এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আগামী সোমবার (২৭ জুলাই) দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগভিত্তিক প্রকল্প চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার এবং দেশের শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বেলচুরা এলাকায়, চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী স্থানে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেড (বিসিসিএল)-এর চেয়ারম্যান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)-এর প্রেসিডেন্ট, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
অনুষ্ঠানে সিইআইজেড প্রকল্পের ওপর একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা প্রদর্শনের পাশাপাশি একটি সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। পরে প্রকল্পের স্লোগান উন্মোচন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের উদ্বোধন, আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে।
সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সিইআইজেডের সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এর আওতায় জেটি সংযোগ সড়ক, অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় বর্জ্য তরল শোধনাগার (সিইটিপি), বহুমুখী জেটি, কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র, সীমানা প্রাচীর এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নযোগ্য এ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ এবং ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকার বহন করবে। চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) সুবিধার আওতায় বৈদেশিক অর্থায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও চীনের সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগের আওতায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারায় প্রায় ৭৮৩ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে এ অর্থনৈতিক অঞ্চল।
সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি চালু হলে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট হবে এবং এক লাখের বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়া টেক্সটাইল, ওষুধ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং চট্টগ্রাম আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিকস হাবে পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী কৌশলগত অবস্থানের কারণে সিইআইজেড বাংলাদেশের শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
- প্রকল্প ব্যয়: ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা
- আয়তন: প্রায় ৭৮৩ একর
- সম্ভাব্য এফডিআই: ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
- সম্ভাব্য কর্মসংস্থান: এক লাখের বেশি মানুষ
- বাস্তবায়নকাল: জানুয়ারি ২০২৭ – ডিসেম্বর ২০৩১
Reporter Name 


























