
মোঃ হাবিবুর রহমান,
কাউখালী প্রতিনিধি: (পিরোজপুর)
মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, সাইবার অপরাধ ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পিরোজপুরের কাউখালীতে কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
রোববার (৯ আগস্ট) কাউখালী থানা পুলিশের আয়োজনে থানার সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসরিন জাহান বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। তবে শুধু পুলিশের অভিযান দিয়ে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। অপরাধ প্রতিরোধে জনগণকে পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো এলাকায় মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহ কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দেখা গেলে তা গোপন না রেখে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। জনগণের সহযোগিতা পেলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “কাউখালীকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করতে কাউখালী থানা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। অপরাধী যে-ই হোক, কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, “পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কেউ অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে অপরাধীদের শনাক্ত করতে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার এলাকায় কোনো অপরাধী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য থাকলে পুলিশকে জানান। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে। আমরা চাই, পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাউখালীকে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে।”
সভায় বক্তব্য দেন কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবীর, সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হুমায়ুন কবীর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব শাফিউল আজম দুলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা সভাপতি আলী হোসেন হাওলাদার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) এবাদ আলী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মাদক, সাইবার অপরাধ, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে পুলিশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তরুণ ও কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
Reporter Name 






















