Dhaka ১০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
আলোকিত জীবনের প্রতীক শায়খ আহমাদুল্লাহ: জ্ঞান, দাওয়াহ ও মানবসেবায় এক অনন্য অধ্যায় আইনি প্রক্রিয়ায় মান্দায় গাছ অপসারণ: সড়ক প্রশস্ত ও ফসলি জমি রক্ষার উদ্যোগ হরিণাকুণ্ডুতে নানা আয়োজনে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত, সমাধিস্তুপে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা চট্টগ্রামে সড়ক সম্প্রসারণের সুফল আঁটকে গেছে দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড: ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার সাবেক মেজর মো. মোজাফফর হোসেন ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মেজর (অব.) মোজাফফর আটক ফেনী চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কে ফুলের শুভেচ্ছা টেক্সটাইল খাত বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিটিএমএর ১০ দফা দাবি মসজিদের মাইকে ঘোষণা, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ; আহত ওসিসহ ২ ময়মনসিংহ মেডিকেলে র‍্যাব-১৪-এর অভিযান দালাল চক্রের ১৪ সদস্য আটক
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

দিনাজপুর মহিলা পরিষদের উদ্যোগে ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস পালিত

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে পুলিশ কর্তৃক ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যা দিবসে দেশব্যাপি সকল ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনকারীদের প্রতিহত এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

রোববার (২৪ আগস্ট-২০২৫) বেলা ১১ টায় ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের দশমাইল মোড়স্থ ইয়াসমিন স্মৃতি স্তম্ভের সম্মুখ মহাসড়কে বাংলদেশ মহিলা পরিষদ, দিনাজপুর জেলা শাখার আয়োজনে পুলিশ কর্তৃক ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যা দিবসে দেশব্যাপি সকল ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনকারীদের প্রতিহত এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তারা বলেন, শুধু ইয়াসমিন নয়, এখন প্রতিদিন প্রতি মুহুর্তে শত শত ইয়াসমিন ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে নারীর অগ্রগতির পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হবে, হচ্ছে এত কোন সন্দেহ নাই। অব্যাহত এই ধর্ষণ ও হত্যার অন্যতম প্রধান কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি। আমরা এর অবসান চাই। আন্দোলনমুখী সংগঠন মহিলা পরিষদের দাবী সরকারের পক্ষ থেকে ধর্ষণকারী এবং নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি মনোয়রা সানু এর সভাপতিত্বে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুবিনা আকতার এর সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জেলা শাখার সম্মানীয় সদস্য কানিজ রহমান, মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সহ-সভাপতি মিনতি ঘোষ, গোলেনুর বেগম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক গৌরী চক্রবর্তী, প্রচার সম্পাদক শুক্লা কুন্ডু, সদস্য তামজিদা পারভীন, মাহামুদা প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট এই দিনে দিনাজপুরে কিশোরী ইয়াসমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এতে জড়িত ছিলেন কয়েকজন বিপথগামী পুলিশ সদস্য। ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনরত বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। নিহত হন সামু, সিরাজ, কাদেরসহ বেশ কয়েকজন। তারপর থেকে দিনাজপুরে দিনটি ‘ইয়াসমিন হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হলেও এটি সারাদেশে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবেও পালন করে আসছে।


১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট। দীর্ঘদিন পর মাকে দেখার জন্য আকুল হয়ে ঢাকা থেকে দিনাজপুরে বাড়ি ফিরছিল ইয়াসমিন। দিনাজপুরের কোচে না উঠতে পেরে পঞ্চগড়গামী কোচে ওঠেন তিনি। কোচের লোকজন তাকে দিনাজপুরের দশমাইলে নামিয়ে দিয়ে সেখানকার এক চায়ের দোকানে বসতে বলেন। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ইয়াসমিনকে দিনাজপুর শহরে মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য খুব ভোরে পুলিশের হাতে তুলে দেয় এলাকাবাসী। পথে কয়েকজন পুলিশ সদস্য কিশোরী ইয়াসমিনকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করে। এরপর তারা ইয়াসমিনের মরদেহ দিনাজপুর শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে দিনাজপুর সদর উপজেলার ব্র্যাক অফিসের পাশে রাস্তায় ফেলে চলে যান। পরদিন ঘটনা জানাজানি হলে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা দিনাজপুর শহরের রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিল বের করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

আলোকিত জীবনের প্রতীক শায়খ আহমাদুল্লাহ: জ্ঞান, দাওয়াহ ও মানবসেবায় এক অনন্য অধ্যায়

দিনাজপুর মহিলা পরিষদের উদ্যোগে ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস পালিত

সময়: ১০:৩০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে পুলিশ কর্তৃক ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যা দিবসে দেশব্যাপি সকল ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনকারীদের প্রতিহত এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

রোববার (২৪ আগস্ট-২০২৫) বেলা ১১ টায় ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের দশমাইল মোড়স্থ ইয়াসমিন স্মৃতি স্তম্ভের সম্মুখ মহাসড়কে বাংলদেশ মহিলা পরিষদ, দিনাজপুর জেলা শাখার আয়োজনে পুলিশ কর্তৃক ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যা দিবসে দেশব্যাপি সকল ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনকারীদের প্রতিহত এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তারা বলেন, শুধু ইয়াসমিন নয়, এখন প্রতিদিন প্রতি মুহুর্তে শত শত ইয়াসমিন ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে নারীর অগ্রগতির পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হবে, হচ্ছে এত কোন সন্দেহ নাই। অব্যাহত এই ধর্ষণ ও হত্যার অন্যতম প্রধান কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি। আমরা এর অবসান চাই। আন্দোলনমুখী সংগঠন মহিলা পরিষদের দাবী সরকারের পক্ষ থেকে ধর্ষণকারী এবং নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি মনোয়রা সানু এর সভাপতিত্বে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুবিনা আকতার এর সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জেলা শাখার সম্মানীয় সদস্য কানিজ রহমান, মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সহ-সভাপতি মিনতি ঘোষ, গোলেনুর বেগম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক গৌরী চক্রবর্তী, প্রচার সম্পাদক শুক্লা কুন্ডু, সদস্য তামজিদা পারভীন, মাহামুদা প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট এই দিনে দিনাজপুরে কিশোরী ইয়াসমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এতে জড়িত ছিলেন কয়েকজন বিপথগামী পুলিশ সদস্য। ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনরত বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। নিহত হন সামু, সিরাজ, কাদেরসহ বেশ কয়েকজন। তারপর থেকে দিনাজপুরে দিনটি ‘ইয়াসমিন হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হলেও এটি সারাদেশে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবেও পালন করে আসছে।


১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট। দীর্ঘদিন পর মাকে দেখার জন্য আকুল হয়ে ঢাকা থেকে দিনাজপুরে বাড়ি ফিরছিল ইয়াসমিন। দিনাজপুরের কোচে না উঠতে পেরে পঞ্চগড়গামী কোচে ওঠেন তিনি। কোচের লোকজন তাকে দিনাজপুরের দশমাইলে নামিয়ে দিয়ে সেখানকার এক চায়ের দোকানে বসতে বলেন। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ইয়াসমিনকে দিনাজপুর শহরে মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য খুব ভোরে পুলিশের হাতে তুলে দেয় এলাকাবাসী। পথে কয়েকজন পুলিশ সদস্য কিশোরী ইয়াসমিনকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করে। এরপর তারা ইয়াসমিনের মরদেহ দিনাজপুর শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে দিনাজপুর সদর উপজেলার ব্র্যাক অফিসের পাশে রাস্তায় ফেলে চলে যান। পরদিন ঘটনা জানাজানি হলে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা দিনাজপুর শহরের রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিল বের করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।