Dhaka ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চাকরির প্রলোভনে তরুণীদের আটকে রাখার অভিযোগ, দম্পতিসহ গ্রেপ্তার ৫ মাননীয় সংসদ সদস্য, জননেতা সাঈদ আল নোমান শ্যামনগরে কৃষি জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে “আইপিএস” প্রদান করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ ইবিতে এক ভিক্ষুক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ভ্যানচালক আটক ঝিনাইদহে পরিবেশক সমিতির দুই যুগ পূর্তি উদযাপন খুলনার পাইকগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত দৌলতপুরে অবৈধ সিগারেট কারখানায় অভিযান, বিপুল পরিমাণ নকল শলাকা ও তামাক জব্দ ডিমলায় পরিদর্শনে এসে ভেঙে পড়ল ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন এমপি জামালগঞ্জে কারিতাস বাংলাদেশ এর উদ্যোগে ত্রৈমাসিক ফেডারেশন ও লিংকেজ সভা অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

সন্ধ্যা থেকে কমতে পারে লোডশেডিং, সংকট কাটাতে সব বিকল্পে কাজ: প্রতিমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • সময়: ০৫:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২ Time View

দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যার দিক থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। একই সঙ্গে বিগত সরকারের ভুল নীতির কারণে বর্তমান সরকার সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট হলেও পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে সব বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন প্রতিবছর প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট করে কমছে।

এদিকে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সামিটের টার্মিনালে কার্গো খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে এক্সিলারেট টার্মিনালও বর্তমানে আংশিক সক্ষমতায় চলছে। পূর্ণ সক্ষমতায় নিতে হলে প্রায় ৭২ ঘণ্টা টার্মিনালটি বন্ধ রাখতে হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে—এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হবে এবং তখন গ্যাস সরবরাহও স্বাভাবিক হওয়ার আশা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গ্যাস সরবরাহ পর্যাপ্ত না হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও সংকট তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি কৌশল নেওয়া হয়েছে, যা মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে রাস্তা আটকে ইট-বালি রাখায় চার ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনা চলছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং একটি প্রতিনিধি দল দেশটিতে কাজ করছে। সেখান থেকে অন্তত একটি কার্গো এলএনজি পাওয়ার আশা করছে সরকার। এ ছাড়া ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বারের কাছেও এলএনজি সংগ্রহে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং হাতে থাকা সব বিকল্প নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাতারাতি এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোরও ঘাটতি রয়েছে। নতুন এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) চালু করতে সাধারণত ৩০ থেকে ৩৬ মাস সময় লাগতে পারে। তবে সরকার দুই বছরের কম সময়ে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

সরকার তৃতীয় ও চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপনের পাশাপাশি মাতারবাড়ীতে ল্যান্ডবেসড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

গত ২১ জুলাই একটি এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের পর দৈনিক প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এতে সারাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়। ১৭ দিন পর টার্মিনালটি আংশিকভাবে সচল হলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে আংশিকভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

এর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদনও কমছে। এফএসআরইউ বন্ধ হওয়ার পর গত ১৭ দিনে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন আরও প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট কমেছে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় লোডশেডিং পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চাকরির প্রলোভনে তরুণীদের আটকে রাখার অভিযোগ, দম্পতিসহ গ্রেপ্তার ৫

সন্ধ্যা থেকে কমতে পারে লোডশেডিং, সংকট কাটাতে সব বিকল্পে কাজ: প্রতিমন্ত্রী

সময়: ০৫:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যার দিক থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। একই সঙ্গে বিগত সরকারের ভুল নীতির কারণে বর্তমান সরকার সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট হলেও পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে সব বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন প্রতিবছর প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট করে কমছে।

এদিকে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সামিটের টার্মিনালে কার্গো খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে এক্সিলারেট টার্মিনালও বর্তমানে আংশিক সক্ষমতায় চলছে। পূর্ণ সক্ষমতায় নিতে হলে প্রায় ৭২ ঘণ্টা টার্মিনালটি বন্ধ রাখতে হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে—এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হবে এবং তখন গ্যাস সরবরাহও স্বাভাবিক হওয়ার আশা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গ্যাস সরবরাহ পর্যাপ্ত না হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও সংকট তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি কৌশল নেওয়া হয়েছে, যা মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  ম্যানেজিং কমিটিতে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়নি, বহাল এনটিআরসিএর নিয়ম

সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনা চলছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং একটি প্রতিনিধি দল দেশটিতে কাজ করছে। সেখান থেকে অন্তত একটি কার্গো এলএনজি পাওয়ার আশা করছে সরকার। এ ছাড়া ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বারের কাছেও এলএনজি সংগ্রহে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং হাতে থাকা সব বিকল্প নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাতারাতি এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোরও ঘাটতি রয়েছে। নতুন এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) চালু করতে সাধারণত ৩০ থেকে ৩৬ মাস সময় লাগতে পারে। তবে সরকার দুই বছরের কম সময়ে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

সরকার তৃতীয় ও চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপনের পাশাপাশি মাতারবাড়ীতে ল্যান্ডবেসড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

গত ২১ জুলাই একটি এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের পর দৈনিক প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এতে সারাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়। ১৭ দিন পর টার্মিনালটি আংশিকভাবে সচল হলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে আংশিকভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

এর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদনও কমছে। এফএসআরইউ বন্ধ হওয়ার পর গত ১৭ দিনে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন আরও প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট কমেছে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় লোডশেডিং পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।