
শেখ মাহতাব হোসেন
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
বিলডাকাতিয়া ও সংলগ্ন অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে হামকুড়া-ভদ্রা নদী পুনঃখনন এবং বিল শিংগা, মধুগ্রাম ও মাধবকাটি বিলে টিআরএম (টিডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) চালুর দাবিতে ডুমুরিয়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৫টায় ডুমুরিয়া উপজেলা পানি কমিটির উদ্যোগে উপজেলার ঐতিহাসিক হামকুড়া ব্রিজের ওপর এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম আক্তার স্বপন-এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিএম আমানুল্লাহ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, ডুমুরিয়া উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান জোয়ার্দ্দার, উত্তরণ প্রতিনিধি ও তালা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, হামকুড়া বিল কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন চৌধুরী, শিংগা বিল কমিটির সভাপতি শেখ শাহিনুর রহমান এবং সমাজসেবক আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুর রব আকুঞ্জিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডুমুরিয়া উপজেলা পানি কমিটির সদস্য শেখ মোশাররফ হোসেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিলডাকাতিয়া ও আশপাশের এলাকার হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি বছরের পর বছর পানির নিচে তলিয়ে থাকছে। পলি জমে হামকুড়া ও ভদ্রা নদী প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়ায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে লাখো মানুষ পানিবন্দি ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বক্তারা অবিলম্বে হামকুড়া-ভদ্রা নদী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুনঃখনন এবং বিল শিংগা, মধুগ্রাম ও মাধবকাটি বিলে টিআরএম চালুর দাবি জানান। তাদের মতে, প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী টিআরএম বাস্তবায়ন ছাড়া এ অঞ্চলের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
মানববন্ধন শেষে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এলাকার সার্বিক দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরা হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম আক্তার স্বপন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এ দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। হামকুড়া নদী পলি জমে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে নদী খনন করে বিল শিংগাসহ সংলগ্ন এলাকায় টিআরএম চালু না করলে আগামী বর্ষায় গোটা ডুমুরিয়া ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে। তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক জিএম আমানুল্লাহ বলেন, জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। শুধু নামমাত্র নদী খনন নয়, পলি ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর টিআরএম বাস্তবায়ন জরুরি। এতে নদীর নাব্যতা ফিরে আসবে এবং জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে। তিনি দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
বিশিষ্ট সমাজসেবক শাহজাহান জোয়ার্দ্দার বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ইটভাটা শিল্পসহ পুরো এলাকার অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। মানুষের জীবিকা রক্ষায় হামকুড়া-ভদ্রা নদী খনন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
মীর জিল্লুর রহমান বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম একটি পরীক্ষিত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার জন্য হামকুড়া নদী খননের পাশাপাশি পাশের বিলগুলোতে জোয়ার-ভাটা চালুর উদ্যোগ দ্রুত গ্রহণ করা উচিত।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শত শত ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সরকারের কাছে দ্রুত বাজেট বরাদ্দ দিয়ে হামকুড়া নদী পুনঃখনন ও টিআরএম বাস্তবায়নের দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর গণআন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
Reporter Name 























