এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি, সিসিটিসহ অন্যান্য স্থাপনা দেশি-বিদেশি মালিকানায় ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, বন্দর ইজারার বিষয়ে সরকারকে অবশ্যই জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের দাবি উপেক্ষা করা হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় থেকে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে ‘বন্দর বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম। কর্মসূচির আগে বাদামতলী মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে বন্দর রক্ষার আন্দোলন চলে আসছে। শ্রমিকরা কোনোভাবেই বন্দর ইজারা দিতে দেবেন না। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের উচিত জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া। ভুল সিদ্ধান্ত নিলে অতীতের মতো রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।
বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। জনগণের অর্থে নির্মিত কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, বন্দর পরিচালনায় কর্তৃপক্ষের অদক্ষতার দায় শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে ইজারার পথ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলন।
তিনি আরও জানান, একই দাবিতে আগামী ১৫ আগস্ট একটি নাগরিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।
ডক বন্দর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন সেলিম বলেন, সরকারকে বিব্রত করা নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই এ আন্দোলন। তার দাবি, দেশীয় জনবল দিয়েই চট্টগ্রাম বন্দর দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন নেই।
টিইউসির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর সরকারের নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হওয়া উচিত। তার মতে, বন্দর দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তাই কোনোভাবেই এটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়।
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহারসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
Reporter Name 





















