দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য দেশের ৬৪ জেলার দায়িত্ব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের মধ্যে বণ্টন করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টনের কথা জানানো হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর গঠিত সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারের জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করা হবে এ দায়িত্বের আওতায়।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট এবং এর একটি অংশ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। লুটপাটের অর্থের অন্য অংশ মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয়মূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যক্রমের জন্য সরকার জাতীয় সংসদ ও জনগণের কাছে সমষ্টিগতভাবে দায়বদ্ধ। টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নির্মূলকে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোন মন্ত্রী বা হুইপ কোন জেলার দায়িত্ব পেলেন
সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা হলো—
- ইকবাল হাসান মাহমুদ — রাজশাহী ও নাটোর
- আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন — লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়
- আবদুল আউয়াল মিন্টু — লক্ষ্মীপুর
- নিতাই রায় চৌধুরী — চুয়াডাঙ্গা
- খন্দকার আবদুল মুক্তাদির — হবিগঞ্জ
- আরিফুল হক চৌধুরী — মৌলভীবাজার
- মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি — চট্টগ্রাম
- এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত — শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা
- আসাদুল হাবিব দুলু — ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর
- মো. আসাদুজ্জামান — খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট
- জাকারিয়া তাহের — ফেনী ও নোয়াখালী
- সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল — মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ
- সাচিং প্রু — কক্সবাজার
- মো. শরীফুল আলম — টাঙ্গাইল ও নরসিংদী
- শামা ওবায়েদ ইসলাম — মাদারীপুর ও শরীয়তপুর
- অনিন্দ্য ইসলাম অমিত — মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ
- আব্দুল বারী — বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ
- সুলতান সালাউদ্দিন — ঢাকা
- মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন — খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি
- হাবিবুর রশিদ — গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ
- মো. রাজীব আহসান — বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর
- মীর শাহে আলম — রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম
- ফারজানা শারমিন — সিরাজগঞ্জ ও পাবনা
- শেখ ফরিদুল ইসলাম — যশোর, মাগুরা ও নড়াইল
- ইমরান খান চৌধুরী — জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ
- আহমেদ সোহেল মঞ্জুর — বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি
- মোহাম্মদ শামীম কায়সার — জয়পুরহাট ও নওগাঁ
- মো. জি কে গউছ — সিলেট ও সুনামগঞ্জ
- মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ — রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ
- এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) — ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর
দায়িত্বের আওতায় যা থাকবে
প্রজ্ঞাপনে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের কার্যপরিধিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—
- মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া।
- মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা।
- গুরুতর অপরাধ দমনসহ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখতে পরামর্শ দেওয়া।
- সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তদারকি করা।
- দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির কার্যক্রমে পরামর্শ দেওয়া।
- সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি তদারকি করা।
- প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের সভায় অংশগ্রহণ ও পরামর্শ দেওয়া।
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টন
প্রজ্ঞাপনে সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁর কর্তৃত্বে সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়। একই সঙ্গে রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ওই বিধি থেকে বিচ্যুতির অনুমতি দিতে পারেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি মন্ত্রিসভায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ৬৪ জেলার দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন মামলা নম্বর ৩৫১২/২০০৩-এর রায়ের মর্ম অনুযায়ী এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরকারের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। তবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা যাতে খর্ব না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা, মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়ন আরও কার্যকরভাবে তদারকি করা।
Reporter Name 

























