Dhaka ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
রাসুল (সা.) যেভাবে তরুণদের গড়ে তুলেছিলেন আগামীর নেতা হিসেবে ফাইনালে উঠে যা বললেন মেসি: ‘আমরা জানতাম, এই দল শিরোপার জন্য লড়বে’ ইরানের দাবি: মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় টানা চতুর্থ দিন বাড়ল বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাঙ্গুড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সাড়ে ৫লক্ষ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস ১৫ বছরে রেলপথে ১ হাজার ৩৩৪ দুর্ঘটনা, সংসদে জানালেন রেলমন্ত্রী বুড়িচংয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার, গাছ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন নিউইয়র্কের কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘লেখকের অঙ্গন-এর ২৭তম গ্রন্থালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ১৬ হাজার পিস ইয়াবা সহ আটক
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

স্বাস্থ্য দিবস পালিত হলেও বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, সংকট জনবল

  • Reporter Name
  • সময়: ০৪:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮৯ Time View

 

মোঃ মাইদুল ইসলাম,


২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালটি জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষের একমাত্র প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হলেও দীর্ঘদিনের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটে সেবার মান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নানা সীমাবদ্ধতায় হাসপাতালটি নিজেই যেন ‘দুরারোগ্য’ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে।

প্রয়োজন ১৭৮ চিকিৎসক, কর্মরত মাত্র ২৩:
হাসপাতাল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৮ সালে ৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। বর্তমানে এখানে ১৭৮ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ২৩ জন। গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে সিনিয়র কনসালটেন্টের অভাব প্রকট।

মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি ও কার্ডিওলজি বিভাগে নেই কোনো সিনিয়র কনসালটেন্ট। জুনিয়র কনসালটেন্টের অর্ধেক পদ শূন্য। এছাড়া মেডিক্যাল অফিসার, ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার, রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারের পদও শূন্য রয়েছে।

চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত সেবা:
চিকিৎসক সংকটের কারণে বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ডে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। প্রতিদিন ৫০০-র বেশি রোগী ভর্তি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে দিনে মাত্র একবার চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায়। জরুরি বিভাগে অনেক সময় উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগও উঠছে।

চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা:
দুপুরের পর ভর্তি হওয়া রোগীদের তাৎক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে রোগীদের পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এতে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

নেই আইসিইউ ও এনআইসিইউ সুবিধা:
হাসপাতালের নতুন ৮ তলা ভবন নির্মাণ করা হলেও সেখানে আইসিইউ বা এনআইসিইউ সুবিধা চালু করা হয়নি। ফলে গুরুতর রোগীদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হয়। এতে পথে অনেক রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

অকেজো চিকিৎসা সরঞ্জাম:
হাসপাতালে সিটিস্ক্যান ও এমআরআই মেশিন নেই। ইকোকার্ডিওগ্রাম, এন্ডস্কপি ও ল্যাপরোস্কপি মেশিন থাকলেও সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। আধুনিক অটোক্লেভ মেশিন না থাকায় অপারেশনের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করতেও সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া সরবরাহকৃত কিছু মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্র স্টোরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যা রোগীদের সেবা থেকে বঞ্চিত করছে।

আরও পড়ুনঃ  বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে কঠোর অভিযান চলবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জনবল সংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি:
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর তীব্র সংকট রয়েছে। আয়া, ওয়ার্ড বয়, ক্লিনার ও নিরাপত্তাকর্মীর অভাবে রোগীসেবা ব্যাহত হচ্ছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন নিয়োগও বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে, হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত দুর্বল। ওয়ার্ডগোলোর বাথরুমের বেহাল অবস্থা, নাই গোসল করার ব্যবস্থা। চিকিৎসা বর্জ্য পাশের পুকুরপাড়ে ফেলা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, “চিকিৎসকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি। সম্প্রতি চারজন চিকিৎসক যোগ দিলেও চাহিদা পূরণ হয়নি। সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সেবার মান ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে জেলার বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

রাসুল (সা.) যেভাবে তরুণদের গড়ে তুলেছিলেন আগামীর নেতা হিসেবে

স্বাস্থ্য দিবস পালিত হলেও বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, সংকট জনবল

সময়: ০৪:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

 

মোঃ মাইদুল ইসলাম,


২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালটি জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষের একমাত্র প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হলেও দীর্ঘদিনের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটে সেবার মান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নানা সীমাবদ্ধতায় হাসপাতালটি নিজেই যেন ‘দুরারোগ্য’ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে।

প্রয়োজন ১৭৮ চিকিৎসক, কর্মরত মাত্র ২৩:
হাসপাতাল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৮ সালে ৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। বর্তমানে এখানে ১৭৮ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ২৩ জন। গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে সিনিয়র কনসালটেন্টের অভাব প্রকট।

মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি ও কার্ডিওলজি বিভাগে নেই কোনো সিনিয়র কনসালটেন্ট। জুনিয়র কনসালটেন্টের অর্ধেক পদ শূন্য। এছাড়া মেডিক্যাল অফিসার, ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার, রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারের পদও শূন্য রয়েছে।

চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত সেবা:
চিকিৎসক সংকটের কারণে বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ডে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। প্রতিদিন ৫০০-র বেশি রোগী ভর্তি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে দিনে মাত্র একবার চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায়। জরুরি বিভাগে অনেক সময় উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগও উঠছে।

চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা:
দুপুরের পর ভর্তি হওয়া রোগীদের তাৎক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে রোগীদের পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এতে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

নেই আইসিইউ ও এনআইসিইউ সুবিধা:
হাসপাতালের নতুন ৮ তলা ভবন নির্মাণ করা হলেও সেখানে আইসিইউ বা এনআইসিইউ সুবিধা চালু করা হয়নি। ফলে গুরুতর রোগীদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হয়। এতে পথে অনেক রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

অকেজো চিকিৎসা সরঞ্জাম:
হাসপাতালে সিটিস্ক্যান ও এমআরআই মেশিন নেই। ইকোকার্ডিওগ্রাম, এন্ডস্কপি ও ল্যাপরোস্কপি মেশিন থাকলেও সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। আধুনিক অটোক্লেভ মেশিন না থাকায় অপারেশনের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করতেও সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া সরবরাহকৃত কিছু মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্র স্টোরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যা রোগীদের সেবা থেকে বঞ্চিত করছে।

আরও পড়ুনঃ  বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে কঠোর অভিযান চলবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জনবল সংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি:
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর তীব্র সংকট রয়েছে। আয়া, ওয়ার্ড বয়, ক্লিনার ও নিরাপত্তাকর্মীর অভাবে রোগীসেবা ব্যাহত হচ্ছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন নিয়োগও বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে, হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত দুর্বল। ওয়ার্ডগোলোর বাথরুমের বেহাল অবস্থা, নাই গোসল করার ব্যবস্থা। চিকিৎসা বর্জ্য পাশের পুকুরপাড়ে ফেলা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, “চিকিৎসকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি। সম্প্রতি চারজন চিকিৎসক যোগ দিলেও চাহিদা পূরণ হয়নি। সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সেবার মান ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে জেলার বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।