Dhaka ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কালীগঞ্জে নগর মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্পের পরামর্শকরণ সভা অনুষ্ঠিত ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ মধ্যনগরের আমানিপুরে ৮ বছরের শিশু নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে এলএসপি সদস্যদের টানা ১০ দিনের অবস্থান কর্মসূচি নওগাঁর বদলগাছীতে এনসিপির জনসভা, গণভোট, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবি সুনামগঞ্জে সামাজিক নিরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সাভারে ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আনোয়ার হোসেনের বহরে হামলার অভিযোগ, আহত ৪ বন্যাদুর্গতদের পাশে কক্সবাজার জেলা পুলিশ, চকরিয়া-পেকুয়ায় ত্রাণ বিতরণ ভাঙ্গুড়ার খানমরিচ ইউনিয়নে এডিপির অর্থায়নে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ কসবায় ব্যাংকার হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে নবীনগরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

সাভারে ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আনোয়ার হোসেনের বহরে হামলার অভিযোগ, আহত ৪

  • Reporter Name
  • সময়: ১২:১৫:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ১১ Time View

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি


ঢাকার সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আনোয়ার হোসেনের বহরে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আলমগীর হোসেনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগে গুরুতর জখম হয়। তিনি বর্তমানে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই বিকেল প্রায় ৪টার দিকে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে মো. আনোয়ার হোসেন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে ফিরছিলেন। পথে ভাকুর্তা বটতলা বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল ব্যক্তি তাঁদের বহরের গতিরোধ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের হাতে লোহার রড, হাতুড়ি, ছেনি, কাঠের লাঠি, ধারালো চাকু, চাইনিজ কুড়াল এবং আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

অভিযোগে বলা হয়, প্রথমে মো. আনোয়ার হোসেনকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁর ভাই আলমগীর হোসেন সামনে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁর ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মারধরের পর চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁর গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং তাঁর পকেটে থাকা ২৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

আলমগীর হোসেনকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন রিফাত, শফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, শাহিন হোসেন ও তৌহিদ হোসেনসহ কয়েকজন। তাঁদের ওপরও ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে রিফাতের হাতে, শফিকুল ইসলামের চোখের ওপরে এবং শাহাদাত হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহতদের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকদের মতে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আরও পড়ুনঃ  এজেএফবি স্টার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পেলেন অপরূপ টিভির চেয়ারম্যান সাংবাদিক জিন্নাত আলী

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার সময় কয়েকজনকে জোরপূর্বক আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পর হামলাকারীরা মামলা বা আইনের আশ্রয় নিলে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার পাশাপাশি লাশ গুমের হুমকিও দেয়।

এ ঘটনায় মফিজুল ইসলাম গগন, নাজম, মানিক মিয়া, অনিক, মোশারফ হোসেন, হোসেন ও সুমনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫–৬ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার দাবি, অভিযুক্ত গগনের বিরুদ্ধে অতীতে অস্ত্রসংক্রান্ত একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে এলাকায় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হামলার ঘটনায় গগন ও তাঁর সহযোগীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার ওপর বা আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে কেউ যদি মনে করে আমাকে মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে, তাহলে তারা ভুল করছে। মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি সব সময় মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। মানুষের সেবাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। প্রয়োজনে মানুষের কল্যাণে নিজের জীবনও উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। আমি চাই, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার অধীন ভাকুর্তা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “মারামারির বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রকাশ্য সড়কে এ ধরনের হামলার ঘটনায় ভাকুর্তা এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কালীগঞ্জে নগর মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্পের পরামর্শকরণ সভা অনুষ্ঠিত

সাভারে ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আনোয়ার হোসেনের বহরে হামলার অভিযোগ, আহত ৪

সময়: ১২:১৫:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি


ঢাকার সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আনোয়ার হোসেনের বহরে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আলমগীর হোসেনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগে গুরুতর জখম হয়। তিনি বর্তমানে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই বিকেল প্রায় ৪টার দিকে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে মো. আনোয়ার হোসেন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে ফিরছিলেন। পথে ভাকুর্তা বটতলা বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল ব্যক্তি তাঁদের বহরের গতিরোধ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের হাতে লোহার রড, হাতুড়ি, ছেনি, কাঠের লাঠি, ধারালো চাকু, চাইনিজ কুড়াল এবং আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

অভিযোগে বলা হয়, প্রথমে মো. আনোয়ার হোসেনকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁর ভাই আলমগীর হোসেন সামনে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁর ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মারধরের পর চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁর গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং তাঁর পকেটে থাকা ২৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

আলমগীর হোসেনকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন রিফাত, শফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, শাহিন হোসেন ও তৌহিদ হোসেনসহ কয়েকজন। তাঁদের ওপরও ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে রিফাতের হাতে, শফিকুল ইসলামের চোখের ওপরে এবং শাহাদাত হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহতদের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকদের মতে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আরও পড়ুনঃ  বাগ বসন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার সময় কয়েকজনকে জোরপূর্বক আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পর হামলাকারীরা মামলা বা আইনের আশ্রয় নিলে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার পাশাপাশি লাশ গুমের হুমকিও দেয়।

এ ঘটনায় মফিজুল ইসলাম গগন, নাজম, মানিক মিয়া, অনিক, মোশারফ হোসেন, হোসেন ও সুমনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫–৬ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার দাবি, অভিযুক্ত গগনের বিরুদ্ধে অতীতে অস্ত্রসংক্রান্ত একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে এলাকায় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হামলার ঘটনায় গগন ও তাঁর সহযোগীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার ওপর বা আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে কেউ যদি মনে করে আমাকে মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে, তাহলে তারা ভুল করছে। মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি সব সময় মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। মানুষের সেবাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। প্রয়োজনে মানুষের কল্যাণে নিজের জীবনও উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। আমি চাই, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার অধীন ভাকুর্তা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “মারামারির বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রকাশ্য সড়কে এ ধরনের হামলার ঘটনায় ভাকুর্তা এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।