Dhaka ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
মুন্ডুমালা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে বহুতল ভবন নির্মাণের দাবি সারাদেশের ন্যায় তানোরে শেষ হলো এইচএসসি বা সমমানের প্রথম পরীক্ষা হরিণাকুণ্ডুতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেঞ্চ ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ ভূরুঙ্গামারীতে জামায়াতের আমীরের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অর্থ সহায়তা প্রদান নরসিংদীতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক কিশোরগঞ্জের ইটনায় উজ্জ্বল হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বাদী পরিবারের দৌড়ঝাঁপ কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলের সংকট, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা সরকারি যাত্রী ছাউনি দখলের অভিযোগ, ইউপি সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে ভূরুঙ্গামারীতে স্কুল ফিডিংয়ের বনরুটিতে সবুজ ফাঙ্গাস, তদন্তে মিলল সত্যতা ভাঙ্গুড়ায় মোবাইল কোর্টের অভিযানে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ ও ধ্বংস
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

দুর্নীতির অতল গহ্বরে ইউনূস সরকার: শেখ হাসিনার সতর্কবাণী ও আজকের বাস্তবতা

  • Reporter Name
  • সময়: ১১:৫৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৪ Time View

​— মানিক লাল ঘোষ


​একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ঘিরে যে তথাকথিত ‘আদর্শিক আভিজাত্য’ ও পরিবর্তনের স্বপ্ন ফেরি করা হয়েছিল, সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আজ সেই অধ্যায়ের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বেরিয়ে আসছে দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার যে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা ও লুটপাটের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিল—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দলের নেতারা যে সতর্কবার্তা বারবার উচ্চারণ করেছিলেন—আজকের বাস্তবতা যেন সেই সত্যকেই অকাট্যভাবে প্রমাণ করছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন যেন সেই দূরদর্শী রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণেরই এক অকাট্য দর্পণ।

​টিআইবির ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ প্রতিবেদনটি কেবল একটি পরিসংখ্যানের খাতা নয়, এটি যেন একটি শাসনামলের ব্যর্থতার দলিল। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, সেই সরকারের আমলে কেবল সেবা খাতেই ঘুষ হিসেবে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। এই শাসনামলে লুটপাটকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল। সরকারের বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বাদ দিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। পাশাপাশি, জনকল্যাণমূলক খাতের চেয়ে অনুৎপাদনশীল খাতে সরকারের ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছিল, যা স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় যে জনস্বার্থের চেয়ে গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলই ছিল প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এর ফলে দুর্নীতির বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান গত দেড় বছরে ১২ ধাপ পিছিয়ে গিয়েছিল, যা ওই সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতারই চূড়ান্ত প্রমাণ।

​সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইউনূস সরকারের আমলেই দুর্নীতি অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছিল। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী যখন সরকারের ভেতরে থেকেই এমন কঠোর সত্য উচ্চারণ করেন, তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, সেই সময় রাষ্ট্রকে কোন চরম অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।
​শেখ হাসিনা যখন অনেক আগে থেকেই ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন, তখন একটি মহল তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আখ্যায়িত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু আজ টিআইবির পরিসংখ্যান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সত্য উচ্চারণ প্রমাণ করছে যে, শেখ হাসিনার সেই পর্যবেক্ষণ ছিল আগাম সংকেত মাত্র। রাজনীতির মাঠে সত্য কখনো কখনো বিলম্বে প্রকাশিত হয়, কিন্তু তা অবিনশ্বর।
​পরিশেষে বলা যায়, টিআইবির প্রতিবেদনটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি অগণতান্ত্রিক শাসনামলের ব্যর্থতার দলিল। ড. ইউনূস সরকার যাদের দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তারা আজ দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে একটি বিষয় দিবালোকের মতো স্পষ্ট—ইউনূস সম্পর্কে শেখ হাসিনা সবার আগে যা বলেছিলেন, আজ জাতি তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছে। রাষ্ট্রের স্বার্থে এখন প্রয়োজন সেই আমলের প্রতিটি দুর্নীতির দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা, যাতে করে দেশের তলাবিহীন ঝুড়ির গর্তগুলো পূরণ করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ  ‘সুখবর আসছে’—রহস্যময় পোস্টে সরগরম বিএনপি, জেলা পরিষদ প্রশাসক পদে আলোচনায় পাপ্পা

​(মানিক লাল ঘোষ : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি)

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

মুন্ডুমালা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে বহুতল ভবন নির্মাণের দাবি

দুর্নীতির অতল গহ্বরে ইউনূস সরকার: শেখ হাসিনার সতর্কবাণী ও আজকের বাস্তবতা

সময়: ১১:৫৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

​— মানিক লাল ঘোষ


​একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ঘিরে যে তথাকথিত ‘আদর্শিক আভিজাত্য’ ও পরিবর্তনের স্বপ্ন ফেরি করা হয়েছিল, সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আজ সেই অধ্যায়ের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বেরিয়ে আসছে দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার যে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা ও লুটপাটের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিল—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দলের নেতারা যে সতর্কবার্তা বারবার উচ্চারণ করেছিলেন—আজকের বাস্তবতা যেন সেই সত্যকেই অকাট্যভাবে প্রমাণ করছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন যেন সেই দূরদর্শী রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণেরই এক অকাট্য দর্পণ।

​টিআইবির ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ প্রতিবেদনটি কেবল একটি পরিসংখ্যানের খাতা নয়, এটি যেন একটি শাসনামলের ব্যর্থতার দলিল। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, সেই সরকারের আমলে কেবল সেবা খাতেই ঘুষ হিসেবে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। এই শাসনামলে লুটপাটকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল। সরকারের বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বাদ দিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। পাশাপাশি, জনকল্যাণমূলক খাতের চেয়ে অনুৎপাদনশীল খাতে সরকারের ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছিল, যা স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় যে জনস্বার্থের চেয়ে গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলই ছিল প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এর ফলে দুর্নীতির বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান গত দেড় বছরে ১২ ধাপ পিছিয়ে গিয়েছিল, যা ওই সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতারই চূড়ান্ত প্রমাণ।

​সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইউনূস সরকারের আমলেই দুর্নীতি অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছিল। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী যখন সরকারের ভেতরে থেকেই এমন কঠোর সত্য উচ্চারণ করেন, তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, সেই সময় রাষ্ট্রকে কোন চরম অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।
​শেখ হাসিনা যখন অনেক আগে থেকেই ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন, তখন একটি মহল তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আখ্যায়িত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু আজ টিআইবির পরিসংখ্যান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সত্য উচ্চারণ প্রমাণ করছে যে, শেখ হাসিনার সেই পর্যবেক্ষণ ছিল আগাম সংকেত মাত্র। রাজনীতির মাঠে সত্য কখনো কখনো বিলম্বে প্রকাশিত হয়, কিন্তু তা অবিনশ্বর।
​পরিশেষে বলা যায়, টিআইবির প্রতিবেদনটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি অগণতান্ত্রিক শাসনামলের ব্যর্থতার দলিল। ড. ইউনূস সরকার যাদের দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তারা আজ দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে একটি বিষয় দিবালোকের মতো স্পষ্ট—ইউনূস সম্পর্কে শেখ হাসিনা সবার আগে যা বলেছিলেন, আজ জাতি তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছে। রাষ্ট্রের স্বার্থে এখন প্রয়োজন সেই আমলের প্রতিটি দুর্নীতির দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা, যাতে করে দেশের তলাবিহীন ঝুড়ির গর্তগুলো পূরণ করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ  দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ১,৭০০ পিস ট্যাপেন্ডাল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

​(মানিক লাল ঘোষ : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি)