Dhaka ১২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
পুকুরে বিষ দিয়ে ১০ লাখ টাকার মাছ নিধন জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঝিনাইদহে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত ভোলাহাটে অসহায় তামিজুদ্দিন ৭২ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে বকশীগঞ্জে পাট চাষে লাভের আশা দেখছেন কৃষকরা মাহে রবিউল আউয়াল মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত নড়াইলের মুলিয়ায় এক পা-তেই জীবন সংসার গোপী বিশ্বাস’র প্রতিবন্ধী জীবনটাই যেন অভিশাপ জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে চাঁদপুরে ম্যারাথন, অংশ নিলেন পাঁচ শতাধিক প্রতিযোগী ময়মনসিংহ রেঞ্জে নবনিযুক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানের যোগদান আইডাহোতে শপিং সেন্টারে গুলি, নিহত ৩ নওগাঁয় ফল ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি-হেলমেট পেটা করে ক্যাশ বক্সের সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনতাই, থানায় লিখিত অভিযোগ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

২০৪৫ সালের মধ্যে ঢাকায় ৮ মেট্রোরেল, ৬ এক্সপ্রেসওয়ে ও ২১ পরিবহন হাবের পরিকল্পনা

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:১৩:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৩ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলে আধুনিক, সমন্বিত এবং দীর্ঘমেয়াদি গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান-এসটিপি ২০২৬–২০৪৫) প্রণয়ন করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৪৫ সালের মধ্যে রাজধানীতে ৮টি মেট্রোরেল, ৬টি এক্সপ্রেসওয়ে, ৩টি রিং রোড, ২টি বিআরটি, ৮টি রেডিয়াল সড়ক এবং ২১টি মাল্টিমোডাল পরিবহন হাব নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিটিসিএ ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সংস্থাটি নতুন এই পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে।

ডিটিসিএ জানায়, বর্তমানে রাজধানীতে মেট্রোরেলের নেটওয়ার্ক ১৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি ২০৩০ সালে ৭২ দশমিক ২ কিলোমিটার, ২০৩৫ সালে ১৩৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার এবং ২০৪৫ সালে ২৬৮ দশমিক ৫ কিলোমিটারে উন্নীত হবে।

মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করতে প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি মনোরেল করিডর নির্মাণেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব করিডরের প্রাক্-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-কে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আলোচনা সভায় জানানো হয়, রাজধানীতে গণপরিবহনের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে কমেছে। ২০১৪ সালে যেখানে দৈনন্দিন যাতায়াতে গণপরিবহনের অংশ ছিল ২২ দশমিক ৮ শতাংশ, সেখানে ২০২৩ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৮ দশমিক ৯ শতাংশে। বিপরীতে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যানবাহনের ব্যবহার বেড়েছে। এ প্রবণতা বদলাতে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যানজট নিরসনে ঢাকার চারপাশে তিনটি রিং রোড নির্মাণের পাশাপাশি সদরঘাট থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত একটি বৃত্তাকার নৌপথ এবং একাধিক ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

ডিটিসিএ আরও জানায়, আন্তজেলা বাস টার্মিনালগুলো ধাপে ধাপে নগরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে। বর্তমানে বিআরটিএ অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র ৯৮টি। তাই নতুন পরিকল্পনায় ৩২টি প্রধান রুট ও ২৫টি ফিডার রুট নিয়ে সমন্বিত বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা; আদমদীঘিতে খাল খননে বদলে গেল কৃষিচিত্র!!

সভায় ‘র‌্যাপিড পাস’ কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। বর্তমানে ১৯ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি যাত্রী এই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করছেন। শুধু মেট্রোরেলেই প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭০ লাখ যাত্রা এই কার্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্টের আওতায় রাজধানীতে ৪০০টি বৈদ্যুতিক (ইলেকট্রিক) বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩১ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গাবতলী, কমলাপুর ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব হাবে মেট্রোরেল, বাস, রেল, নৌ ও বিমান পরিবহনকে একীভূত করে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে।

আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান।

ডিটিসিএ বর্তমানে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ নিয়ে গঠিত বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলের পরিবহন পরিকল্পনা, সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব পালন করছে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

পুকুরে বিষ দিয়ে ১০ লাখ টাকার মাছ নিধন

২০৪৫ সালের মধ্যে ঢাকায় ৮ মেট্রোরেল, ৬ এক্সপ্রেসওয়ে ও ২১ পরিবহন হাবের পরিকল্পনা

সময়: ০৮:১৩:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলে আধুনিক, সমন্বিত এবং দীর্ঘমেয়াদি গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান-এসটিপি ২০২৬–২০৪৫) প্রণয়ন করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৪৫ সালের মধ্যে রাজধানীতে ৮টি মেট্রোরেল, ৬টি এক্সপ্রেসওয়ে, ৩টি রিং রোড, ২টি বিআরটি, ৮টি রেডিয়াল সড়ক এবং ২১টি মাল্টিমোডাল পরিবহন হাব নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিটিসিএ ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সংস্থাটি নতুন এই পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে।

ডিটিসিএ জানায়, বর্তমানে রাজধানীতে মেট্রোরেলের নেটওয়ার্ক ১৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি ২০৩০ সালে ৭২ দশমিক ২ কিলোমিটার, ২০৩৫ সালে ১৩৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার এবং ২০৪৫ সালে ২৬৮ দশমিক ৫ কিলোমিটারে উন্নীত হবে।

মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করতে প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি মনোরেল করিডর নির্মাণেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব করিডরের প্রাক্-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-কে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আলোচনা সভায় জানানো হয়, রাজধানীতে গণপরিবহনের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে কমেছে। ২০১৪ সালে যেখানে দৈনন্দিন যাতায়াতে গণপরিবহনের অংশ ছিল ২২ দশমিক ৮ শতাংশ, সেখানে ২০২৩ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৮ দশমিক ৯ শতাংশে। বিপরীতে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যানবাহনের ব্যবহার বেড়েছে। এ প্রবণতা বদলাতে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যানজট নিরসনে ঢাকার চারপাশে তিনটি রিং রোড নির্মাণের পাশাপাশি সদরঘাট থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত একটি বৃত্তাকার নৌপথ এবং একাধিক ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

ডিটিসিএ আরও জানায়, আন্তজেলা বাস টার্মিনালগুলো ধাপে ধাপে নগরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে। বর্তমানে বিআরটিএ অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র ৯৮টি। তাই নতুন পরিকল্পনায় ৩২টি প্রধান রুট ও ২৫টি ফিডার রুট নিয়ে সমন্বিত বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

সভায় ‘র‌্যাপিড পাস’ কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। বর্তমানে ১৯ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি যাত্রী এই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করছেন। শুধু মেট্রোরেলেই প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭০ লাখ যাত্রা এই কার্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্টের আওতায় রাজধানীতে ৪০০টি বৈদ্যুতিক (ইলেকট্রিক) বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩১ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গাবতলী, কমলাপুর ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব হাবে মেট্রোরেল, বাস, রেল, নৌ ও বিমান পরিবহনকে একীভূত করে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে।

আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান।

ডিটিসিএ বর্তমানে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ নিয়ে গঠিত বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলের পরিবহন পরিকল্পনা, সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব পালন করছে।