Dhaka ০৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
রাঙ্গামাটি নানিয়ারচরে সেনা জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সংবিধানের ৭০ ধারা বাতিলের দাবিতে আন্তর্জাতিক দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের বৈশ্বিক জনমত গঠনের ঘোষণা ২৬ জুন শুক্রবার পবিত্র আশুরা পালিত হবে টেট বাতিলের দাবিতে কলেজ স্কোয়ার থেকে রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রী-শিক্ষামন্ত্রীকে ডেপুটেশন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল হারানো বিজ্ঞপ্তি বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভোগান্তি, বিকল্প ব্যবস্থার দাবি ভাঙ্গুড়ায় ভাঙা সড়কের উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন প্রেমের টানে চীন থেকে নবীনগরে ছুটে এলেন কথিত চাইনিজ প্রেমিক ভালুকায় সিএনজি-অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত আইডিইবি নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ডিইএ্যাব
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

খাল পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণে চসিকের দুই প্রকল্প, ব্যয় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:১৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ৪৪ Time View

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম


চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে খাল পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পৃথক দুটি বড় প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। প্রস্তাবিত প্রকল্প দুটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা।

প্রকল্প প্রণয়নের জন্য ‘আওয়ার পালস’ নামে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে ৩৬টি খাল নিয়ে একটি মেগা প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি শেষ হলে খালগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে এসব খাল নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চসিকের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে।

এ কারণে দুটি পৃথক প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প এবং মেগা প্রকল্পের বাইরে থাকা ২১টি খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের জন্য আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩৬ খাল রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩২২ কোটি টাকা এবং ২১ খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রকল্পের কিছু বিষয়ে সংশোধন ও সংযোজনের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের বাইরে থাকা খালের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, যা ৪০ থেকে ৫০টির মতো হতে পারে। এসব খালও প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চান্দগাঁও এলাকায় কিছু মৃত খাল দখল হয়ে গেছে, সেগুলোও পুনরুদ্ধারের আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে প্রকল্প ব্যয় বাড়তে পারে। খালগুলোকে শুধু পুনরুদ্ধার নয়, পর্যটনবান্ধব করেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

২১ খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প

২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সভায় চট্টগ্রাম ও ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম পর্যালোচনার সময় ২১টি খাল নিয়ে পৃথক প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। পরে সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডিপিপি প্রণয়নে একাধিক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের পর সর্বশেষ ‘আওয়ার পালস’ আগ্রহ প্রকাশ করে।

আরও পড়ুনঃ  ফেসবুকের রিলস বিভাগে এখনো অনেক ব্যবহারকারীর স্ক্রিনে ‘Oops... We can't process this request at the moment’ বার্তা দেখা যাচ্ছে, যা চলমান প্রযুক্তিগত সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে

এই প্রকল্পের আওতায় কাটা খাল, কৃষ্ণ খাল, কুয়াইশ খাল, যুগীর খোলা খাল, ফরেস্ট খাল, বাইজ্জা খাল, চট্টেশ্বরী খাল, রামপুর খাল, বালুখালী খাল, বারিঙ্গাছড়া খাল ও ধামাইর খালসহ বিভিন্ন সংযুক্ত খাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

৩৬ খাল রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে সেনাবাহিনী বাস্তবায়নাধীন ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্প আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায় থাকা ৩৬টি খাল ভবিষ্যতে চসিকের ব্যবস্থাপনায় আসবে।

প্রস্তাবিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে খালগুলোর ডিজিটাল ইনভেন্টরি তৈরি, নিয়মিত খনন ও বর্জ্য অপসারণ, ইউ-ওয়াল নির্মাণ এবং আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে—প্রথম ধাপে জরুরি খনন ও তথ্যভান্ডার তৈরি, দ্বিতীয় ধাপে কাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থা চালু এবং তৃতীয় ধাপে প্রযুক্তিনির্ভর জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনা ও বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা চালু করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

রাঙ্গামাটি নানিয়ারচরে সেনা জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

খাল পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণে চসিকের দুই প্রকল্প, ব্যয় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা

সময়: ০৯:১৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম


চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে খাল পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পৃথক দুটি বড় প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। প্রস্তাবিত প্রকল্প দুটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা।

প্রকল্প প্রণয়নের জন্য ‘আওয়ার পালস’ নামে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে ৩৬টি খাল নিয়ে একটি মেগা প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি শেষ হলে খালগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে এসব খাল নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চসিকের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে।

এ কারণে দুটি পৃথক প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প এবং মেগা প্রকল্পের বাইরে থাকা ২১টি খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের জন্য আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩৬ খাল রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩২২ কোটি টাকা এবং ২১ খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রকল্পের কিছু বিষয়ে সংশোধন ও সংযোজনের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের বাইরে থাকা খালের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, যা ৪০ থেকে ৫০টির মতো হতে পারে। এসব খালও প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চান্দগাঁও এলাকায় কিছু মৃত খাল দখল হয়ে গেছে, সেগুলোও পুনরুদ্ধারের আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে প্রকল্প ব্যয় বাড়তে পারে। খালগুলোকে শুধু পুনরুদ্ধার নয়, পর্যটনবান্ধব করেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

২১ খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প

২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সভায় চট্টগ্রাম ও ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম পর্যালোচনার সময় ২১টি খাল নিয়ে পৃথক প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। পরে সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডিপিপি প্রণয়নে একাধিক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের পর সর্বশেষ ‘আওয়ার পালস’ আগ্রহ প্রকাশ করে।

আরও পড়ুনঃ  কৃষি জমিতে অবৈধ পুকুর খননে বিক্ষোভে উত্তাল মনিরামপুর, তদন্তে সহকারী কমিশনার ভূমি

এই প্রকল্পের আওতায় কাটা খাল, কৃষ্ণ খাল, কুয়াইশ খাল, যুগীর খোলা খাল, ফরেস্ট খাল, বাইজ্জা খাল, চট্টেশ্বরী খাল, রামপুর খাল, বালুখালী খাল, বারিঙ্গাছড়া খাল ও ধামাইর খালসহ বিভিন্ন সংযুক্ত খাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

৩৬ খাল রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে সেনাবাহিনী বাস্তবায়নাধীন ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্প আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায় থাকা ৩৬টি খাল ভবিষ্যতে চসিকের ব্যবস্থাপনায় আসবে।

প্রস্তাবিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে খালগুলোর ডিজিটাল ইনভেন্টরি তৈরি, নিয়মিত খনন ও বর্জ্য অপসারণ, ইউ-ওয়াল নির্মাণ এবং আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে—প্রথম ধাপে জরুরি খনন ও তথ্যভান্ডার তৈরি, দ্বিতীয় ধাপে কাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থা চালু এবং তৃতীয় ধাপে প্রযুক্তিনির্ভর জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনা ও বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা চালু করা হবে।