
অমাবস্যার প্রভাবে বরিশাল বিভাগের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভাগের আটটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এবং আরও কয়েকটি নদীর পানি আগামী দুই দিনের মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাত থেকে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠির বিভিন্ন উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হতে শুরু করে।
পাউবো বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল জানান, গত দুই দিন ধরে জোয়ারের সময় কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী, তেঁতুলিয়া, মেঘনা-সুরমা, বলেশ্বর, শ্রীমন্ত ও কঁচা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আটটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। অন্য নদীগুলোর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। তবে এখন পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
পাউবোর তথ্যমতে, বরিশাল নগরসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পানি বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া ঝালকাঠির বিষখালী-সুগন্ধা, ভোলার তেঁতুলিয়া ও মেঘনা-সুরমা, পিরোজপুরের বলেশ্বর, বরগুনার বিষখালী এবং পটুয়াখালীর পায়রা-শ্রীমন্ত নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
এদিকে আমতলীর বুড়িশ্বর-পায়রা, বাকেরগঞ্জের তেঁতুলিয়া, উজিরপুরের সন্ধ্যা, গৌরনদীর টরকী এবং কাঠিপাড়ার লোহালিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী দুই দিনের মধ্যে এসব নদীর পানিও বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ অবস্থান করায় সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে। বুধবার দুপুর থেকে বরিশাল অঞ্চলে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতও হয়েছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মিলন হাওলাদার বলেন, লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Reporter Name 






















