Dhaka ০১:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
মানবতার বাতিঘর ‘আল-মারকাজুল ইসলামী বাংলাদেশ’: শিক্ষা ও চিকিৎসায় অনন্য মানবিক পথচলা ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহকে নিয়ে হুমকির অভিযোগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ নরসিংদীর শিবপুরে পূজা উদযাপন পরিষদ এর উদ্যোগে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা বুড়িচংয়ে ভারতীয় নাগরিকসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক ৩৬ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার উদ্ধার ভেড়ামারার ১কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক চিটাগাং চেম্বারে গঠিত হচ্ছে ৫৭টি সাব কমিটি বগুড়ার চেলোপাড়া রেল সেতুতে বড় পরিবর্তন, হচ্ছে নতুন ওয়াকওয়ে ও গার্ডার সংস্কার! নরসিংদী জেলা কারাগারের নির্মাণ কাজ না করেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ১৫ কোটি টাকা বিল উত্তোলনের অভিযোগ সীমান্ত পাহাড়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরিতে বিজিবি,  সাপাহারে শুরু হলো মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

সীমান্ত পাহাড়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরিতে বিজিবি,  সাপাহারে শুরু হলো মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:০১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০ Time View

হারুনুর রশিদ, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

 

সীমান্তবর্তী এলাকার তরুণ ও যুবসমাজকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে তাদের দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এক প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ কমানোর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে নওগাঁয় শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় ১৬ বিজিবির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আইহাই ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সীমান্ত টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার’-এর যাত্রা শুরু হয়। একই সাথে সেন্টারটির প্রথম ব্যাচের তরুণদের মাসব্যাপী নিবিড় কারিগরি প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম পিএসসি। তিনি ফিতা কেটে এ বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সীমান্ত অঞ্চলের অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা ও বেকারত্বই অনেক সময় স্থানীয় যুবসমাজকে বিভিন্ন সীমান্ত অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়। এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে বিজিবি কেবল সীমান্ত সুরক্ষাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে স্থানীয় জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রথম ব্যাচে সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামের ৩০ জন সম্ভাবনাময় যুবককে বাছাই করে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।

মাসব্যাপী এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের আধুনিক মোবাইল সার্ভিসিং, মোবাইল ডিভাইস অপারেটিং এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যবহারিক শিক্ষা প্রদান করা হবে। কেবল কারিগরি দক্ষতাই নয়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরা যেন ভবিষ্যতে স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন—সে লক্ষ্যে একজন সফল যুব উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও বাস্তবভিত্তিক ব্যবসায়িক জ্ঞানও দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, “সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে সেখানকার যুবসমাজকে সঠিক পথে চালিত করা অত্যন্ত জরুরি। বেকারত্ব দূর করে তরুণদের হাতের কাজ শেখানো এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পারলে তারা আর কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হবে না। বিজিবির এই ধারাবাহিক উদ্যোগ কেবল সীমান্তকে অপরাধমুক্ত করবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এক নতুন গতি সঞ্চার করবে।” তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে দক্ষতা অর্জন করে তরুণরা স্বাবলম্বী হবেন এবং নিজেদের এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন। বিজিবির এ ধরনের জনকল্যাণমূলক সামাজিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুনঃ  নড়াইলের মুলিয়ায় এক পা-তেই জীবন সংসার গোপী বিশ্বাস'র প্রতিবন্ধী জীবনটাই যেন অভিশাপ

আইহাই ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী আয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিজিবির দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, আইহাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউজ্জামান টিটু এবং ১৬ বিজিবির সহকারী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার মিলটন আলীসহ এলাকা ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

উপস্থিত অতিথিরা বিজিবির এ কর্মমুখী ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা মনে করেন, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি তরুণদের মাঝে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার এই উদ্যোগ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। হস্তান্তরিত এই কারিগরি শিক্ষা প্রান্তিক তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং সীমান্তজুড়ে একটি অপরাধমুক্ত, সচেতন ও স্বাবলম্বী সমাজ গঠনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

মানবতার বাতিঘর ‘আল-মারকাজুল ইসলামী বাংলাদেশ’: শিক্ষা ও চিকিৎসায় অনন্য মানবিক পথচলা

সীমান্ত পাহাড়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরিতে বিজিবি,  সাপাহারে শুরু হলো মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ

সময়: ০৮:০১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

হারুনুর রশিদ, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

 

সীমান্তবর্তী এলাকার তরুণ ও যুবসমাজকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে তাদের দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এক প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ কমানোর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে নওগাঁয় শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় ১৬ বিজিবির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আইহাই ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সীমান্ত টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার’-এর যাত্রা শুরু হয়। একই সাথে সেন্টারটির প্রথম ব্যাচের তরুণদের মাসব্যাপী নিবিড় কারিগরি প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম পিএসসি। তিনি ফিতা কেটে এ বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সীমান্ত অঞ্চলের অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা ও বেকারত্বই অনেক সময় স্থানীয় যুবসমাজকে বিভিন্ন সীমান্ত অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়। এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে বিজিবি কেবল সীমান্ত সুরক্ষাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে স্থানীয় জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রথম ব্যাচে সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামের ৩০ জন সম্ভাবনাময় যুবককে বাছাই করে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।

মাসব্যাপী এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের আধুনিক মোবাইল সার্ভিসিং, মোবাইল ডিভাইস অপারেটিং এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যবহারিক শিক্ষা প্রদান করা হবে। কেবল কারিগরি দক্ষতাই নয়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরা যেন ভবিষ্যতে স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন—সে লক্ষ্যে একজন সফল যুব উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও বাস্তবভিত্তিক ব্যবসায়িক জ্ঞানও দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, “সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে সেখানকার যুবসমাজকে সঠিক পথে চালিত করা অত্যন্ত জরুরি। বেকারত্ব দূর করে তরুণদের হাতের কাজ শেখানো এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পারলে তারা আর কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হবে না। বিজিবির এই ধারাবাহিক উদ্যোগ কেবল সীমান্তকে অপরাধমুক্ত করবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এক নতুন গতি সঞ্চার করবে।” তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে দক্ষতা অর্জন করে তরুণরা স্বাবলম্বী হবেন এবং নিজেদের এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন। বিজিবির এ ধরনের জনকল্যাণমূলক সামাজিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুনঃ  চন্দনাইশে উত্তর বরকল এলাকাবাসীর উদ্যোগে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আইহাই ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী আয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিজিবির দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, আইহাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউজ্জামান টিটু এবং ১৬ বিজিবির সহকারী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার মিলটন আলীসহ এলাকা ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

উপস্থিত অতিথিরা বিজিবির এ কর্মমুখী ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা মনে করেন, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি তরুণদের মাঝে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার এই উদ্যোগ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। হস্তান্তরিত এই কারিগরি শিক্ষা প্রান্তিক তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং সীমান্তজুড়ে একটি অপরাধমুক্ত, সচেতন ও স্বাবলম্বী সমাজ গঠনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।