
সুনামগঞ্জের ১০ যুবকের ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন ভূমধ্যসাগরেই শেষ হয়ে গেছে। সাগরপথে অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন, দিরাইয়ের ৪ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন। এই যুবকরা পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে জমিজমা বিক্রি করে ১১ থেকে ১২ লাখ টাকা দালালের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
জানা গেছে, গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে ২৬ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। প্রতিকূল আবহাওয়ায় পথ হারিয়ে টানা ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে নৌকাটি। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি না পেয়ে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় একে একে ২২ জন মারা যান। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো মাঝসমুদ্রেই ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে বেঁচে ফেরা যাত্রীরা জানিয়েছেন। গত ২৭ মার্চ গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছ থেকে নৌকাটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের স্বজনরা শনিবার এই শোক সংবাদ জানতে পারেন। জগন্নাথপুর উপজেলার নিহতরা হলেন আমিনুর রহমান, শায়ক মিয়া, মো. আলী, মো. সোহানুর রহমান এবং মো. নাঈম। তারা কয়েক মাস আগে লিবিয়া গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে দালালের মাধ্যমে গ্রিস যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। দিরাই উপজেলার নিহতরা হলেন মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না, মো. সাহান এহিয়া, মো. সাজিদুর রহমান এবং মুজিবুর রহমান। এছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের ফাহিম নামের এক যুবকও প্রাণ হারিয়েছেন।
এই ভয়াবহ ঘটনার পেছনে একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বজনরা জানান, ছাতক উপজেলার দুলাল মিয়া ও তার ভাই বিল্লাল এই চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করেন। বিল্লাল গ্রিসে অবস্থান করে নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন এবং দুলাল মিয়া দেশ থেকে লোক সংগ্রহের কাজ করেন। অভিযোগ রয়েছে, নিহত আমিনুর রহমানকে প্রায় তিন মাস লিবিয়ার বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলো মানবপাচারের সাথে জড়িত দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে গ্রিক কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দক্ষিণ সুদানের দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
আব্দুস সালাম, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 

























