ধর্ম অবমাননা কাম্য নয়
মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী
এই সুন্দর পৃথিবীতে প্রায় ৭০০ কোটি মানুষের বসবাস। এর প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষই কোনো না কোনো ধর্মের অনুসারী। অর্থাৎ খুব কম মানুষই ধর্মে অবিশ্বাসী। তবে এক ধর্মের অনুসারী ভিন্ন ধর্মাবলম্বীকে কটাক্ষ করবে, ছোট করবে বা অবমাননা করবে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আল্লাহ বলেন, “এরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ইবাদত পূজা-অর্চনা করে তোমরা তাদেরকে গালাগালি করো না, তাহলে তারা অজ্ঞতাবশত বৈরীভাবে আল্লাহকেই গালাগালি দিতে শুরু করবে। আমি তো এ রূপেই প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জন্য তাদের আমলকে চাকচিক্যময় করে দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে তাদের রবের কাছে ফিরে যেতে হবে, তখন তারা কী কী কাজ করেছিল তা তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেবেন” (সূরা আল আনআম : ১০৮)।
তাই অন্য কোনো ধর্মকে বা কোনো দেব-দেবতাকে গালি দেওয়া যাবে না। যাতে অন্যের ধর্মের লোকেরা আল্লাহকে গালি না দেয় সে জন্যও এটি বারণ করা হয়েছে। যার যার ধর্ম সবাই পালন করবে। ইসলাম শান্তির ধর্ম; অন্যের ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করা হয়েছে। এটাই ইসলামের সৌন্দর্য।
কিন্তু বিভিন্ন সময়ে দেখা যায় অন্য ধর্মাবলম্বীরা আমাদের ধর্মকে অবমাননা করে এবং প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অপমান করে, আমাদের আল কুরআনকে আঘাত করে। সম্প্রতি সুইডেনে মুসলিমদের পবিত্র কিতাব আল কুরআনকে পোড়ানো হয়েছে। গত ২৮ জুন স্টকহোম শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদের বাইরে আল কুরআনের একটি কপিতে আগুন ধরিয়ে দেন সুইডেনে বসবাসরত সালওয়ান মোমিকা নামের এক ব্যক্তি।
এই ঘটনায় তুরস্ক, ইরাক, ইরান, মিসর, সৌদি আরব, ইয়েমেন, জর্ডান, মরক্কো ও বাংলাদেশসহ বহু মুসলিম দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। কারণ আল কুরআন মুসলমানদের জীবনবিধান, ভালোবাসা, ঈমান। যুগে যুগে কাফের-মুশরিকরা কুরআনকে নিভিয়ে দিতে চেয়েছে কিন্তু পারেনি। কুরআন আল্লাহর নূর, পৃথিবীর কোনো শক্তি এ নূরকে নিভাতে পারবে না।
আল কুরআনে এসেছে, “তারা আল্লাহর নূর ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূর পূর্ণরূপে উদ্ভাসিত করবেন, যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে” (সূরা আস সাফ : ০৮)। আল্লাহর আলোকে তিনি নিজেই হেফাজত করবেন। কোনো শক্তিই তা নিভাতে পারবে না।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শান আল্লাহর কাছে মহান। আল্লাহ বলেন, “আমি তোমার খ্যাতিকে উচ্চ মর্যাদা দান করেছি” (সূরা আল ইনশিরাহ : ৪)। অশান্তি ও বর্বরতার যুগে তিনি শান্তির বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেন। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী। যারা তাঁকে অবমাননা করেছে তারা ধ্বংস হয়ে গেছে—আবু জেহেল, আস ইবনে ওয়ায়েল, আস ইবনে মগীরাসহ অসংখ্য কাফের ইতিহাসের পাতায় লুপ্ত হয়ে গেছে।
কখনো কখনো আজও বিভিন্ন দেশে প্রিয়নবীকে অবমাননা করা হয়, মুসলিমরা প্রতিবাদ জানায়। আল্লাহ বলেন, “যারা আল্লাহ ও রাসূলকে পাড়া দেয় আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত করেন এবং তাদের জন্য রেখেছেন লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি” (সূরা আল আহজাব : ৫৭)। আবার বলেন, “তারা কি জানে না, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীর ভাগ্যে জাহান্নামের আগুন? সেখানে তারা অনন্তকাল থাকবে। এটা চরম লাঞ্ছনা” (সূরা আত তাওবাহ : ৬৩)।
বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশে ধর্ম অবমাননার শাস্তির বিধানসংবলিত আইন রয়েছে।
লেখক : আলেম, গবেষক
মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী 

























