
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিজয় রাকিন সিটির মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি (রেজি. নং: ঢ-০৩৮১/৯৭, সমাজসেবা)-এর বর্তমান প্রশাসক আবু মো. ইসতিয়াক আজিজ উলফতকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাকে অবিলম্বে প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সমিতির একাংশের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নঈম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বেলায়েত হোসেন দাবি করেন, সমিতিটি ১৯৯৭ সালে নিবন্ধন লাভ করে এবং ১৯৯৯ সালে জাতীয় হাউজিং কর্তৃপক্ষ সমিতির নামে ১৬ দশমিক ২ একর জমি বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সূত্রপাত হয় বলে তারা উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সমিতির কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনিয়ম, মামলা-মোকদ্দমা ও প্রশাসনিক জটিলতা চলে আসছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে সমিতির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর সমাজসেবা অধিদপ্তর তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং তত্ত্বাবধায়ক কমিটি গঠন করে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসক আবু মো. ইসতিয়াক আজিজ উলফত দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন না দিয়ে একাধিকবার নিজের মেয়াদ বাড়িয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসকের দায়িত্বে থাকাকালে সমিতির অর্থ আত্মসাৎ, অফিস দখল, ফ্ল্যাট বরাদ্দ ও ভাড়া সংক্রান্ত অনিয়ম, সদস্যপদ দেওয়ার নামে অর্থ আদায় এবং কিছু মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
বিবৃতিতে প্রশাসকের বিরুদ্ধে সমিতির ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় এক কোটি টাকা উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে। এছাড়া কয়েকশ ব্যক্তির কাছ থেকে সদস্যপদ দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণ এবং বিভিন্ন ফ্ল্যাট দখল করে ভাড়া বা বন্ধক দেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নথিপত্র সংবাদমাধ্যমের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।
সমিতির সদস্যদের দাবি, তাদের আবেদনের ভিত্তিতেই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাই বর্তমান প্রশাসকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে তাকে অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং দ্রুত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসক আবু মো. ইসতিয়াক আজিজ উলফতের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে। একইভাবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
Reporter Name 





















