Dhaka ০৭:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
স্পেনের জয়ে সেজদা দেওয়ায় শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে মারধরের অভিযোগ ভেড়ামারায় এক আর্জেন্টিনা সমর্থক আত্মহত্যার অভিযোগ কালিয়াকৈরে বিল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার সাপাহারে প্রদর্শনী চাষীদের মাঝে মাছের খাবার ও গাছের চারা বিতরণ ভাঙ্গুড়ায় মাদক নির্মূলে কোমর বেঁধে নেমেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান গোবিন্দগঞ্জে অনলাইন ক্যাসিনোর এজেন্ট গ্রেফতার, ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ ডিমলায় কচুরিপানা পরিষ্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ অ‍্যাসাল লংআইল‍্যান্ড চ‍্যাপ্টারের অভিষেক ও বারবিকিউ পার্টি-২০২৬ অনুষ্ঠিত, সভাপতি শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক নাছের নির্বাচিত ‘স্মরণে ৭১-হৃদয়ে বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক সাংবাদিক মানিক লাল ঘোষ ও সদস্য সচিব সাংবাদিক শফিক বাবু মনোনীত গোদাগাড়ীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আজাদ গ্রেপ্তার
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ডিবি হেফাজতে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু, পুলিশের দাবি বাথরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

  • Reporter Name
  • সময়: ১২:২৭:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ১৩ Time View

বগুড়া প্রতিনিধি:


বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, হাজতখানার বাথরুমে লুঙ্গি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০) বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোরগাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নান হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন সকালে সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া কৈখালী এলাকার একটি বিল থেকে অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে শনিবার আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তিনি জানান, গত ২৮ জুন সন্ধ্যার পর আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রী সেজে একটি অটোরিকশা ভাড়া করা হয়। পরে সারিয়াকান্দি এলাকায় চালককে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ একটি বিলে ফেলে অটোরিকশাটি নিয়ে নওগাঁয় যাওয়া হয়। পরে চার্জ শেষ হয়ে গেলে অটোরিকশাটি সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে নওগাঁয় অভিযান চালানো হলেও অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর ১২টার দিকে আসাদকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল। সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তিনি হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট পরও বাইরে না আসায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ভেতরে গিয়ে তাকে লুঙ্গি দিয়ে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুনঃ  গোদাগাড়ীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আজাদ গ্রেপ্তার

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. ইফতেখারুল ইসলাম জানান, সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটে আসাদকে হাসপাতালে আনা হয়। অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ডিবি পুলিশ জানায়, হাজতখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকালে নাশতা করার পর আসাদ কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন। পরে সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তিনি বাথরুমে প্রবেশ করেন।

বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন এবং নিহতের মোবাইল ফোন তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়ার আগেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজে প্রতীয়মান হয়েছে।

তিনি আরও জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি ঘটনাটির বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাশেদুল ইসলাম রনি জানান, মরদেহে গলায় ফাঁসের স্পষ্ট দাগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত জানতে মরদেহ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এদিকে নিহতের বাবা ও মাদ্রাসাশিক্ষক মতি মুন্সি জানান, উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর তার ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। ডিবি হেফাজতে ছেলের মৃত্যুর খবর তিনি পরে জানতে পারেন।

উল্লেখ্য, হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের আত্মহত্যার দাবির পাশাপাশি ময়নাতদন্ত, সুরতহাল প্রতিবেদন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

স্পেনের জয়ে সেজদা দেওয়ায় শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে মারধরের অভিযোগ

ডিবি হেফাজতে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু, পুলিশের দাবি বাথরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

সময়: ১২:২৭:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বগুড়া প্রতিনিধি:


বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, হাজতখানার বাথরুমে লুঙ্গি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০) বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোরগাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নান হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন সকালে সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া কৈখালী এলাকার একটি বিল থেকে অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে শনিবার আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তিনি জানান, গত ২৮ জুন সন্ধ্যার পর আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রী সেজে একটি অটোরিকশা ভাড়া করা হয়। পরে সারিয়াকান্দি এলাকায় চালককে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ একটি বিলে ফেলে অটোরিকশাটি নিয়ে নওগাঁয় যাওয়া হয়। পরে চার্জ শেষ হয়ে গেলে অটোরিকশাটি সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে নওগাঁয় অভিযান চালানো হলেও অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর ১২টার দিকে আসাদকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল। সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তিনি হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট পরও বাইরে না আসায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ভেতরে গিয়ে তাকে লুঙ্গি দিয়ে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুনঃ  সংবাদ প্রকাশের পর অভিযান: আদমদীঘিতে সার বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত, ডিলারকে জরিমানা, গুদাম সিলগালা

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. ইফতেখারুল ইসলাম জানান, সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটে আসাদকে হাসপাতালে আনা হয়। অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ডিবি পুলিশ জানায়, হাজতখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকালে নাশতা করার পর আসাদ কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন। পরে সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তিনি বাথরুমে প্রবেশ করেন।

বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন এবং নিহতের মোবাইল ফোন তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়ার আগেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজে প্রতীয়মান হয়েছে।

তিনি আরও জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি ঘটনাটির বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাশেদুল ইসলাম রনি জানান, মরদেহে গলায় ফাঁসের স্পষ্ট দাগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত জানতে মরদেহ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এদিকে নিহতের বাবা ও মাদ্রাসাশিক্ষক মতি মুন্সি জানান, উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর তার ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। ডিবি হেফাজতে ছেলের মৃত্যুর খবর তিনি পরে জানতে পারেন।

উল্লেখ্য, হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের আত্মহত্যার দাবির পাশাপাশি ময়নাতদন্ত, সুরতহাল প্রতিবেদন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।