জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণে চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না” এবং দেশের সর্বস্তরে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক ও কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সাহসী প্রতিরোধ জাতির বিবেককে জাগিয়ে তুলেছিল।
তিনি বিশেষভাবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদের সাহসিকতার কথা স্মরণ করেন। তার ভাষায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দুই হাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের দৃশ্য শুধু একটি মুহূর্ত নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত জাতির ভয়কে জয় করার প্রতীক।
তারেক রহমান বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ।
তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের শক্তিতেই দেশের মানুষ নিজেদের মর্যাদা, অধিকার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর বর্তমান সরকার তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের দেখানো পথ ধরেই বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত সম্মান।
বার্তায় তিনি শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ ১৬ জুলাইয়ের সব শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ অন্তত ছয়জন নিহত হন। আবু সাঈদের ওপর গুলিবর্ষণের দৃশ্য দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়, যা পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পথ তৈরি করে।
Reporter Name 






















