Dhaka ০১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
শারদাঞ্জলি ফোরামের উপজেলা ও জেলা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সদস্য সংগ্রহ শুরু সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে ১৫৯ অভিযোগের অধিকাংশই ভিত্তিহীন, তদন্তে মিলল সত্যতা চট্টগ্রাম-১০ আসন: গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন ​পোড়াকলোনী ৩ নং গলির রাস্তার ঢালাই কাজের শুভ সমাপ্তি যাদুকাটায় অবৈধ বালু উত্তোলন: ৬ মাসে ৬৬ মামলা, গ্রেপ্তার ৬০ শহীদদের স্মরণে,– অমর একুশে জুলাই পালিত হলো টিএম টেক্সটাইল পরিদর্শনে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের এসপি রাঙ্গাবালীতে অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল ও বেহুন্দি জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয় পাঁচবিবির কৃতি সন্তান সেনা সদস্য সার্জেন্ট আরাফাত হোসেন রাজুর দাফন সম্পন্ন পূর্বধলায় চুরি ঘটনা কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ থানার অভিযোগ নবীনগর সেমন্তঘরের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ,ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর পাশে মানবিক সহানুভূতির হাত:নগদ ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দিলেন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বাবাকে হারিয়েও থামেনি স্বপ্ন, এবার ইকনের পাশে দাঁড়ালেন শিক্ষামন্ত্রী

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ১৪ Time View

 

নিজস্ব প্রতিবেদক


বাবার মৃত্যুর শোক তখনও কাটেনি। জানাজা ও দাফন শেষে রাতেই ছুটতে হয়েছে কর্মস্থলে। সারারাত এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করে সকালে বসেছেন এইচএসসি পরীক্ষার হলে। বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকন দাড়িয়ার এই সংগ্রামের গল্প দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। আর সেই খবর প্রকাশের পর তার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন

বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফারহান ইশতিয়াক ফোন করে ইকনকে জানান, শুধু চলমান এইচএসসি পরীক্ষাই নয়, তার ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষার দায়িত্বও নেবে সরকার।

পরীক্ষা চলাকালেই মিলবে আর্থিক সহায়তা

শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার সময় যেন জীবিকার জন্য আর চাকরি করতে না হয়, সে জন্য আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই ইকনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি এইচএসসি শেষে তার উচ্চশিক্ষাসহ ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের সার্বিক দায়িত্ব নেওয়া হবে।

শোকের মধ্যেও দায়িত্ব থেকে সরে যাননি

ইকন দাড়িয়া বাগেরহাটের খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। সংসারের হাল ধরতে তিনি রাতের শিফটে বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকার কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন।

মঙ্গলবার ভোরে তার বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া (৪৫) অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জানাজা শেষে গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে বাবাকে দাফন করার পরও পরিবারের দায়িত্বের কথা ভেবে রাতে কাজে যোগ দেন ইকন। পরদিন সকালে অংশ নেন এইচএসসি পরীক্ষায়।

পরিবারের একমাত্র ভরসা

ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। বড় ছেলে ইমন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর পরিবারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে ছোট ছেলে ইকনের কাঁধে। বর্তমানে মা ও অসুস্থ ভাইকে নিয়ে বাগেরহাটে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন তিনি।

আলোচনার পরই মন্ত্রীর উদ্যোগ

ইকনের সংগ্রামী জীবনের খবর মঙ্গলবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপরই বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর নজরে আসে এবং তার সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  ২৮তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে শ্রীশ্রী লোকনাথ ধামে ১৫ দিনব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও নামযজ্ঞ মহোৎসব

যা বললেন ইকন

শিক্ষামন্ত্রীর সহায়তার বিষয়ে ইকন বলেন,

“মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আমাকে ফোন করে আর্থিক সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আমি ভবিষ্যতেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই কি না। আমি বলেছি, অবশ্যই আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।”

এই সংস্করণে শিরোনাম, উপশিরোনাম ও উপস্থাপনা আরও সংবাদপত্র-ধাঁচের, আবেগঘন এবং পাঠকবান্ধব করা হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

শারদাঞ্জলি ফোরামের উপজেলা ও জেলা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সদস্য সংগ্রহ শুরু

বাবাকে হারিয়েও থামেনি স্বপ্ন, এবার ইকনের পাশে দাঁড়ালেন শিক্ষামন্ত্রী

সময়: ১০:০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক


বাবার মৃত্যুর শোক তখনও কাটেনি। জানাজা ও দাফন শেষে রাতেই ছুটতে হয়েছে কর্মস্থলে। সারারাত এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করে সকালে বসেছেন এইচএসসি পরীক্ষার হলে। বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকন দাড়িয়ার এই সংগ্রামের গল্প দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। আর সেই খবর প্রকাশের পর তার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন

বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফারহান ইশতিয়াক ফোন করে ইকনকে জানান, শুধু চলমান এইচএসসি পরীক্ষাই নয়, তার ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষার দায়িত্বও নেবে সরকার।

পরীক্ষা চলাকালেই মিলবে আর্থিক সহায়তা

শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার সময় যেন জীবিকার জন্য আর চাকরি করতে না হয়, সে জন্য আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই ইকনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি এইচএসসি শেষে তার উচ্চশিক্ষাসহ ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের সার্বিক দায়িত্ব নেওয়া হবে।

শোকের মধ্যেও দায়িত্ব থেকে সরে যাননি

ইকন দাড়িয়া বাগেরহাটের খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। সংসারের হাল ধরতে তিনি রাতের শিফটে বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকার কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন।

মঙ্গলবার ভোরে তার বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া (৪৫) অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জানাজা শেষে গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে বাবাকে দাফন করার পরও পরিবারের দায়িত্বের কথা ভেবে রাতে কাজে যোগ দেন ইকন। পরদিন সকালে অংশ নেন এইচএসসি পরীক্ষায়।

পরিবারের একমাত্র ভরসা

ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। বড় ছেলে ইমন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর পরিবারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে ছোট ছেলে ইকনের কাঁধে। বর্তমানে মা ও অসুস্থ ভাইকে নিয়ে বাগেরহাটে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন তিনি।

আলোচনার পরই মন্ত্রীর উদ্যোগ

ইকনের সংগ্রামী জীবনের খবর মঙ্গলবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপরই বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর নজরে আসে এবং তার সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  নরসিংদীতে মহাসড়কে ডিম ভেঙ্গে পোলট্রি খামারিদের প্রতিবাদ

যা বললেন ইকন

শিক্ষামন্ত্রীর সহায়তার বিষয়ে ইকন বলেন,

“মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আমাকে ফোন করে আর্থিক সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আমি ভবিষ্যতেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই কি না। আমি বলেছি, অবশ্যই আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।”

এই সংস্করণে শিরোনাম, উপশিরোনাম ও উপস্থাপনা আরও সংবাদপত্র-ধাঁচের, আবেগঘন এবং পাঠকবান্ধব করা হয়েছে।