Dhaka ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি হ্রাসে প্রয়োজন পূর্ব সতর্কীকরণ ও প্রাথমিক ব্যবস্থার উন্নয়ন পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত না করায় বঞ্চনার অভিযোগ ও ক্ষোভ বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি, বাঁশখালীতে আমীরে জামায়াত নিকলী থানার হাজতে পরোয়ানাভুক্ত আসামির মৃত্যু, আইনগত তদন্ত শুরু সারাদিনের প্রবল বর্ষণে কলকাতার জনজীবন বিপর্যস্ত, পথচলতি মানুষ বিপাকে ঠাকুরগাঁওয়ে বুকসমান পানি পেরিয়ে মায়ের জানাজা আলহামদুলিল্লাহ,  ​মানবতার সেবায় আরেকটি ছোট্ট উদ্যোগ সফলভাবে সম্পন্ন হলো ভারী বর্ষণে খুলশীর লালখান বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন সংসদ সদস্য: সাঈদ আল নোমান নেত্রকোনা পূর্বধলায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষে আহত ১০, থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা; গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ ঠাকুরগাঁওয়ে বুকসমান পানি পেরিয়ে মায়ের জানাজা
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ঠাকুরগাঁওয়ে বুকসমান পানি পেরিয়ে মায়ের জানাজা

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:৫৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ১৮ Time View

হাসিনুজ্জামান মিন্টু
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:


ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তঘেঁষা হরিপুর উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য আবারও সামনে এনেছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার করুণ বাস্তবতা। মৃত মাকে শেষ বিদায় জানাতে স্বজনদের বুকসমান পানি ভেঙে খাটিয়ায় করে নিয়ে যেতে হয়েছে জানাজার মাঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও মুহূর্তেই জেলাজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, উপজেলার ফালডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী মফিজান বিবি বৃহস্পতিবার ভোরে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। বিকেলে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বকুয়া ইউনিয়নের রহমান হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে। কিন্তু বাড়ি থেকে জানাজার স্থানে পৌঁছাতে স্বজনদের পাড়ি দিতে হয় প্রায় আড়াই কিলোমিটার জলাবদ্ধ পথ। পথে কোথাও কোমর, কোথাও বুকসমান পানির মধ্যে দিয়েই মরদেহ বহন করতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফালডাঙ্গী-নোনা সংযোগ সড়কে এখনো কোনো স্থায়ী ব্রিজ নির্মিত হয়নি। ফলে বর্ষা এলেই সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং চলাচল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হলে প্রায় ছয় কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়, যা জরুরি পরিস্থিতিতে আরও বড় দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।

দোস্তমপুর, ফালডাঙ্গীসহ আশপাশের চার গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার মুখোমুখি। এলাকাবাসীর ভাষ্য, নির্বাচনের সময় নানা প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। সম্প্রতি স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে একটি কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন, কিন্তু কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতেই সেটি পানিতে তলিয়ে যায়।

বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারেন না এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, আধুনিক যুগে বসবাস করলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে তারা এখনো পিছিয়ে রয়েছেন।

এলাকাবাসী দ্রুত ফালডাঙ্গী-নোনা সড়কে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ এবং রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, আর কত দিন এমন কষ্টের মধ্য দিয়ে মানুষকে প্রিয়জনের মরদেহ বহন করতে হবে? ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌরসভার পক্ষ থেকে সিলিং ফ্যান প্রদান
Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি হ্রাসে প্রয়োজন পূর্ব সতর্কীকরণ ও প্রাথমিক ব্যবস্থার উন্নয়ন

ঠাকুরগাঁওয়ে বুকসমান পানি পেরিয়ে মায়ের জানাজা

সময়: ১০:৫৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

হাসিনুজ্জামান মিন্টু
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:


ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তঘেঁষা হরিপুর উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য আবারও সামনে এনেছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার করুণ বাস্তবতা। মৃত মাকে শেষ বিদায় জানাতে স্বজনদের বুকসমান পানি ভেঙে খাটিয়ায় করে নিয়ে যেতে হয়েছে জানাজার মাঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও মুহূর্তেই জেলাজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, উপজেলার ফালডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী মফিজান বিবি বৃহস্পতিবার ভোরে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। বিকেলে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বকুয়া ইউনিয়নের রহমান হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে। কিন্তু বাড়ি থেকে জানাজার স্থানে পৌঁছাতে স্বজনদের পাড়ি দিতে হয় প্রায় আড়াই কিলোমিটার জলাবদ্ধ পথ। পথে কোথাও কোমর, কোথাও বুকসমান পানির মধ্যে দিয়েই মরদেহ বহন করতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফালডাঙ্গী-নোনা সংযোগ সড়কে এখনো কোনো স্থায়ী ব্রিজ নির্মিত হয়নি। ফলে বর্ষা এলেই সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং চলাচল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হলে প্রায় ছয় কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়, যা জরুরি পরিস্থিতিতে আরও বড় দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।

দোস্তমপুর, ফালডাঙ্গীসহ আশপাশের চার গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার মুখোমুখি। এলাকাবাসীর ভাষ্য, নির্বাচনের সময় নানা প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। সম্প্রতি স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে একটি কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন, কিন্তু কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতেই সেটি পানিতে তলিয়ে যায়।

বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারেন না এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, আধুনিক যুগে বসবাস করলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে তারা এখনো পিছিয়ে রয়েছেন।

এলাকাবাসী দ্রুত ফালডাঙ্গী-নোনা সড়কে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ এবং রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, আর কত দিন এমন কষ্টের মধ্য দিয়ে মানুষকে প্রিয়জনের মরদেহ বহন করতে হবে? ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ডিমলায় শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর ম্যাসাজের ঘটনায় ভিডিও ভাইরাল