মো. গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌরসভার একটি মহল্লায় বর্ষা মৌসুমেও দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। প্রায় ২০ দিন ধরে খাবার পানির সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় পর্যাপ্ত পুকুর না থাকায় শুধু খাবার পানি নয়, গোসল ও গৃহস্থালির অন্যান্য কাজের পানিও সংকটে পড়েছে। বাধ্য হয়ে মহল্লার বাসিন্দারা দুটি ব্যক্তিমালিকানাধীন সাবমার্সিবল পাম্প থেকে টাকা দিয়ে পানি কিনে ব্যবহার করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তানোর উপজেলা সরকার ঘোষিত পানি সংকটাপন্ন এলাকা। মুন্ডুমালা পৌর এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক আগে থেকেই অধিকাংশ হস্তচালিত নলকূপ অচল হয়ে গেছে। গভীর নলকূপেও পর্যাপ্ত পানির স্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
২০১৭ সালের পর মুন্ডুমালা পৌরসভার নিজস্ব গভীর নলকূপ ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নলকূপ থেকে সাদিপুর মহল্লায় পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ জন্য ১১৭টি বাড়িতে ট্যাপ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
পৌরসভা সূত্র জানায়, একটি ট্যাপ সংযোগের জন্য মাসে ১৫০ টাকা এবং ট্যাংকে পানি সংরক্ষণকারীদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা নেওয়া হয়। তবে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পৌরসভার নিজস্ব গভীর নলকূপ থেকে পানি উঠছে না। পাশাপাশি প্রায় ২০ দিন ধরে বিএমডিএর নলকূপটিও নষ্ট থাকায় পুরো এলাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
মহল্লার বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করে পানি কিনতে হচ্ছে। কোনো কোনো পরিবার এরই মধ্যে দুই হাজার টাকারও বেশি পানি কিনেছে।
স্থানীয় বেসরকারি সংস্থার স্বেচ্ছাসেবক জেসমিন খাতুন বলেন, “জুলাইয়ের ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত পানি ছিল না। মাঝখানে তিন দিন এসেছিল। এরপর থেকে আর পানি নেই। এলাকায় পুকুর না থাকায় সমস্যা আরও বেড়েছে। ব্যক্তিগত মোটর থেকে পাঁচ মিনিট পানি নিতেই ৫০ টাকা দিতে হচ্ছে।”
পানির সংকটে গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। পর্যাপ্ত পানি দিতে না পারায় অনেকেই গরু বিক্রি করে দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রনি ইসলাম বলেন, “এটা পোয়াতি গরু। ঠিকমতো পানি দিতে পারিনি। তাই গরুটার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। গরুর কিছু হয়ে গেলে আমার মতো গরিব মানুষের অনেক ক্ষতি হবে।”
মটরি বেগম জানান, পানির অভাবে তিনি দুটি গরু লোকসানে বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মানুষই পানি পাচ্ছে না, গরু-বকরিকে কীভাবে পানি দেব?”
মহল্লার পানির বিল আদায়কারী আবদুর রহমান বলেন, “পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পৌরসভার গভীর নলকূপে পানি উঠছে না। বিএমডিএর নলকূপটিও ঘন ঘন নষ্ট হচ্ছে।”
এ বিষয়ে মুন্ডুমালা পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, “নলকূপ নষ্ট থাকার বিষয়টি দুই দিন আগেই বিএমডিএর প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছিল। তিনি ঠিক করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন।” পরে তিনি জানান, মেশিন ঠিক হয়েছে, তবে স্থানীয় সমিতির কিছু কাজ বাকি রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পানি সংকট সমাধানে নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন ও নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
Reporter Name 

























