প্রকল্পের কাজ, বরাদ্দ ও বিল প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন—নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে নানা অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি, বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার, সাইনবোর্ড স্থাপন, বিল-ভাউচার এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত অভিযোগ ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু প্রকল্পে অনুমোদিত কাজের তুলনায় মাঠপর্যায়ে কম কাজ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো প্রকল্পে প্রকল্পের নাম, বরাদ্দ ও কাজের বিবরণসংবলিত সাইনবোর্ড না থাকার বিষয়টিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ ছাড়া প্রকল্পের বিল প্রক্রিয়াকরণে অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগও বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে না দেখে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও মাঠপর্যায়ের কাজ যাচাই করে প্রকৃত চিত্র বের করা প্রয়োজন।
প্রকল্পের কাজ নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দে নেওয়া কিছু প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে যে পরিমাণ দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কোথাও নির্ধারিত কাজের পরিমাণ কম হওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রকল্পের অনুমোদিত প্রাক্কলন, প্রকল্প কমিটির কাগজপত্র, বিল-ভাউচার, পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং সরেজমিনে কাজের পরিমাণ পরিমাপ করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
সাইনবোর্ড না থাকায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রকল্প এলাকায় প্রকল্পের নাম, বরাদ্দ, বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও কাজের সময়সীমা উল্লেখ করে তথ্য প্রদর্শনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কিছু প্রকল্প এলাকায় এ ধরনের তথ্য দৃশ্যমান না থাকার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—কোন প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, কাজের পরিমাণ কত এবং বাস্তবে কতটুকু কাজ হয়েছে—এসব তথ্য সাধারণ মানুষ কীভাবে নিশ্চিত হবে?
বিল প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ
পিআইও কার্যালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত প্রকল্পের বিল-ভাউচার প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেছেন, বিল সংক্রান্ত কার্যক্রমে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরি হয় এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগও শোনা যায়।
তবে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভুক্তভোগী, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট নথি কিংবা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ছাড়া কাউকে দায়ী করা সমীচীন নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এলাকাবাসী
১. ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলায় পিআইও কার্যালয়ের অধীনে মোট কতগুলো প্রকল্প নেওয়া হয়েছে?
২. প্রতিটি প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে কতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে?
৩. প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে ও পরে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে কি না?
৪. প্রকল্পের বিল-ভাউচার ও পরিদর্শন প্রতিবেদন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না?
৫. প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নিয়েছে কি না?
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি বা দোষী সাব্যস্ত না করে প্রতিটি প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই এবং সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বের করা হোক।
তাদের মতে, সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ। তাই প্রকল্প গ্রহণ থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন ও বিল পরিশোধ—প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবস্থানও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
অভিযোগগুলোর বিষয়ে পিআইও কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া এবং তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কমিটির বক্তব্য থাকলে প্রতিবেদনের ভারসাম্য আরও বাড়বে। কিন্তু মুঠোফোনে তাঁদের পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদকের নোট
এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো অভিযোগ, স্থানীয়দের বক্তব্য ও প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে আদালত বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া অপরাধী হিসেবে দাবি করা হয়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
যা সাধারণ জনগণের সম্পদের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
Reporter Name 


























