Dhaka ১১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ঝিনাইদহে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০ নরসিংদীতে হানি ট্র্যাপ চক্রের ৪ সদস্য ও কথিত কোর্ট কমিশনারসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ৩৮ প্রাণী চিকিৎসা সেবায় বিশেষ অবদান রাখায় মরহুম কাজী মোফাজ্জল হোসেনকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান রামপালে ওয়ার্ল্ড ভিশনের বার্ষিক যুব সমাবেশ ও কুইজ অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট, কারণ যা জানা গেল সাগরিকা ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা উধাওয়ের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি পাইকগাছায় ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ও চোখের ছানি অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত বিশ্বম্ভরপুরে ৩০২ বোতল ইস্কাফ সিরাপ জব্দ, আটক ২ নারী টঙ্গীতে দেশীয় অস্ত্রসহ দুই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

অপসাংবাদিকতার ভিড়ে বিবেকের সংকট: সাংবাদিকতার আড়ালের অন্ধকার—আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু নির্মম সত্য

[গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি | মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল]


সাংবাদিকতা কোনো সাধারণ চাকরি নয়, এটিকে বলা হতো মহান পেশা, আর সাংবাদিকদের আখ্যা দেওয়া হতো জাতির বিবেক। অবহেলিত, নিপীড়িত আর সাধারণ মানুষের শেষ আশার আশ্রয়স্থল ছিল গণমাধ্যম। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, দুর্নীতির থলথলে অন্ধকার থেকে সত্য উপড়ে আনা এবং অন্যায়ের মুখে মুখ তুলে দাঁড়ানোই ছিল এই পেশার মূল ধারার সাংবাদিকতা।

কিন্তু আজ দীর্ঘ ১১ বছর গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে মাঠে কাজ করার পর, প্রতিদিন নিজের শেখার ও অভিজ্ঞতা অর্জনের যাত্রায় দাঁড়িয়ে একটি প্রশ্ন আমাকে প্রতিনিয়ত কুঁড়ে কুঁড়ে খায়—আজ আমরা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি?

আজ কোনো তথ্য সংগ্রহে গিয়ে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জা হয়, পেটের ভেতর একধরনের অপরাধবোধ মোচড় দিয়ে ওঠে। যে পরিচয় একসময় আত্মমর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক ছিল, তা আজ সমাজের একাংশের অপকর্মের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ।

দীর্ঘদিনের পথচলায় অনেক বিপদের মুখোমুখি হয়েছি, ত্যাগের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, কাছের মানুষের প্রতারণার শিকার হয়েছি, তবুও নিজের অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে কিছু সাংবাদিক মহলের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গাটি ধ্বংস হতে দেখাটা অত্যন্ত কষ্টের।

আজ কেন এই পেশা সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও ভরসা হারিয়েছে? আমার পেশাগত অভিজ্ঞতায় যে নির্মম বাস্তবতাগুলো দেখেছি, তা তুলে ধরা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে।

টাকায় কেনাবেচা হওয়া পরিচয়পত্র

এখন সাংবাদিক হতে গেলে কোনো জ্ঞান, যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। পকেটে ২ হাজার, ৫ হাজার বা ১০ হাজার টাকা থাকলেই জুটছে আইডি কার্ড। আবার অনেক ক্ষেত্রে লবিং, স্বজনপ্রীতি বা খাস লোক হলেও কার্ড মিলছে। ফলে প্রতিটি উপজেলাতেই আজ দু শয়ের বেশি সাংবাদিক পরিচয়ধারী ঘুরে বেড়াচ্ছে।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও ট্রাফিক এড়ানোর ঢাল

অনেকে সাংবাদিক হচ্ছেন শুধু ক্ষমতার দাপট দেখাতে, গাড়িতে স্টিকার লাগিয়ে রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে, কিংবা নিজেদের অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে।

অপরাধ ও মাদকের ঢাল হিসেবে পোর্টাল

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নিজস্ব অনলাইন পোর্টাল বা পত্রিকার আড়ালে পদ-পদবি ব্যবহার করে মাদকের চোরাচালান বা অন্যান্য অপকর্ম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিং

কোনো নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের কার্ড গলায় ঝুলিয়ে সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, থানা, রেজিস্ট্রি অফিস, বেসরকারি হাসপাতাল বা সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে ভয় দেখিয়ে জিম্মি করা এবং টাকা হাতিয়ে নেওয়া আজ নিত্যদিনের ঘটনা।

দালালি ও মধ্যস্থতা

প্রশাসনিক ক্ষেত্র, থানা, পৌরসভা, রেজিস্ট্রি অফিস কিংবা হাট-বাজারের ইজারা—সব জায়গায় একশ্রেণির সাংবাদিক নামধারীকে দালালি করতে দেখা যায়।

কপি-পেস্ট ও তথ্য চুরি

সাংবাদিকতার ন্যূনতম মৌলিক বিষয় না জেনে, কোনো প্রতিবেদন লিখতে না পেরে অন্যের কষ্টার্জিত তথ্য ও সংবাদ হুবহু চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার প্রবণতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

সত্যকে গোপন করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এবং নিজেদের বিশেষ কোনো কায়েমি স্বার্থ হাসিল করতে অনেকেই পেশাটিকে হাতিয়ার বানায়।

রাজনৈতিক দালালি

কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিকৃষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং তাদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার জন্য অনেকে সাংবাদিক সেজে থাকে।

গুরু বা সিনিয়রদের নৈতিক পতন

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, পেশার কিছু অভিজ্ঞ ও সিনিয়র মুখ, যাদের জুনিয়রদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা ছিল, তারা মাসোহারা, রঙিন খাম এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের বিনিময়ে সত্যকে বিক্রি করে দিচ্ছেন। জুনিয়রদের দিয়ে সত্য ঘটনা খোঁজানোর পর মাস্টারমাইন্ডের মতো তা অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়া বা ‘মিউচুয়াল’ করার নজিরও কম নয়।

এদেরই অপকর্মের বলি হচ্ছে মূলধারার সৎ ও পরিশ্রমী সাংবাদিকতা। সাধারণ মানুষ আজ সাংবাদিক পরিচয় শুনলেই সংশয় প্রকাশ করে, আস্থা হারিয়ে ফেলে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করার যে ক্ষেত্রটি ছিল, তা আজ নিজেরাই অন্যায়ের সহযোগী হয়ে ওঠার অভিযোগের মুখোমুখি।

আমি বিশ্বাস করি, পচন যতই গভীর হোক, সত্যকে একদম মুছে ফেলা যায় না। এতসব আবর্জনার মাঝেও যারা নিজেদের সততা, ত্যাগ ও নীতি ধরে রেখে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন, সেই স্বল্পসংখ্যক মূলধারার সাংবাদিকদের বাঁচিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে এই অপসাংবাদিকতা এবং ভুঁইফোড় পরিচয়ধারীদের বিরুদ্ধে যদি ভেতর থেকেই প্রতিরোধ গড়ে না তোলা যায়, তবে জাতির এই বিবেক চিরতরে বধির হয়ে যাবে।

এখনই সময় সাংবাদিকতার হারানো গৌরব ও মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ভুয়া ও স্বার্থান্বেষী মহলকে চিহ্নিত করে এই পেশাকে কলঙ্কমুক্ত করার।

সাংবাদিকতা জগতের সম্মানিত প্রবীণ ও সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ, অভিজ্ঞ অভিভাবক মহল এবং পেশাদার সহকর্মীদের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পেশার মান রক্ষায় ও দিকনির্দেশনায় আপনারা বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন বলে আশা করি। আমার মাঠপর্যায়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে সত্য তুলে ধরার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় কোনো ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

 

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ঝিনাইদহে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

অপসাংবাদিকতার ভিড়ে বিবেকের সংকট: সাংবাদিকতার আড়ালের অন্ধকার—আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু নির্মম সত্য

সময়: ১০:১১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

[গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি | মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল]


সাংবাদিকতা কোনো সাধারণ চাকরি নয়, এটিকে বলা হতো মহান পেশা, আর সাংবাদিকদের আখ্যা দেওয়া হতো জাতির বিবেক। অবহেলিত, নিপীড়িত আর সাধারণ মানুষের শেষ আশার আশ্রয়স্থল ছিল গণমাধ্যম। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, দুর্নীতির থলথলে অন্ধকার থেকে সত্য উপড়ে আনা এবং অন্যায়ের মুখে মুখ তুলে দাঁড়ানোই ছিল এই পেশার মূল ধারার সাংবাদিকতা।

কিন্তু আজ দীর্ঘ ১১ বছর গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে মাঠে কাজ করার পর, প্রতিদিন নিজের শেখার ও অভিজ্ঞতা অর্জনের যাত্রায় দাঁড়িয়ে একটি প্রশ্ন আমাকে প্রতিনিয়ত কুঁড়ে কুঁড়ে খায়—আজ আমরা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি?

আজ কোনো তথ্য সংগ্রহে গিয়ে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জা হয়, পেটের ভেতর একধরনের অপরাধবোধ মোচড় দিয়ে ওঠে। যে পরিচয় একসময় আত্মমর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক ছিল, তা আজ সমাজের একাংশের অপকর্মের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ।

দীর্ঘদিনের পথচলায় অনেক বিপদের মুখোমুখি হয়েছি, ত্যাগের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, কাছের মানুষের প্রতারণার শিকার হয়েছি, তবুও নিজের অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে কিছু সাংবাদিক মহলের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গাটি ধ্বংস হতে দেখাটা অত্যন্ত কষ্টের।

আজ কেন এই পেশা সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও ভরসা হারিয়েছে? আমার পেশাগত অভিজ্ঞতায় যে নির্মম বাস্তবতাগুলো দেখেছি, তা তুলে ধরা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে।

টাকায় কেনাবেচা হওয়া পরিচয়পত্র

এখন সাংবাদিক হতে গেলে কোনো জ্ঞান, যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। পকেটে ২ হাজার, ৫ হাজার বা ১০ হাজার টাকা থাকলেই জুটছে আইডি কার্ড। আবার অনেক ক্ষেত্রে লবিং, স্বজনপ্রীতি বা খাস লোক হলেও কার্ড মিলছে। ফলে প্রতিটি উপজেলাতেই আজ দু শয়ের বেশি সাংবাদিক পরিচয়ধারী ঘুরে বেড়াচ্ছে।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও ট্রাফিক এড়ানোর ঢাল

অনেকে সাংবাদিক হচ্ছেন শুধু ক্ষমতার দাপট দেখাতে, গাড়িতে স্টিকার লাগিয়ে রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে, কিংবা নিজেদের অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে।

অপরাধ ও মাদকের ঢাল হিসেবে পোর্টাল

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নিজস্ব অনলাইন পোর্টাল বা পত্রিকার আড়ালে পদ-পদবি ব্যবহার করে মাদকের চোরাচালান বা অন্যান্য অপকর্ম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিং

কোনো নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের কার্ড গলায় ঝুলিয়ে সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, থানা, রেজিস্ট্রি অফিস, বেসরকারি হাসপাতাল বা সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে ভয় দেখিয়ে জিম্মি করা এবং টাকা হাতিয়ে নেওয়া আজ নিত্যদিনের ঘটনা।

দালালি ও মধ্যস্থতা

প্রশাসনিক ক্ষেত্র, থানা, পৌরসভা, রেজিস্ট্রি অফিস কিংবা হাট-বাজারের ইজারা—সব জায়গায় একশ্রেণির সাংবাদিক নামধারীকে দালালি করতে দেখা যায়।

কপি-পেস্ট ও তথ্য চুরি

সাংবাদিকতার ন্যূনতম মৌলিক বিষয় না জেনে, কোনো প্রতিবেদন লিখতে না পেরে অন্যের কষ্টার্জিত তথ্য ও সংবাদ হুবহু চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার প্রবণতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

সত্যকে গোপন করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এবং নিজেদের বিশেষ কোনো কায়েমি স্বার্থ হাসিল করতে অনেকেই পেশাটিকে হাতিয়ার বানায়।

রাজনৈতিক দালালি

কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিকৃষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং তাদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার জন্য অনেকে সাংবাদিক সেজে থাকে।

গুরু বা সিনিয়রদের নৈতিক পতন

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, পেশার কিছু অভিজ্ঞ ও সিনিয়র মুখ, যাদের জুনিয়রদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা ছিল, তারা মাসোহারা, রঙিন খাম এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের বিনিময়ে সত্যকে বিক্রি করে দিচ্ছেন। জুনিয়রদের দিয়ে সত্য ঘটনা খোঁজানোর পর মাস্টারমাইন্ডের মতো তা অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়া বা ‘মিউচুয়াল’ করার নজিরও কম নয়।

এদেরই অপকর্মের বলি হচ্ছে মূলধারার সৎ ও পরিশ্রমী সাংবাদিকতা। সাধারণ মানুষ আজ সাংবাদিক পরিচয় শুনলেই সংশয় প্রকাশ করে, আস্থা হারিয়ে ফেলে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করার যে ক্ষেত্রটি ছিল, তা আজ নিজেরাই অন্যায়ের সহযোগী হয়ে ওঠার অভিযোগের মুখোমুখি।

আমি বিশ্বাস করি, পচন যতই গভীর হোক, সত্যকে একদম মুছে ফেলা যায় না। এতসব আবর্জনার মাঝেও যারা নিজেদের সততা, ত্যাগ ও নীতি ধরে রেখে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন, সেই স্বল্পসংখ্যক মূলধারার সাংবাদিকদের বাঁচিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে এই অপসাংবাদিকতা এবং ভুঁইফোড় পরিচয়ধারীদের বিরুদ্ধে যদি ভেতর থেকেই প্রতিরোধ গড়ে না তোলা যায়, তবে জাতির এই বিবেক চিরতরে বধির হয়ে যাবে।

এখনই সময় সাংবাদিকতার হারানো গৌরব ও মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ভুয়া ও স্বার্থান্বেষী মহলকে চিহ্নিত করে এই পেশাকে কলঙ্কমুক্ত করার।

সাংবাদিকতা জগতের সম্মানিত প্রবীণ ও সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ, অভিজ্ঞ অভিভাবক মহল এবং পেশাদার সহকর্মীদের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পেশার মান রক্ষায় ও দিকনির্দেশনায় আপনারা বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন বলে আশা করি। আমার মাঠপর্যায়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে সত্য তুলে ধরার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় কোনো ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।