
নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ:
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দিগদাই ইউনিয়নের সিংধা গ্রামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মামলার বাদী তন্না আক্তার ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তন্না আক্তার প্রায় ১৫ বছর আগে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। জীবিকার তাগিদে স্বামী বিদেশে অবস্থান করার পর থেকে স্বামীর ভাই মো. রফিক (৩৫) তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তন্না আক্তার ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রফিক ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে তাকে নির্যাতন করতে থাকেন বলে দাবি করা হয়।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, গত ১৬ জুন ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টার দিকে তন্না আক্তারের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার একটি পা ভেঙে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠান।
এ ঘটনায় তন্না আক্তার বাদী হয়ে গত ২২ জুন ২০২৬ কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মো. রফিককে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু পিটিশন মামলা নং-৬৭/২০২৬ হিসেবে গ্রহণ করে আদালত এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাড়াইল থানাকে নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের দাবি, মামলার পর থেকে আসামিপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্নভাবে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পূর্বের বিরোধ ও মামলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে, যার ফলে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বাদীপক্ষের দাবি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
Reporter Name 

























