
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের একটি ব্যস্ত সমুদ্রসৈকতে ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। আহতদের মধ্যে ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ এ হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছেন। তিনি এটিকে ‘বেসামরিক মানুষের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা’ বলে মন্তব্য করেন। তবে এ বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং বিবিসির যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন দ্রুতগতিতে পাহাড়ের ঢালের দিকে উড়ে এসে সৈকতে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের সময় সৈকত ও সমুদ্রে অনেক পর্যটক অবস্থান করছিলেন।
ঘটনাটি ঘটেছে কৃষ্ণসাগর উপকূলের আরখিপো-ওসিপোভকা গ্রামের কাছে। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এই এলাকায় হামলার সময় প্রচুর মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ড্রোনটির প্রকৃত লক্ষ্য কী ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইউক্রেনের কয়েকটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের দাবি, ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের কারণে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৈকতে পড়ে যায়।
অন্যদিকে, রুশ সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের আগে গুলির শব্দ শোনা যায়। তাদের ধারণা, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটি ভূপাতিত করার চেষ্টা করেছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দাবি, হামলার আগে কোনো সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়নি। এক পর্যটক বলেন, বিস্ফোরণের সময় তারা সান লাউঞ্জারের আড়ালে লুকিয়েছিলেন এবং কোথায় বিস্ঘটন ঘটেছে তা বুঝতে পারেননি।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি ড্রোন দেখতে না পেলেও মেশিনগানের মতো গুলির শব্দ শুনেছেন। এর পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে গত এক বছরে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। কিয়েভের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা ও অস্ত্রের গুদাম। তবে বিভিন্ন ঘটনায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
Reporter Name 






















