
মোঃ মোনাহার মিয়া,
স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের বকশীগঞ্জের দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে ইসলামপুরে বড় ভাই মোতালেব ( ষ৬৫) কে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই সামিউল মাস্টারের (৬০) বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত সামিউল মাস্টারকে স্থানীয়রা আটক করে রাখেন। পরে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়। গুরুতর আহত মোতালেবকে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের ফুলকারচর ব্রিজ থেকে আনন্দবাজার টানাব্রিজের মাঝামাঝি একটি কালভার্ট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মোতালেব ও অভিযুক্ত সামিউল মাস্টারের বাড়ি বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ভাটি খেওয়ারচর গ্রামে। তাদের বাবার নাম আইজদ্দি আমিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় একজন সিএনজি চালক আনন্দবাজারে এসে কয়েকজনকে মারামারি করতে দেখেছেন বলে স্থানীয়দের জানান এবং তাদের ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ করেন। পরে বাজারের ব্যবসায়ীসহ ১০-১২ জন ঘটনাস্থলে গিয়ে মোতালেবকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তিনি তার ভাই তাকে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করছেন বলে সাহায্য চান।
বাজার ব্যবসায়ী মোছাব্বের রহমান বলেন, একজন সিএনজি চালক এসে বলছিলেন, তিন-চারজন লোক মারামারি করছে, আপনারা গিয়ে বাঁচান। পরে আমি সহ ১০-১২ জন ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি দুজন পালিয়ে যায়। আহত ব্যক্তি তখন অভিযুক্ত ব্যক্তির ঘাড়ে ছিলেন। তিনি বলছিলেন, ‘আমার ভাই আমাকে হাতুড়ি দিয়ে মারতেছে, আমাকে বাঁচান।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে একটি ছোট চাকু ও একটি হাতুড়ি দেখতে পান। পরে আহত মোতালেবকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
অটোচালক মোক্তার হোসেন বলেন, আমরা যখন তাকে দেখি, তখন তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন। তিনি শুধু বলছিলেন, ‘আমার ভাই আমাকে মারছে, আমাকে বাঁচান।
স্থানীয় ছানোয়ার হোসেন লিটন বলেন, মারামারির খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে অভিযুক্ত সামিউলের বোনও আসেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে দুই ভাই তার বাসায় একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে বের হয়েছিলেন। আহত মোতালেবের দাবি, অভিযুক্তের সঙ্গে বোরকা পরিহিত আরও একজন ব্যক্তি ছিলেন। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার পর অভিযুক্ত সামিউল মাস্টার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাকে আটক করে রাখেন। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে ইসলামপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার কাছ থেকে অভিযুক্ত সামিউল মাস্টার ও তার বোনকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
ইসলামপুর থানার এসআই জুনায়েদ বলেন,৯৯৯ থেকে খবর পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসি। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা হেলমেট, রেইনকোট ও সিটি-১০০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। মোটরসাইকেলটির নম্বর ১১৭২৩৬। অভিযুক্ত সামিউল মাস্টারের পরনের পাঞ্জাবিতেও রক্তের দাগ ছিল। আহত ব্যক্তি থানায় অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত মোতালেবকে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, দুই ভাইয়ের মধ্যে আগে থেকেই জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।
তবে ঘটনার সময় সেখানে আর কারা উপস্থিত ছিলেন, কী কারণে মারামারির সূত্রপাত এবং প্রকৃতপক্ষে কে কাকে কীভাবে আঘাত করেছেন—এসব বিষয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ।
Reporter Name 

























