকুরগাঁওয়ে বুকসমান পানি পেরিয়ে মায়ের জানাজা
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ডাইংপাড়ায় বিআরটিসি যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ফিটনেসবিহীন গাড়ি আর যাত্রী ছাউনিহীন কাউন্টারেই ভরসা

 

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ডাইংপাড়া মোড় দিয়ে যাতায়াতকারী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) যাত্রীদের ভোগান্তি এখন চরমে। একদিকে জরাজীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন বাসের ঝুঁকি, অন্যদিকে কাউন্টারে প্রয়োজনীয় যাত্রী সুবিধাদি না থাকায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে ডাইংপাড়া মোড় বিআরটিসি কাউন্টারে কোনো স্থায়ী যাত্রী ছাউনি বা শৌচাগার না থাকায় নারী ও শিশু যাত্রীদের অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
​আবেদন সত্ত্বেও মিলছে না সমাধান অনুসন্ধানে জানা যায়, ডাইংপাড়া বিআরটিসি টিকিট বিক্রয় এজেন্ট মোঃ রায়হান আলী (কবীর) গত ২২ জুলাই ২০২৫ তারিখে রাজশাহী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর একটি লিখিত আবেদন পেশ করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতাল সংলগ্ন এই কাউন্টার দিয়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩২টি বিআরটিসি বাস চলাচল করে। বিপুল সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করলেও এখানে কোনো যাত্রী ছাউনি ও শৌচাগার নেই। যাত্রী সেবার মানোন্নয়নে তিনি নিজ দায়িত্বে অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি চাইলেও এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই আবেদনের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকেও প্রদান করা হয়েছিল।

​ফিটনেসবিহীন বাসে জীবনের ঝুঁকিতে নিয়মিত যাত্রীরা অভিযোগ করেন, এই রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর ফিটনেস অত্যন্ত নাজুক। লক্কড়-ঝক্কড় বডি, ভাঙা জানালা এবং মাঝপথে ইঞ্জিন বিকল হওয়া নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অনেক সময় চলন্ত অবস্থায় বাসের চাকা খুলে যাওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটেছে। সরকারি এই পরিবহনের বেহাল দশা দেখে যাত্রীরা এখন এতে উঠতে ভয় পাচ্ছেন।

​যাত্রী ও এজেন্টের দাবি টিকিট এজেন্ট মোঃ রায়হান আলী জানান, যাত্রীদের অনেক কষ্ট ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। একটি কাউন্টার অফিস, যাত্রী ছাউনি এবং শৌচাগার নির্মাণ এখানে অতি আবশ্যক। বৃষ্টির দিনে বা রোদে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, যা চরম অমানবিক।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌরসভার পক্ষ থেকে সিলিং ফ্যান প্রদান

যাত্রীদের অভিযোগ, বিআরটিসি কাউন্টারে এখনো অনলাইন বা ডিজিটাল টিকেট ব্যবস্থার পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। ডাইংপাড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসেও অনেক সময় টিকেট পেতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এছাড়া আসন নিশ্চিত করার পরও অনেক সময় বাসে উঠে দেখা যায় একই আসনে অন্য কাউকে বসানো হয়েছে।

সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েন নারী, শিশু এবং বয়স্ক যাত্রীরা। কাউন্টারে দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষা করতে হলেও আশেপাশে কোনো মানসম্মত শৌচাগার বা বিশ্রামাগার নেই। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত অমানবিক।

লক্কড়-ঝক্কড় বাসের কারণে প্রায়ই গভীর রাতে জনমানবহীন রাস্তায় বাস নষ্ট হয়ে যায়। এতে নারী ও শিশু যাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। বাসের ভেতর বাতি না থাকা বা ফ্যান নষ্ট হওয়ার কারণে গরমে যাত্রীরা হাঁসফাঁস করেন।

বিআরটিসি বাসের ছাদে এবং দুই সিটের মাঝখানের হাঁটার রাস্তায় প্রচুর পরিমাণ মালামাল বা বস্তা তোলা হয়। এতে যাত্রীরা ঠিকমতো পা সোজা করে বসতে পারেন না। যাতায়াতের পরিবেশ বাসের বদলে অনেকটা পণ্যবাহী ট্রাকের মতো হয়ে দাঁড়ায়

দুর্ভোগ এখানেই শেষ না যাত্রীরা জানান, বাসের ভেতরে ফ্যান অকেজো এবং অধিকাংশ জানালার কাঁচ ভাঙা থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভেতরটা কর্দমাক্ত হয়ে যায়। ডিজিটাল বাংলাদেশের এই সময়েও ডাইংপাড়ার মতো একটি ব্যস্ত কাউন্টারে নেই কোনো বসার জায়গা বা শৌচাগার। রাতের বেলা যখন মাঝরাস্তায় বাস বিকল হয়ে যায়, তখন নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কম ভাড়ার সুবিধা থাকলেও বিআরটিসির সেবার মান এখন যাতায়াতকারীদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​বিআরটিসির মতো একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এমন দৈন্যদশা স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমতি না মেলায় অবকাঠামো নির্মাণ থমকে আছে, অন্যদিকে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ফিটনেসবিহীন বাসগুলো রাস্তায় মৃত্যুকূপ হয়ে ঘুরছে। সাধারণ যাত্রীরা অবিলম্বে এই রুটে নতুন গাড়ি বরাদ্দ এবং ডাইংপাড়া কাউন্টারে যাত্রী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি =

আরও পড়ুনঃ  নরসিংদীর শিবপুরে নিরাপদ সড়ক চাই কমিটির আলোচনা সভা ও আইডি কার্ড বিতরণ
Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি হ্রাসে প্রয়োজন পূর্ব সতর্কীকরণ ও প্রাথমিক ব্যবস্থার উন্নয়ন

ডাইংপাড়ায় বিআরটিসি যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ফিটনেসবিহীন গাড়ি আর যাত্রী ছাউনিহীন কাউন্টারেই ভরসা

সময়: ১২:৪৯:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

 

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ডাইংপাড়া মোড় দিয়ে যাতায়াতকারী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) যাত্রীদের ভোগান্তি এখন চরমে। একদিকে জরাজীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন বাসের ঝুঁকি, অন্যদিকে কাউন্টারে প্রয়োজনীয় যাত্রী সুবিধাদি না থাকায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে ডাইংপাড়া মোড় বিআরটিসি কাউন্টারে কোনো স্থায়ী যাত্রী ছাউনি বা শৌচাগার না থাকায় নারী ও শিশু যাত্রীদের অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
​আবেদন সত্ত্বেও মিলছে না সমাধান অনুসন্ধানে জানা যায়, ডাইংপাড়া বিআরটিসি টিকিট বিক্রয় এজেন্ট মোঃ রায়হান আলী (কবীর) গত ২২ জুলাই ২০২৫ তারিখে রাজশাহী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর একটি লিখিত আবেদন পেশ করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতাল সংলগ্ন এই কাউন্টার দিয়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩২টি বিআরটিসি বাস চলাচল করে। বিপুল সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করলেও এখানে কোনো যাত্রী ছাউনি ও শৌচাগার নেই। যাত্রী সেবার মানোন্নয়নে তিনি নিজ দায়িত্বে অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি চাইলেও এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই আবেদনের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকেও প্রদান করা হয়েছিল।

​ফিটনেসবিহীন বাসে জীবনের ঝুঁকিতে নিয়মিত যাত্রীরা অভিযোগ করেন, এই রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর ফিটনেস অত্যন্ত নাজুক। লক্কড়-ঝক্কড় বডি, ভাঙা জানালা এবং মাঝপথে ইঞ্জিন বিকল হওয়া নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অনেক সময় চলন্ত অবস্থায় বাসের চাকা খুলে যাওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটেছে। সরকারি এই পরিবহনের বেহাল দশা দেখে যাত্রীরা এখন এতে উঠতে ভয় পাচ্ছেন।

​যাত্রী ও এজেন্টের দাবি টিকিট এজেন্ট মোঃ রায়হান আলী জানান, যাত্রীদের অনেক কষ্ট ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। একটি কাউন্টার অফিস, যাত্রী ছাউনি এবং শৌচাগার নির্মাণ এখানে অতি আবশ্যক। বৃষ্টির দিনে বা রোদে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, যা চরম অমানবিক।

আরও পড়ুনঃ   উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত ৮, সবাই কন্যাশিশু

যাত্রীদের অভিযোগ, বিআরটিসি কাউন্টারে এখনো অনলাইন বা ডিজিটাল টিকেট ব্যবস্থার পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। ডাইংপাড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসেও অনেক সময় টিকেট পেতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এছাড়া আসন নিশ্চিত করার পরও অনেক সময় বাসে উঠে দেখা যায় একই আসনে অন্য কাউকে বসানো হয়েছে।

সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েন নারী, শিশু এবং বয়স্ক যাত্রীরা। কাউন্টারে দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষা করতে হলেও আশেপাশে কোনো মানসম্মত শৌচাগার বা বিশ্রামাগার নেই। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত অমানবিক।

লক্কড়-ঝক্কড় বাসের কারণে প্রায়ই গভীর রাতে জনমানবহীন রাস্তায় বাস নষ্ট হয়ে যায়। এতে নারী ও শিশু যাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। বাসের ভেতর বাতি না থাকা বা ফ্যান নষ্ট হওয়ার কারণে গরমে যাত্রীরা হাঁসফাঁস করেন।

বিআরটিসি বাসের ছাদে এবং দুই সিটের মাঝখানের হাঁটার রাস্তায় প্রচুর পরিমাণ মালামাল বা বস্তা তোলা হয়। এতে যাত্রীরা ঠিকমতো পা সোজা করে বসতে পারেন না। যাতায়াতের পরিবেশ বাসের বদলে অনেকটা পণ্যবাহী ট্রাকের মতো হয়ে দাঁড়ায়

দুর্ভোগ এখানেই শেষ না যাত্রীরা জানান, বাসের ভেতরে ফ্যান অকেজো এবং অধিকাংশ জানালার কাঁচ ভাঙা থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভেতরটা কর্দমাক্ত হয়ে যায়। ডিজিটাল বাংলাদেশের এই সময়েও ডাইংপাড়ার মতো একটি ব্যস্ত কাউন্টারে নেই কোনো বসার জায়গা বা শৌচাগার। রাতের বেলা যখন মাঝরাস্তায় বাস বিকল হয়ে যায়, তখন নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কম ভাড়ার সুবিধা থাকলেও বিআরটিসির সেবার মান এখন যাতায়াতকারীদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​বিআরটিসির মতো একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এমন দৈন্যদশা স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমতি না মেলায় অবকাঠামো নির্মাণ থমকে আছে, অন্যদিকে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ফিটনেসবিহীন বাসগুলো রাস্তায় মৃত্যুকূপ হয়ে ঘুরছে। সাধারণ যাত্রীরা অবিলম্বে এই রুটে নতুন গাড়ি বরাদ্দ এবং ডাইংপাড়া কাউন্টারে যাত্রী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি =

আরও পড়ুনঃ  সাঁওতাল শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি না করার অভিযোগ