Dhaka ০৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

কুয়াকাটার সাগরে জেলেদের জালে বিরল ‘বক্স ক্রাব’, অবাক স্থানীয়রা

  • Reporter Name
  • সময়: ০৫:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৩ Time View

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির ‘বক্স ক্রাব’ বা লজ্জাবতী কাঁকড়া। অদ্ভুত আকৃতির এই সামুদ্রিক প্রাণীটি খাওয়ার উপযোগী কি না, তা নিয়ে সংশয়ে পড়ে জেলেরা সেটি বিক্রি না করে খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ছেড়ে দেন।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটার বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেদের জালে ধরা পড়ে বিরল প্রজাতির এই কাঁকড়াটি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ইলিয়াশ মাঝির ট্রলারের জেলেরা অন্যান্য মাছের সঙ্গে কাঁকড়াটি নিয়ে আসেন মহীপুর মৎস্য বন্দরের ‘আখি ফিস’ নামের একটি মৎস্য আড়তে।

আড়তের মো. আলামিন জানান, সাগরে মাছ ধরার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে কাঁকড়াটি জালে উঠে আসে। তবে এ ধরনের কাঁকড়া এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। অস্বাভাবিক আকৃতি ও অপরিচিত হওয়ায় কাঁকড়াটি নিয়ে জেলেদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়।

বক্স ক্রাবের শরীর সাধারণ কাঁকড়ার তুলনায় অনেকটাই গোলাকার। এর খোলস শক্ত, চওড়া ও উঁচু। খোলসের ওপর রয়েছে গম্বুজের মতো একটি অংশ। কালচে-ধূসর ছোট ছোট দাগ এবং দুই পাশে থাকা বড় ও শক্ত দাঁড়া এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, বক্স ক্রাব উষ্ণমণ্ডলীয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক কাঁকড়া। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে এদের দেখা যায়।

তিনি বলেন, সাধারণত বালুময় বা কাদাময় নরম সমুদ্রতলে এবং কখনো প্রবাল প্রাচীরের কাছাকাছি এলাকায় ১০ থেকে ১০০ মিটার গভীরতায় এ ধরনের কাঁকড়া পাওয়া যায়। কুয়াকাটার বঙ্গোপসাগরে বক্স ক্রাব খুব বেশি দেখা যায় না। ফলে স্থানীয়দের কাছে এটি অপরিচিত এবং সাধারণত খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয় না। তবে বিশ্বের যেসব অঞ্চলে এ প্রজাতির কাঁকড়া বেশি পাওয়া যায়, সেখানে এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, বক্স ক্রাবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর অত্যন্ত শক্ত ও চওড়া দুটি দাঁড়া। এগুলো সামনের দিকে ভাঁজ করে কাঁকড়াটি তার মুখের অংশ ঢেকে রাখতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে মাদকদ্রব্য ও নগদ টাকা উদ্ধার

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমাতেও এ ধরনের কাঁকড়ার উপস্থিতি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হলেও উপকূলীয় এলাকায় এমন কম পরিচিত সামুদ্রিক প্রাণী পাওয়া গেলে শুধু আহরণ না করে এর প্রজাতি, বিস্তৃতি ও প্রাচুর্য নথিবদ্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ।

জেলেদের জালে বিরল এই সামুদ্রিক প্রাণীটি ধরা পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পরে কাঁকড়াটি বিক্রি না করে খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবমুক্ত করে দেন জেলেরা।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কুয়াকাটার সাগরে জেলেদের জালে বিরল ‘বক্স ক্রাব’, অবাক স্থানীয়রা

সময়: ০৫:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির ‘বক্স ক্রাব’ বা লজ্জাবতী কাঁকড়া। অদ্ভুত আকৃতির এই সামুদ্রিক প্রাণীটি খাওয়ার উপযোগী কি না, তা নিয়ে সংশয়ে পড়ে জেলেরা সেটি বিক্রি না করে খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ছেড়ে দেন।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটার বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেদের জালে ধরা পড়ে বিরল প্রজাতির এই কাঁকড়াটি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ইলিয়াশ মাঝির ট্রলারের জেলেরা অন্যান্য মাছের সঙ্গে কাঁকড়াটি নিয়ে আসেন মহীপুর মৎস্য বন্দরের ‘আখি ফিস’ নামের একটি মৎস্য আড়তে।

আড়তের মো. আলামিন জানান, সাগরে মাছ ধরার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে কাঁকড়াটি জালে উঠে আসে। তবে এ ধরনের কাঁকড়া এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। অস্বাভাবিক আকৃতি ও অপরিচিত হওয়ায় কাঁকড়াটি নিয়ে জেলেদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়।

বক্স ক্রাবের শরীর সাধারণ কাঁকড়ার তুলনায় অনেকটাই গোলাকার। এর খোলস শক্ত, চওড়া ও উঁচু। খোলসের ওপর রয়েছে গম্বুজের মতো একটি অংশ। কালচে-ধূসর ছোট ছোট দাগ এবং দুই পাশে থাকা বড় ও শক্ত দাঁড়া এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, বক্স ক্রাব উষ্ণমণ্ডলীয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক কাঁকড়া। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে এদের দেখা যায়।

তিনি বলেন, সাধারণত বালুময় বা কাদাময় নরম সমুদ্রতলে এবং কখনো প্রবাল প্রাচীরের কাছাকাছি এলাকায় ১০ থেকে ১০০ মিটার গভীরতায় এ ধরনের কাঁকড়া পাওয়া যায়। কুয়াকাটার বঙ্গোপসাগরে বক্স ক্রাব খুব বেশি দেখা যায় না। ফলে স্থানীয়দের কাছে এটি অপরিচিত এবং সাধারণত খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয় না। তবে বিশ্বের যেসব অঞ্চলে এ প্রজাতির কাঁকড়া বেশি পাওয়া যায়, সেখানে এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, বক্স ক্রাবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর অত্যন্ত শক্ত ও চওড়া দুটি দাঁড়া। এগুলো সামনের দিকে ভাঁজ করে কাঁকড়াটি তার মুখের অংশ ঢেকে রাখতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  সাপাহারে ১৫ শিক্ষক, ১৩ পরীক্ষার্থী—সবাই ফেল, ৫টি মাদ্রাসায় ১জন করে পাস

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমাতেও এ ধরনের কাঁকড়ার উপস্থিতি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হলেও উপকূলীয় এলাকায় এমন কম পরিচিত সামুদ্রিক প্রাণী পাওয়া গেলে শুধু আহরণ না করে এর প্রজাতি, বিস্তৃতি ও প্রাচুর্য নথিবদ্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ।

জেলেদের জালে বিরল এই সামুদ্রিক প্রাণীটি ধরা পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পরে কাঁকড়াটি বিক্রি না করে খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবমুক্ত করে দেন জেলেরা।