শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো গাজীপুরের কালিয়াকৈরেও বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে পোশাক কারখানা ছুটির সময় এবং রাতের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজের সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো আধা ঘণ্টা, আবার কখনো এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে মানসিক চাপও বাড়ছে।
শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, “পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এভাবে চলতে থাকলে পরীক্ষার ফলাফলেও প্রভাব পড়তে পারে।”
লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা সময়মতো ব্যাটারি চার্জ দিতে না পারায় আয় কমে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন। একইভাবে ওয়েল্ডিংসহ বিদ্যুৎনির্ভর পেশার মানুষও কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সমস্যায় পড়ছেন।
অটোরিকশা চালক আলামিন বলেন, “আগে একবার চার্জ দিয়ে সারাদিন গাড়ি চালানো যেত। এখন বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো চার্জ হয় না, ফলে আয়ও কমে গেছে।”
ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি মো. জাকির বলেন, “সকালে কাজ শুরু করার সময়ই অনেক সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে সময়মতো কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।”
স্থানীয়দের দাবি, গরমের তীব্রতা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এমন বিদ্যুৎ সংকট উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন জেলার ১০টি উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৯০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে।
তবে কালিয়াকৈর এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ২৪ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে এবং বর্তমানে সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Reporter Name 

























