Dhaka ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চট্টগ্রাম নাসিমন ভবন কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল আমার কাগজ-এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সেমিনারে বক্তারা, সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য মানব সেবামূলক সংগঠন হাসি’র এক যুগ পূর্তী কালীগঞ্জে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় একজনকে কুপিয়ে জখম বগুড়ায় বাসে নারী যাত্রীর ব্যাগ থেকে ১ হাজার বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার, গ্রেফতার ১!! ডিমলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের দিয়ে শরীর ম্যাসেজ করার অভিযোগ ময়মনসিংহে ভাড়া বাসা থেকে যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, আটক ২ গোদাগাড়ীর এক পরিবারেই মাদকের রমরমা সাম্রাজ্য লস্করহাটির ‘পলাশ সিন্ডিকেট’ কেন অধরা? সিরাজুল আলম খান এর তৃতীয় প্রয়াণ দিবসে মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলন এর আলোচন অনুষ্ঠিত বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর কর্মসংস্থানের দাবি— বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ভাঙ্গুড়ায় সিকেবি মাদ্রাসায় ২ বছর অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা তুলছেন অধ্যক্ষ

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:৪৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ১৪ Time View

মো. মেহেদী হাসান ,

ভাঙ্গুড়া, পাবনা

 

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের চন্ডিপুর সিকেবি দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দুই বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন ভাতা তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঐ অধ্যক্ষের নাম মাওলানা মো: আবুল কালাম আজাদ। আর এই অবৈধ কাজে তাকে সহোযোগিতা করছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: আতিকুজ্জামান।

জানাযায়, গত আগস্ট অভূথ্থানের পর ঐ অধ্যক্ষ এলাকা ছাড়েন কারণ তিনি আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সহায়তায় ব্যপক নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। ফলে তার প্রতি এলাকার মানুষের প্রচন্ড ক্ষোভ রয়েছে।

মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান তিনি মাসে দু’একবার মাদ্রাসায় আসেন। কখনো রাতে, কখনো ভোরে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান।মাসের শেষে মাদ্রাসার ক্লার্ক বেতন বিল নিয়ে যান মাধ্যমিক অফিসে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইউএনও’কে দিয়ে বিল পাস করিয়ে দেন। অবশ্য এজন্য তিনি মাসোয়ারা নেন। এভাবে প্রতি মাসে বেতন নেন অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান,কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সাকুয়াদিঘী গ্রামের ইমরানের কাছ থেকে অধ্যক্ষ ৮ লক্ষ টাকা নেন। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর শেখ হাসিনার পতন হওয়ায় আত্মগোপনে চলে যান তিনি। এরপর থেকে তিনি মাদ্রাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন। পলাতক থেকেও লোক চোক্ষুর আড়ালে তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান কে মাসোহারা দিয়ে বেতন-ভাতা তুলে নিচ্ছেন।বিষয়টি জানতে সরেজমিন সাক্ষাৎকার নিতে গেলে (বৃহস্পতিবার) অধ্যক্ষের অফিস কক্ষ বন্ধ পাওয়া যায়। অথচ মাদ্রাসার হাজিরা খাতায় অধ্যক্ষের উপস্থিতির স্বাক্ষর দেখা যায়।

 

মাদ্রাসার নবম শ্রেণির মো. রহমতুল্লাহ, আশিনুর রহমান, মিলন হাসানসহ কয়েক শিক্ষার্থী জানান তাদের অধ্যক্ষ মাদ্রাসায় আসেন না।

এদিকে গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা মাসিক সভায় উপজেলা জামাতের আমির মাওলানা মহিরউদ্দিন অভিযোগ করেন ঐ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল দীর্ঘদিন যাবত প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। তিনি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।

আরও পড়ুনঃ  এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বুড়িচংয়ে অনুপস্থিত ৬৯ পরীক্ষার্থী

মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওনানা মোজাহারূল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ মহোদয় মাদ্রাসায় মাঝে মধ্যে আসেন। তবে তার বেতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।

এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রিন্সিপাল আবুল কালাম আজাদের ফোনে কল করলে তিনি বলেন, তিনি শারীরিক ভাবে অসুস্থ ও প্রতিষ্ঠানের কাজে প্রায়শ: ঢাকায় অবস্থান করতে হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান বলেন ইউএনও মহোদয় ঐ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। আর মাসোয়ার বিষয়টি তিনি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান বলেন, মাদ্রাসায় না এসে হাজিরা খাতায় সই করে বেতন উত্তোলনের সুযোগ নেই। দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অবশ্য সুশিল সমাজের অনেকে বিষয়টি দুদকের তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন।।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চট্টগ্রাম নাসিমন ভবন কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল

ভাঙ্গুড়ায় সিকেবি মাদ্রাসায় ২ বছর অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা তুলছেন অধ্যক্ষ

সময়: ০৮:৪৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

মো. মেহেদী হাসান ,

ভাঙ্গুড়া, পাবনা

 

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের চন্ডিপুর সিকেবি দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দুই বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন ভাতা তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঐ অধ্যক্ষের নাম মাওলানা মো: আবুল কালাম আজাদ। আর এই অবৈধ কাজে তাকে সহোযোগিতা করছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: আতিকুজ্জামান।

জানাযায়, গত আগস্ট অভূথ্থানের পর ঐ অধ্যক্ষ এলাকা ছাড়েন কারণ তিনি আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সহায়তায় ব্যপক নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। ফলে তার প্রতি এলাকার মানুষের প্রচন্ড ক্ষোভ রয়েছে।

মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান তিনি মাসে দু’একবার মাদ্রাসায় আসেন। কখনো রাতে, কখনো ভোরে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান।মাসের শেষে মাদ্রাসার ক্লার্ক বেতন বিল নিয়ে যান মাধ্যমিক অফিসে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইউএনও’কে দিয়ে বিল পাস করিয়ে দেন। অবশ্য এজন্য তিনি মাসোয়ারা নেন। এভাবে প্রতি মাসে বেতন নেন অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান,কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সাকুয়াদিঘী গ্রামের ইমরানের কাছ থেকে অধ্যক্ষ ৮ লক্ষ টাকা নেন। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর শেখ হাসিনার পতন হওয়ায় আত্মগোপনে চলে যান তিনি। এরপর থেকে তিনি মাদ্রাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন। পলাতক থেকেও লোক চোক্ষুর আড়ালে তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান কে মাসোহারা দিয়ে বেতন-ভাতা তুলে নিচ্ছেন।বিষয়টি জানতে সরেজমিন সাক্ষাৎকার নিতে গেলে (বৃহস্পতিবার) অধ্যক্ষের অফিস কক্ষ বন্ধ পাওয়া যায়। অথচ মাদ্রাসার হাজিরা খাতায় অধ্যক্ষের উপস্থিতির স্বাক্ষর দেখা যায়।

 

মাদ্রাসার নবম শ্রেণির মো. রহমতুল্লাহ, আশিনুর রহমান, মিলন হাসানসহ কয়েক শিক্ষার্থী জানান তাদের অধ্যক্ষ মাদ্রাসায় আসেন না।

এদিকে গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা মাসিক সভায় উপজেলা জামাতের আমির মাওলানা মহিরউদ্দিন অভিযোগ করেন ঐ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল দীর্ঘদিন যাবত প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। তিনি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।

আরও পড়ুনঃ  সারা দেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, কালীগঞ্জে পরীক্ষার্থী ১,৮৫৫ জন

মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওনানা মোজাহারূল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ মহোদয় মাদ্রাসায় মাঝে মধ্যে আসেন। তবে তার বেতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।

এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রিন্সিপাল আবুল কালাম আজাদের ফোনে কল করলে তিনি বলেন, তিনি শারীরিক ভাবে অসুস্থ ও প্রতিষ্ঠানের কাজে প্রায়শ: ঢাকায় অবস্থান করতে হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান বলেন ইউএনও মহোদয় ঐ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। আর মাসোয়ার বিষয়টি তিনি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান বলেন, মাদ্রাসায় না এসে হাজিরা খাতায় সই করে বেতন উত্তোলনের সুযোগ নেই। দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অবশ্য সুশিল সমাজের অনেকে বিষয়টি দুদকের তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন।।