
দেশের বাড়তে থাকা গ্যাসের চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আরও দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য থেকে সেপ্টেম্বর মাসে কার্গো দুটি দেশে আনা হবে। প্রতিটি কার্গোর এলএনজির দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ২৪ ডলারের বেশি পড়ছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এলএনজি আমদানির প্রস্তাব দুটি অনুমোদন দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে কার্গো দুটি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কোরিয়া থেকে আসবে প্রথম কার্গো
অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার জ্বালানি ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান **পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন** থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে। আগামী ১৩ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্গোটি দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এই কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে **২৪ দশমিক ৬২৫ ডলার**।
যুক্তরাজ্য থেকেও আসছে এক কার্গো
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের **টোটাল এনার্জিস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড** থেকে দ্বিতীয় কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। এটি আগামী ২৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে আসতে পারে।
এই কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে **২৪ দশমিক ২৫ ডলার**।
দুই কার্গোর দামের তুলনায় দেখা যায়, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কেনা এলএনজির মূল্য যুক্তরাজ্য থেকে কেনা কার্গোর চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে উভয় কার্গোর ক্ষেত্রেই প্রতি এমএমবিটিইউর দাম ২৪ ডলারের ওপরে।
আগের কার্গোর চেয়েও দাম বেশি
এর আগে ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সৌদি আরবের **আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড** থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ওই কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউর দাম ছিল **২৩ দশমিক ৯৩ ডলার**।
সর্বশেষ অনুমোদিত দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের দুই কার্গোর দাম আগের ওই কার্গোর তুলনায় বেশি। বিশেষ করে কোরিয়া থেকে কেনা এলএনজির দাম আগের কার্গোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
স্পট মার্কেট থেকে ধারাবাহিক আমদানি
দেশের বিদ্যমান গ্যাসের চাহিদা পূরণ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে নিয়মিত এলএনজি আমদানি করছে। নতুন দুই কার্গো দেশে এলে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও এলএনজি যুক্ত হবে।
সরকারের ধারাবাহিক এই আমদানির লক্ষ্য হলো বাড়তি চাহিদার সময়ে গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা এবং শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে জ্বালানির প্রয়োজন মেটানো।
Reporter Name 




























