
বিশেষ প্রতিনিধি:
তারেক রহমান (জন্ম: ২০ নভেম্বর ১৯৬৮, ঢাকা) একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান। তিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান নীতিনির্ধারক ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত। দেশের রাজনীতিতে তিনি যেমন গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের জন্য পরিচিত, তেমনি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, আইনি মামলা এবং দীর্ঘ প্রবাস জীবনের কারনেও আলোচনায় ছিলেন।
প্রাথমিক জীবন ও পরিবার

তারেক রহমান ১৯৬৮ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার এবং পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তার মাতা বেগম খালেদা জিয়া তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তার একমাত্র ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
শিক্ষাজীবন
তারেক রহমানের শিক্ষাজীবনের শুরু বিএএফ শাহীন কলেজে। পরে তিনি সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে। এরপর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন।
উচ্চমাধ্যমিকের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। পরে বিভাগ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়ন শুরু করেন এবং স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা সম্পন্ন করেননি।
রাজনৈতিক জীবন

তারেক রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয় ছাত্রজীবন থেকেই। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি দেশব্যাপী ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা চালান, যা তাকে বিএনপির তরুণ নেতাদের মধ্যে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।
২০০২ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সারাদেশে সাংগঠনিক সফর শুরু করেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়, কর্মীসভা এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে তিনি দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেন। এই সময়ে তিনি বিএনপির তরুণ নেতৃত্বের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন।
২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে দলের নীতিনির্ধারণ, নির্বাচন পরিচালনা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দলকে নতুন নেতৃত্বের অধীনে পরিচালনা করেন।
গ্রেপ্তার, মামলা ও প্রবাসজীবন

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তারেক রহমানকে দুর্নীতিসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। কারাবন্দি অবস্থায় তার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে এবং পরে তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ২০০৮ সালে জামিনে মুক্তি লাভের পর উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে যান। এরপর দীর্ঘ সময় লন্ডনে অবস্থান করলেও তিনি সেখান থেকে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করেন।
তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার, ঘুষ গ্রহণ এবং অন্যান্য অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মামলা হয়। বিএনপি এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে। পরবর্তী সময়ে আদালতের বিভিন্ন রায় ও আদেশের মাধ্যমে তার আইনি অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।
রাজনৈতিক দর্শন
তারেক রহমান গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, সুশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করে থাকেন। তিনি প্রশাসনিক সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার এবং যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া তিনি দলীয় কাঠামো আধুনিকায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব বিকাশের পক্ষেও মত প্রকাশ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবন

তারেক রহমান ডা. জোবাইদা রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাদের এক কন্যা, জাইমা রহমান। পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
Reporter Name 





















