Dhaka ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিস্ফোরক মামলায় ভাঙ্গুড়া পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও আ.লীগ নেতা কালু গ্রেপ্তার ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির দাবি আদমদীঘিতে চোলাইমদ ও ওয়াশসহ শাশুড়ি-জামাই গ্রেপ্তার নরসিংদীতে বিশেষ অভিযানে ২৩৭ গ্রেফতার, বিপুল অস্ত্র-মাদক ও অবৈধ পণ্য উদ্ধার মেয়াদোত্তীর্ণ দুধে তারিখ কারসাজি, নকল BSTI লোগো: চট্টগ্রামে ৩ প্রতিষ্ঠানে ৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা জরিমানা বগুড়ায় দিনে দুপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বাসায় ডাকাতি, লুটপাট-ভাঙচুর; আহত ৪ শ্যামনগরে নারীর প্রতি সহিংসতা কমাতে পুরুষদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল থেকে অবসর নিলেন ডা. নূরুল হক কালিয়াকৈরে অভিযান: ১১০টি কারেন্ট ও রিং জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

“বাংলাদেশে সুস্থ রাজনীতি চাই”

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • ১২৩ Time View

এম এ আলীম সরকার


বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে যে ধারা চলছে, সেখানে প্রকৃত অর্থে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার অভাব স্পষ্ট। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও আন্তর্জাতিকতাবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আদর্শের কথা বলা হলেও, এসব বিষয়ে অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা কিংবা বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন লিখিত বক্তব্য খুব কমই পাওয়া যায়। সাধারণ জনগণের মাঝেও রাজনীতি নিয়ে গভীর আগ্রহ ও সচেতন অংশগ্রহণের ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়।

দেশে সুস্থ রাজনীতি গড়ে না ওঠার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এনজিও ও সিভিল সোসাইটির একটি অংশ রাজনীতিকে বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা চালিয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেন লেখক। তাঁর মতে, ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পেছনেও এসব গোষ্ঠীর পরিকল্পিত ভূমিকা ছিল। তিনি দাবি করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ধাপে ধাপে সরকারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ দেওয়া হয় এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়।

লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের অধিকাংশ সদস্য পশ্চিমা প্রভাববলয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের অনেকের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন— যারা দেশের বাস্তবতা ও সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, তারা কীভাবে জনগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করবে?

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের নামে দেশে রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে। তরুণদের রাজনীতি ও শিক্ষার পরিবর্তে অর্থ ও ক্ষমতার মোহে আকৃষ্ট করা হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা ও ‘মব সন্ত্রাস’-এর সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এম এ আলীম সরকার বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির মূল সংকট হলো সুস্থ ধারার রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের অভাব। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও জনগণের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাঁর মতে, একটি রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হচ্ছে রাজনৈতিক দল। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো প্রকৃত অর্থে জনগণভিত্তিক, আদর্শনির্ভর ও গণমুখী রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠেনি।

আরও পড়ুনঃ  কর্মজীবনে চাকরি নয়, আত্মউন্নয়নই হোক লক্ষ্য

তিনি ফ্যাসিবাদের উত্থান প্রসঙ্গে বলেন, ইতিহাসে ফ্যাসিবাদ কেবল সামরিক শক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি; বরং নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম, তথ্য বিকৃতি, ভিন্নমত দমন এবং ভয়-ভীতির সংস্কৃতির মাধ্যমেও ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে। সংবাদমাধ্যম যখন সত্যের পরিবর্তে ক্ষমতার প্রচারক হয়ে ওঠে, তখন সমাজ ধীরে ধীরে ফ্যাসিবাদের দিকে অগ্রসর হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

লেখকের মতে, বাংলাদেশে সুস্থ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল, জনগণের সক্রিয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য। রাজনীতির উন্নতি ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও তিনি মত দেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সুস্থ ধারার রাজনীতি গড়ে তোলা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। কঠিন পথ পাড়ি দিয়েই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে— এর কোনো বিকল্প নেই।

লেখক: এম এ আলীম সরকার
প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
সভাপতি, বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি (বিজিপি)।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

“বাংলাদেশে সুস্থ রাজনীতি চাই”

সময়: ০৯:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

এম এ আলীম সরকার


বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে যে ধারা চলছে, সেখানে প্রকৃত অর্থে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার অভাব স্পষ্ট। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও আন্তর্জাতিকতাবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আদর্শের কথা বলা হলেও, এসব বিষয়ে অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা কিংবা বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন লিখিত বক্তব্য খুব কমই পাওয়া যায়। সাধারণ জনগণের মাঝেও রাজনীতি নিয়ে গভীর আগ্রহ ও সচেতন অংশগ্রহণের ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়।

দেশে সুস্থ রাজনীতি গড়ে না ওঠার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এনজিও ও সিভিল সোসাইটির একটি অংশ রাজনীতিকে বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা চালিয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেন লেখক। তাঁর মতে, ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পেছনেও এসব গোষ্ঠীর পরিকল্পিত ভূমিকা ছিল। তিনি দাবি করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ধাপে ধাপে সরকারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ দেওয়া হয় এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়।

লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের অধিকাংশ সদস্য পশ্চিমা প্রভাববলয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের অনেকের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন— যারা দেশের বাস্তবতা ও সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, তারা কীভাবে জনগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করবে?

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের নামে দেশে রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে। তরুণদের রাজনীতি ও শিক্ষার পরিবর্তে অর্থ ও ক্ষমতার মোহে আকৃষ্ট করা হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা ও ‘মব সন্ত্রাস’-এর সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এম এ আলীম সরকার বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির মূল সংকট হলো সুস্থ ধারার রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের অভাব। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও জনগণের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাঁর মতে, একটি রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হচ্ছে রাজনৈতিক দল। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো প্রকৃত অর্থে জনগণভিত্তিক, আদর্শনির্ভর ও গণমুখী রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠেনি।

আরও পড়ুনঃ  কর্মজীবনে চাকরি নয়, আত্মউন্নয়নই হোক লক্ষ্য

তিনি ফ্যাসিবাদের উত্থান প্রসঙ্গে বলেন, ইতিহাসে ফ্যাসিবাদ কেবল সামরিক শক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি; বরং নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম, তথ্য বিকৃতি, ভিন্নমত দমন এবং ভয়-ভীতির সংস্কৃতির মাধ্যমেও ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে। সংবাদমাধ্যম যখন সত্যের পরিবর্তে ক্ষমতার প্রচারক হয়ে ওঠে, তখন সমাজ ধীরে ধীরে ফ্যাসিবাদের দিকে অগ্রসর হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

লেখকের মতে, বাংলাদেশে সুস্থ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল, জনগণের সক্রিয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য। রাজনীতির উন্নতি ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও তিনি মত দেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সুস্থ ধারার রাজনীতি গড়ে তোলা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। কঠিন পথ পাড়ি দিয়েই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে— এর কোনো বিকল্প নেই।

লেখক: এম এ আলীম সরকার
প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
সভাপতি, বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি (বিজিপি)।