Dhaka ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসিতে ফল বিপর্যয়, পাসের হার ৫৯.৪৮ শতাংশ; ৮ বিদ্যালয়ে কেউ পাস করেনি

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৫ Time View

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম


জিপিএ-৫ কমেছে ২,১৪৫, পাসের হার কমেছে ১২.৫৯ শতাংশ

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এবার এ বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৬৯৮ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ কমেছে ২ হাজার ১৪৫টি।

এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন।

ফলাফল ঘোষণা উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম জেলা ছাড়াও কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

ছাত্রীদের পাসের হার বেশি

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। বরাবরের মতো এবারও ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের চেয়ে বেশি।

চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এবার পাসের হার ৭৪ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ।

চার জেলাতেও বড় অবনতি

চট্টগ্রামের বাইরের চার জেলাতেও এবার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে।

কক্সবাজারে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, গত বছর ছিল ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। রাঙামাটিতে এবার পাসের হার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, গত বছর ছিল ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আরও পড়ুনঃ  ১১৯৯ নম্বর পেয়ে এসএসসিতে গলাচিপা উপজেলায় প্রথম লাইসা আনান

খাগড়াছড়িতে এবার পাসের হার মাত্র ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অন্যদিকে বান্দরবানে এবার পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ।

বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার বেশি

বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে পাসের হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

৮ বিদ্যালয়ে কেউ পাস করেনি

বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলেও এবার বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার মাত্র ২১টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩টি।

অন্যদিকে এবার আটটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে সাতটি।

নির্ধারিত সময়ের পর প্রকাশ ফল

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। নিয়ম অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও এবার নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর, ১০ আগস্ট ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

সার্বিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ পার্বত্য জেলাগুলোতে পাসের হার কমেছে ব্যাপকভাবে।

একই সঙ্গে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক থেকে বেড়ে আটে পৌঁছানো এবারের ফলাফলের দুর্বল চিত্রকে আরও স্পষ্ট করেছে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসিতে ফল বিপর্যয়, পাসের হার ৫৯.৪৮ শতাংশ; ৮ বিদ্যালয়ে কেউ পাস করেনি

সময়: ১০:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম


জিপিএ-৫ কমেছে ২,১৪৫, পাসের হার কমেছে ১২.৫৯ শতাংশ

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এবার এ বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৬৯৮ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ কমেছে ২ হাজার ১৪৫টি।

এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন।

ফলাফল ঘোষণা উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম জেলা ছাড়াও কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

ছাত্রীদের পাসের হার বেশি

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। বরাবরের মতো এবারও ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের চেয়ে বেশি।

চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এবার পাসের হার ৭৪ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ।

চার জেলাতেও বড় অবনতি

চট্টগ্রামের বাইরের চার জেলাতেও এবার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে।

কক্সবাজারে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, গত বছর ছিল ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। রাঙামাটিতে এবার পাসের হার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, গত বছর ছিল ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আরও পড়ুনঃ  মাদেকের বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্স নীতির উল্টো দিকে হাটছে চৌকিদার শাহীন

খাগড়াছড়িতে এবার পাসের হার মাত্র ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অন্যদিকে বান্দরবানে এবার পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ।

বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার বেশি

বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে পাসের হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

৮ বিদ্যালয়ে কেউ পাস করেনি

বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলেও এবার বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার মাত্র ২১টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩টি।

অন্যদিকে এবার আটটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে সাতটি।

নির্ধারিত সময়ের পর প্রকাশ ফল

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। নিয়ম অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও এবার নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর, ১০ আগস্ট ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

সার্বিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ পার্বত্য জেলাগুলোতে পাসের হার কমেছে ব্যাপকভাবে।

একই সঙ্গে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক থেকে বেড়ে আটে পৌঁছানো এবারের ফলাফলের দুর্বল চিত্রকে আরও স্পষ্ট করেছে।