
নড়াইল প্রতিনিধি:
মামলার বাদীর অভিযোগ, আসামিদের শনাক্ত করে দেওয়ার পরও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেনি।
এজাহার ও মামলার বাদী সূত্রে জানা যায়, বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামের মিলন মোল্যার স্ত্রী শিউলি বেগমকে গত ২৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার বাড়িতে প্রবেশ করে একই গ্রামের ইকলাজ মোল্যার ছেলে শামীম মোল্যা (মশিয়ার) ও তরিকুল মোল্যার নেতৃত্বে নাঈম, সজিব, শান্ত ও রিফাত মোল্যা বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করে। প্রতিবেশীরা আহত অবস্থায় শিউলি বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় শিউলি বেগম বাদী হয়ে ওই দিন রাতে লোহাগড়া থানায় মামলা করতে গেলে, তার অভিযোগ অনুযায়ী, রহস্যজনক কারণে মামলা রেকর্ডভুক্ত না করে টালবাহানা করা হয়। পরে তিনি একাধিকবার চেষ্টা করেও মামলা রেকর্ডভুক্ত করাতে ব্যর্থ হয়ে গত ১ জুলাই নড়াইলের বিজ্ঞ আদালতের শরণাপন্ন হন।
বিজ্ঞ আদালত শিউলি বেগমের জবানবন্দি ও মারপিটের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে লোহাগড়া থানার ওসিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের ওই নির্দেশে গত ৩ জুলাই লোহাগড়া থানা পুলিশ মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করে। মামলার নম্বর-০৪। এসআই কুমারেশ বিশ্বাসকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ৪ জুলাই ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিদের কাছেই নাম-ঠিকানা যাচাই করার সময় শিউলি বেগম আসামি তরিকুল, শামীম (মশিয়ার), রিফাত, সজিব ও শান্ত মোল্যাকে শনাক্ত করে দিলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন। বাদীর দাবি, তারা ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী এবং মামলার প্রধান আসামি শামীম ও তরিকুলের বড় ভাই বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানায় কর্মরত এসআই মিজানুর রহমানের প্রভাবের কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।
বাদী আরও অভিযোগ করেন, এসআই মিজানুর রহমান ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসে তাকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও মিথ্যা মামলার ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কুমারেশ বিশ্বাস বলেন, “আসামিদের নামের সঠিকতা না থাকায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। নাম যাচাই করতে গেলে সবাই দৌড়ে পালিয়ে যায়।”
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রহমানের বক্তব্য জানার জন্য সরকারি মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
Reporter Name 
























