মোঃ মুক্তাদির হোসেন.
স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুরের কালীগঞ্জে সৌদি আরবপ্রবাসী মাসুম ভূইয়ার বসতবাড়ির জমি দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা জুয়েল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে প্রবাসীর বড় ভাই আব্দুল হালিম ভূইয়া বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ফুলদী মৌজার বিগত আরএস রেকর্ডে ১৫৩ নম্বর খতিয়ানের ১১টি দাগে ৩২০ শতাংশ সম্পত্তির মধ্যে আট আনা হিস্যায় ১৬০ শতাংশ সম্পত্তি মৃত আব্দুল জব্বারের দুই পুত্র আমিনদ্দিন ভূইয়া ও মেছবা উদ্দিনের নামে ভুলক্রমে রেকর্ডভুক্ত হয়।
পরবর্তীতে আমিনদ্দিন ও মেছবা উদ্দিনের ওয়ারিশরা গত ২২/৬/২০০৪ ইং তারিখে কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ৩৮৬৪ নম্বর নাদাবি দলিলমূলে ৬৪.৫০ শতাংশ সম্পত্তি মূল মালিক নাছির উদ্দিনের পুত্র মনির উদ্দিনের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। পরবর্তীতে মনির উদ্দিন উক্ত সম্পত্তি নিজ নামে নামজারি-জমাভাগ করে ১৮০৭ নম্বর জোত খোলেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তার পুত্র ও কন্যারা উক্ত সম্পত্তি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আমিনদ্দিনের ওয়ারিশ নুরু মিয়া, দিনারা বেগম ও রিনা বেগম স্থানীয় বিএনপি নেতা জুয়েলের সহযোগিতায় গত সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে ওই সম্পত্তি জবরদখলের উদ্দেশ্যে ঘর নির্মাণ শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় প্রবাসী মাসুমের স্ত্রী স্মৃতি, বড় ভাই আব্দুল হালিম ও বোন শান্তা জবরদখলকারীদের বাধা দিলে তারা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আব্দুল হালিম জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগেই অভিযুক্তরা ঘর নির্মাণের মালামাল ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আব্দুল হালিম বাদী হয়ে সোমবার বিকেলে কালীগঞ্জ থানায় জুয়েল, নুরু মিয়া, দিনারা বেগম ও রিনা বেগমের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রবাসীর বড় ভাই আব্দুল হালিম বলেন, “আমাদের ভোগদখলীয় সম্পত্তি জবরদখলের জন্য বিএনপি নেতা জুয়েল দলের নাম ভাঙিয়ে তার লোকজন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছে। জুয়েল বিএনপির কোনো পদে নেই। সে আমাদের এলাকার বাসিন্দাও নয়। পাশের গ্রাম থেকে এসে আমাদের জমি দখল করতে চায়। আমরা আমাদের সম্পত্তি রক্ষায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জুয়েল মোবাইল ফোনে বলেন, “রেজিস্ট্রি করা নাদাবি দলিল গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আমি লোকজন নিয়ে জমি দখল করতে গিয়েছি।”
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Reporter Name 






















