Dhaka ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
আলোকিত জীবনের প্রতীক শায়খ আহমাদুল্লাহ: জ্ঞান, দাওয়াহ ও মানবসেবায় এক অনন্য অধ্যায় আইনি প্রক্রিয়ায় মান্দায় গাছ অপসারণ: সড়ক প্রশস্ত ও ফসলি জমি রক্ষার উদ্যোগ হরিণাকুণ্ডুতে নানা আয়োজনে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত, সমাধিস্তুপে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা চট্টগ্রামে সড়ক সম্প্রসারণের সুফল আঁটকে গেছে দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড: ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার সাবেক মেজর মো. মোজাফফর হোসেন ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মেজর (অব.) মোজাফফর আটক ফেনী চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কে ফুলের শুভেচ্ছা টেক্সটাইল খাত বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিটিএমএর ১০ দফা দাবি মসজিদের মাইকে ঘোষণা, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ; আহত ওসিসহ ২ ময়মনসিংহ মেডিকেলে র‍্যাব-১৪-এর অভিযান দালাল চক্রের ১৪ সদস্য আটক
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

“ বীরগঞ্জে প্রস্তুতির মৃত্যু, উত্তাল বীরগঞ্জ: ভাঙচুর-অবরোধের পর ক্লিনিক সীলগালা”

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:৩৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯৬ Time View

গোকুল চন্দ্র রায়, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:


দিনাজপুরের বীরগঞ্জে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ উত্তেজনা, ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।

 

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতেই বীরগঞ্জ-খানসামা সড়কের মোকছেদ প্লাজায় অবস্থিত “বীরগঞ্জ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার” এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রশাসন ক্লিনিকটি সীলগালা করে দেয়।

 

নিহত সমেজা বেগম (২৬) কাহারোল উপজেলার সরঞ্জা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে প্রসব বেদনা নিয়ে তাকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। বিকেল ৫টার দিকে ডা. বকুল হোসেন তার সিজার অপারেশন করেন এবং অ্যানেস্থেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. শরিফুল ইসলাম। অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নিলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই সমেজা বেগমের মৃত্যু হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক মালিক বেলাল হোসেন দ্রুত একটি মাইক্রোবাসে করে প্রসূতিকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক সেখান থেকে পালিয়ে যান বলেও অভিযোগ উঠেছে।

 

এদিকে, মৃত্যুর খবর বীরগঞ্জে পৌঁছালে ক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা ক্লিনিকের ল্যাবরেটরিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়, সাইনবোর্ড নামিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বীরগঞ্জ-দেবীগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

 

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ক্লিনিকটি নিম্নমানের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিল এবং এর আগেও একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানটি ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে কঠোর অভিযান চলবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপংকর বর্মন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বীরগঞ্জ সার্কেল) শাওন কুমার এবং বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে জনসাধারণকে শান্ত করেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং জনস্বার্থে আপাতত ক্লিনিকটি সীলগালা করা হয়েছে।

তবে ঘটনার পর একটি রহস্যও তৈরি হয়েছে।

 

নিহতের স্বজনরা কোনো লিখিত অভিযোগ না করেই মরদেহ নিয়ে কাহারোলে ফিরে গেছেন। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য, তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং আপাতত কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে চান না।

 

রাত ১১টা পর্যন্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযুক্ত ক্লিনিক মালিক ও চিকিৎসকদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

স্থানীয়দের একটাই দাবি—বারবার অভিযোগ ওঠা এই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নিরীহ মানুষ এভাবে প্রাণ না হারায়।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

আলোকিত জীবনের প্রতীক শায়খ আহমাদুল্লাহ: জ্ঞান, দাওয়াহ ও মানবসেবায় এক অনন্য অধ্যায়

“ বীরগঞ্জে প্রস্তুতির মৃত্যু, উত্তাল বীরগঞ্জ: ভাঙচুর-অবরোধের পর ক্লিনিক সীলগালা”

সময়: ০৯:৩৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

গোকুল চন্দ্র রায়, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:


দিনাজপুরের বীরগঞ্জে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ উত্তেজনা, ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।

 

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতেই বীরগঞ্জ-খানসামা সড়কের মোকছেদ প্লাজায় অবস্থিত “বীরগঞ্জ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার” এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রশাসন ক্লিনিকটি সীলগালা করে দেয়।

 

নিহত সমেজা বেগম (২৬) কাহারোল উপজেলার সরঞ্জা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে প্রসব বেদনা নিয়ে তাকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। বিকেল ৫টার দিকে ডা. বকুল হোসেন তার সিজার অপারেশন করেন এবং অ্যানেস্থেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. শরিফুল ইসলাম। অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নিলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই সমেজা বেগমের মৃত্যু হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক মালিক বেলাল হোসেন দ্রুত একটি মাইক্রোবাসে করে প্রসূতিকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক সেখান থেকে পালিয়ে যান বলেও অভিযোগ উঠেছে।

 

এদিকে, মৃত্যুর খবর বীরগঞ্জে পৌঁছালে ক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা ক্লিনিকের ল্যাবরেটরিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়, সাইনবোর্ড নামিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বীরগঞ্জ-দেবীগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

 

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ক্লিনিকটি নিম্নমানের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিল এবং এর আগেও একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানটি ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে কঠোর অভিযান চলবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপংকর বর্মন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বীরগঞ্জ সার্কেল) শাওন কুমার এবং বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে জনসাধারণকে শান্ত করেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং জনস্বার্থে আপাতত ক্লিনিকটি সীলগালা করা হয়েছে।

তবে ঘটনার পর একটি রহস্যও তৈরি হয়েছে।

 

নিহতের স্বজনরা কোনো লিখিত অভিযোগ না করেই মরদেহ নিয়ে কাহারোলে ফিরে গেছেন। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য, তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং আপাতত কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে চান না।

 

রাত ১১টা পর্যন্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযুক্ত ক্লিনিক মালিক ও চিকিৎসকদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

স্থানীয়দের একটাই দাবি—বারবার অভিযোগ ওঠা এই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নিরীহ মানুষ এভাবে প্রাণ না হারায়।