Dhaka ১২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বগুড়ায় ১২০০ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার বকশীগঞ্জে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া গাইবান্ধায় এসপির বাংলোতে পুলিশ কনস্টেবলের আ*ত্ম*হত্যা বোয়ালমারীতে গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গার গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ কুড়িগ্রামে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত মধ্যনগরে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রূপনগর গ্রামবাসীর র‍্যালি ও দোয়া মাহফিল ভোলাহাটে গভীর রাতে ডিপের তিন ট্রান্সফর্মার চুরি সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ীদের নির্ভয়ে ব্যবসা করার আহ্বান এমপি নূরুলের দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মডেল মসজিদ ও বেইলি ব্রিজের উদ্বোধন কালিয়াকৈরে মহাসমারোহে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত, বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ওজনে কম দেওয়ায় ধ্বংস হয়েছিল যে জাতি

ওজনে কম দেওয়ায় ধ্বংস হয়েছিল যে জাতি
মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী

পারস্যের অন্তর্গত মাদইয়ান শহর অবস্থিত। এক সময় এই শহরে বহু মানুষের বসাবস ছিল, এই শহরের মানুষ খু্ব খারাপ ও অত্যাচারী ছিল। তাদের প্রধান অপরাধ ছিল ওজনে কম দেওয়া, তারা জিনিসের পুরা মূল্য আদায় করতো কিন্তু ওজনে কম দিতো। তাছাড়া মাদইয়ান জাতির আরো বহু অপরাধ ছিল, তারা জাল নোট তৈরী করে সমস্যা সৃষ্টি করতো। তারা চুরি ডাকাতি ও লুটপাট করতো। তারা দেব দেবি ও মুক্তির পূজা করতো।

মাদইয়ান জাতিকে হেদায়াত করার জন্য আল্লাহ তায়ালা একজন নবী পাঠিয়েছেন, তিনি হযরত শোয়ায়েব (আ:)। তিনি হযরত হুদ (আ:) এর বংশধর, কেউ বলেছেন হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ (আ:)- এর পুত্র মাদইয়ান এর বংশধর। হযরত শোয়ায়েব (আ:) এর ভাষা ছিল খুব সুন্দর ও বহু ভাষা তিনি কথা বলতেন, তার কণ্ঠ ছিল উচ্চ আওয়াজ, তিনি বিশ্বের সেরা বক্তা ছিলেন।

বিভিন্ন অপরাধী ও অত্যাচারী মাদইয়ান জাতিকে নবী হযরত শোয়াইব (আ:) আল্লাহর ধর্ম প্রচার করতে থাকেন এবং অনেক উপদেশ দিতে থাকেন। নবী হযরত শোয়ায়েব (আ:) তাদের বিভিন্ন অপরাধ দেখলেন। তখন মাদইয়ান জাতিকে নবী শোয়ায়েব (আ:) বললেন, তোমরা জিনিসের যে পরিমাণ মূল্য আদায় কর সেই পরিমাণ জিনিস দিবে, তোমরা যদি ওজনে কম দাও তাহলে তোমাদের উপর আল্লাহর গজব আসবে।

এই উপদেশ শুনে কিছু লোক আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছেন, আর বাকীরা ঈমান আনয়ন করেন নাই, তারা পথভ্রষ্ট ও খারাপ পথে রয়েছেন। মহা গ্রন্থ আল কুরআনে এসেছে, তোমরা মাপে পূর্ণ মাত্রায় দিবে; যারা মাপে কমতি করে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়োনা। এবং তোমরা ওজন করবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়। লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিবেনা এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে ফিরনা। এবং তোমরা ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। (সূরা আশ শুআরা, আয়াত ১৮১-১৮৪)

আরও পড়ুনঃ  শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাঙ্গামাটি নবগঠিত পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ

নবী হযরত শোয়ায়েব (আ:) এর উপদেশ তারা কোন ভাবে শুনতে চায় না ও মানতে চায় না, তারা বলেন হে শোয়ায়েব তোমার কথা কেন আমরা শুনবো তুমি আমাদের রাজা বাদশা নাকি। তখন অবাধ্য মাদইয়ান জাতিকে নবী হয়রত শোয়ায়েব (আ:) বলেন, নূহ (আ:) এর জাতি, কওমে লুত, আদ জাদি ও সামুদ জাতির ঘটনা গুলো তোমরা স্বরণ কর। অন্যায় অপরাধ করার কারণে আল্লাহ তাদের কে ভয়াবহ গজব দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিল। তোমরা যত অন্যায় অপরাধ করেছো এখন ও সময় আছে তোমরা তওবা করে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে খাঁটি ধর্ম গ্রহন করো।

হযরত শোয়ায়েব (আ:) এর কথাগুলো শুনে তারা তাঁকে ভয় দেখিয়ে বলতে লাগলেন। তোমাকে আমরা বার বার নিষেধ করেছি, এ ধরনের বাজে কথাগুলো আমাদের কাছে বলতে আসবে না, কিন্তু তুমি কিছুতেই বিরত হচ্ছো না আবার তোমাকে সাবধান করে দিলাম, এই রকম কথা বললে তোমার অকালে মৃত্যু হতে পারে। তাদের এ ধরনের কথা শুনে হযরত শোয়ায়েব (আ:) নিরাশ হয়ে পড়লেন।

এমন সময় ফেরেশতা জিব্রাইল তাশরীফ এনে বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনার অবাধ্য কওমের প্রতি আল্লাহ তায়ালা অচিরেই গজব নাযিল করবেন। আপনি আপনার অনুসারী ও মুমিন লোকজন দের নিয়ে এদেশ হতে অন্যদেশে চলে যান। যেহেতু আর অল্প সময় আছে । জিব্রাইলের পরামর্শ শুনে হযরত শোয়ায়েব (আ:) তাঁর পরিবার ও একহাজার সাতশত মুমিন বান্দা নিয়ে দেশ ত্যাগ করলেন।

মাদইয়ান জাতিরা নবীকে বললেন, তোমরা আমাদের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছো? জবাবে হযরত শোয়ায়েব (আ:) বললেন আমরা পালাচ্ছি না বরং আল্লাহর নির্দেশেই দেশত্যাগ করছি। কেননা এদেশে আল্লাহর গজব আসবে। এই কথা শুনে তারা হাসাহাসি ও বলাবলি করতে লাগল যে, দেখ! সে এখনও আমাদের কে ফাঁকা গজবের ভয় দেখাচ্ছে ।

আরও পড়ুনঃ  পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির উদ্যোগে বেকার যুবকদের ‘ইলেকট্রিক হাউস ওয়্যারিং’ প্রশিক্ষণ শুরু

হযরত শোয়ায়েব (আ:) তাদের কথার কোন জবাব না দিয়ে তাদের কে নিয়ে চলে গেলেন, মাদইয়ান শহর থেকে অনেক দূরবর্তী একটি দেশে। হযরত শোয়ায়েব (আ:) যেদিন দেশত্যাগ করলেন করলেন সেদিন দিনের শেষে রাত কেটে যাওয়ার পরে ভোরেই আল্লাহর গজব এসে উপস্থিত হল। দোযখ হতে আগুনের কিছু উত্তাপ ফেরেশতাগণ ঐ মাদইয়ান শহরের উপরে পৌঁছে দিলেন। তাতে সারাদেশ আগুনের মত উষ্ণ হয়ে গেল। ঘর বাড়ী পথ ঘাট সব কিছু আগুনের উত্তাপে মানুষ দাঁড়ানোর অযোগ্য হয়ে পড়ল। লোকজন ঘরে টিকতে না পেরে দৌড়ে মাঠে গেল।

তখন আসমান থেকে অগ্নি বৃষ্টি আরম্ব হল, এমন অবস্থা ফেরেশতা জিব্রাঈল এসে এত জোরে হাঁক দিলেন যে, সে হাঁকের গর্জনে লোকজন কেঁপে উঠে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল এবং সঙ্গে সঙ্গে মারা গেল।

বর্তমানে আমাদের দেশের এবং বিদেশের মানুষেরা অবৈধ ও হারাম ব্যবসা করতেছে। ব্যবসায়ীরা ওজনে কম দিচ্ছে ও বহু রকমের ঠকাচ্ছে। সিন্ডিকেট আর নকল মাল দিচ্ছেন কাষ্টমারকে। বাজারে গেলে দেখা যায় মাছ ও গোস্ত ব্যবসায়ী ওজনে কম দিচ্ছে। অনেক দোকানদার মানুষদের কে নকল মাল দিচ্ছে ও মাপে কম দিচ্ছে, বহু রকমের জালিয়াতী তারা করতেছে, কোন জবাবদিহিতা নাই। এই সব হারাম ব্যবসায়ীরা জাহান্নামর আগুনে জ্বলবে ও তাদের অবস্থা খুব ভয়াবহ হবে।

আল্লাহ বলেন, মন্দ পরিণাম তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের নিকট হতে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে। এবং যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়। তারা কি চিন্তা করেনা যে, তারা পুনরুত্থিত হবে। সেই মহান দিনে। যে দিন দাঁড়াবে সমস্ত মানুষ জগতসমূহের রবের সম্মুখে। (সূরা আত মুত্বাফ্ফিফীন, আয়াত১-৬)

আসলে আমাদেরদের কে এই মাদইয়ান জাতির ধ্বংস হওয়ার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে৷ আসুন আমরা আল্লাহকে ভয় করবো ও ওজনে কম দিবো না।

আরও পড়ুনঃ  সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ীদের নির্ভয়ে ব্যবসা করার আহ্বান এমপি নূরুলের

লেখকঃ আলেম, গবেষক।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

বগুড়ায় ১২০০ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

ওজনে কম দেওয়ায় ধ্বংস হয়েছিল যে জাতি

সময়: ১১:১১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

ওজনে কম দেওয়ায় ধ্বংস হয়েছিল যে জাতি
মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী

পারস্যের অন্তর্গত মাদইয়ান শহর অবস্থিত। এক সময় এই শহরে বহু মানুষের বসাবস ছিল, এই শহরের মানুষ খু্ব খারাপ ও অত্যাচারী ছিল। তাদের প্রধান অপরাধ ছিল ওজনে কম দেওয়া, তারা জিনিসের পুরা মূল্য আদায় করতো কিন্তু ওজনে কম দিতো। তাছাড়া মাদইয়ান জাতির আরো বহু অপরাধ ছিল, তারা জাল নোট তৈরী করে সমস্যা সৃষ্টি করতো। তারা চুরি ডাকাতি ও লুটপাট করতো। তারা দেব দেবি ও মুক্তির পূজা করতো।

মাদইয়ান জাতিকে হেদায়াত করার জন্য আল্লাহ তায়ালা একজন নবী পাঠিয়েছেন, তিনি হযরত শোয়ায়েব (আ:)। তিনি হযরত হুদ (আ:) এর বংশধর, কেউ বলেছেন হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ (আ:)- এর পুত্র মাদইয়ান এর বংশধর। হযরত শোয়ায়েব (আ:) এর ভাষা ছিল খুব সুন্দর ও বহু ভাষা তিনি কথা বলতেন, তার কণ্ঠ ছিল উচ্চ আওয়াজ, তিনি বিশ্বের সেরা বক্তা ছিলেন।

বিভিন্ন অপরাধী ও অত্যাচারী মাদইয়ান জাতিকে নবী হযরত শোয়াইব (আ:) আল্লাহর ধর্ম প্রচার করতে থাকেন এবং অনেক উপদেশ দিতে থাকেন। নবী হযরত শোয়ায়েব (আ:) তাদের বিভিন্ন অপরাধ দেখলেন। তখন মাদইয়ান জাতিকে নবী শোয়ায়েব (আ:) বললেন, তোমরা জিনিসের যে পরিমাণ মূল্য আদায় কর সেই পরিমাণ জিনিস দিবে, তোমরা যদি ওজনে কম দাও তাহলে তোমাদের উপর আল্লাহর গজব আসবে।

এই উপদেশ শুনে কিছু লোক আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছেন, আর বাকীরা ঈমান আনয়ন করেন নাই, তারা পথভ্রষ্ট ও খারাপ পথে রয়েছেন। মহা গ্রন্থ আল কুরআনে এসেছে, তোমরা মাপে পূর্ণ মাত্রায় দিবে; যারা মাপে কমতি করে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়োনা। এবং তোমরা ওজন করবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়। লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিবেনা এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে ফিরনা। এবং তোমরা ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। (সূরা আশ শুআরা, আয়াত ১৮১-১৮৪)

আরও পড়ুনঃ  এআই ব্যবহারে আরও দক্ষ হবে সরকার, সহজ হবে নাগরিক সেবা

নবী হযরত শোয়ায়েব (আ:) এর উপদেশ তারা কোন ভাবে শুনতে চায় না ও মানতে চায় না, তারা বলেন হে শোয়ায়েব তোমার কথা কেন আমরা শুনবো তুমি আমাদের রাজা বাদশা নাকি। তখন অবাধ্য মাদইয়ান জাতিকে নবী হয়রত শোয়ায়েব (আ:) বলেন, নূহ (আ:) এর জাতি, কওমে লুত, আদ জাদি ও সামুদ জাতির ঘটনা গুলো তোমরা স্বরণ কর। অন্যায় অপরাধ করার কারণে আল্লাহ তাদের কে ভয়াবহ গজব দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিল। তোমরা যত অন্যায় অপরাধ করেছো এখন ও সময় আছে তোমরা তওবা করে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে খাঁটি ধর্ম গ্রহন করো।

হযরত শোয়ায়েব (আ:) এর কথাগুলো শুনে তারা তাঁকে ভয় দেখিয়ে বলতে লাগলেন। তোমাকে আমরা বার বার নিষেধ করেছি, এ ধরনের বাজে কথাগুলো আমাদের কাছে বলতে আসবে না, কিন্তু তুমি কিছুতেই বিরত হচ্ছো না আবার তোমাকে সাবধান করে দিলাম, এই রকম কথা বললে তোমার অকালে মৃত্যু হতে পারে। তাদের এ ধরনের কথা শুনে হযরত শোয়ায়েব (আ:) নিরাশ হয়ে পড়লেন।

এমন সময় ফেরেশতা জিব্রাইল তাশরীফ এনে বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনার অবাধ্য কওমের প্রতি আল্লাহ তায়ালা অচিরেই গজব নাযিল করবেন। আপনি আপনার অনুসারী ও মুমিন লোকজন দের নিয়ে এদেশ হতে অন্যদেশে চলে যান। যেহেতু আর অল্প সময় আছে । জিব্রাইলের পরামর্শ শুনে হযরত শোয়ায়েব (আ:) তাঁর পরিবার ও একহাজার সাতশত মুমিন বান্দা নিয়ে দেশ ত্যাগ করলেন।

মাদইয়ান জাতিরা নবীকে বললেন, তোমরা আমাদের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছো? জবাবে হযরত শোয়ায়েব (আ:) বললেন আমরা পালাচ্ছি না বরং আল্লাহর নির্দেশেই দেশত্যাগ করছি। কেননা এদেশে আল্লাহর গজব আসবে। এই কথা শুনে তারা হাসাহাসি ও বলাবলি করতে লাগল যে, দেখ! সে এখনও আমাদের কে ফাঁকা গজবের ভয় দেখাচ্ছে ।

আরও পড়ুনঃ  শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাঙ্গামাটি নবগঠিত পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ

হযরত শোয়ায়েব (আ:) তাদের কথার কোন জবাব না দিয়ে তাদের কে নিয়ে চলে গেলেন, মাদইয়ান শহর থেকে অনেক দূরবর্তী একটি দেশে। হযরত শোয়ায়েব (আ:) যেদিন দেশত্যাগ করলেন করলেন সেদিন দিনের শেষে রাত কেটে যাওয়ার পরে ভোরেই আল্লাহর গজব এসে উপস্থিত হল। দোযখ হতে আগুনের কিছু উত্তাপ ফেরেশতাগণ ঐ মাদইয়ান শহরের উপরে পৌঁছে দিলেন। তাতে সারাদেশ আগুনের মত উষ্ণ হয়ে গেল। ঘর বাড়ী পথ ঘাট সব কিছু আগুনের উত্তাপে মানুষ দাঁড়ানোর অযোগ্য হয়ে পড়ল। লোকজন ঘরে টিকতে না পেরে দৌড়ে মাঠে গেল।

তখন আসমান থেকে অগ্নি বৃষ্টি আরম্ব হল, এমন অবস্থা ফেরেশতা জিব্রাঈল এসে এত জোরে হাঁক দিলেন যে, সে হাঁকের গর্জনে লোকজন কেঁপে উঠে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল এবং সঙ্গে সঙ্গে মারা গেল।

বর্তমানে আমাদের দেশের এবং বিদেশের মানুষেরা অবৈধ ও হারাম ব্যবসা করতেছে। ব্যবসায়ীরা ওজনে কম দিচ্ছে ও বহু রকমের ঠকাচ্ছে। সিন্ডিকেট আর নকল মাল দিচ্ছেন কাষ্টমারকে। বাজারে গেলে দেখা যায় মাছ ও গোস্ত ব্যবসায়ী ওজনে কম দিচ্ছে। অনেক দোকানদার মানুষদের কে নকল মাল দিচ্ছে ও মাপে কম দিচ্ছে, বহু রকমের জালিয়াতী তারা করতেছে, কোন জবাবদিহিতা নাই। এই সব হারাম ব্যবসায়ীরা জাহান্নামর আগুনে জ্বলবে ও তাদের অবস্থা খুব ভয়াবহ হবে।

আল্লাহ বলেন, মন্দ পরিণাম তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের নিকট হতে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে। এবং যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়। তারা কি চিন্তা করেনা যে, তারা পুনরুত্থিত হবে। সেই মহান দিনে। যে দিন দাঁড়াবে সমস্ত মানুষ জগতসমূহের রবের সম্মুখে। (সূরা আত মুত্বাফ্ফিফীন, আয়াত১-৬)

আসলে আমাদেরদের কে এই মাদইয়ান জাতির ধ্বংস হওয়ার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে৷ আসুন আমরা আল্লাহকে ভয় করবো ও ওজনে কম দিবো না।

আরও পড়ুনঃ  ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ৩০ লাখ টাকা প্রয়োজন, দেশবাসী ও প্রবাসীদের কাছে সাহায্যের আকুতি

লেখকঃ আলেম, গবেষক।