মো. কামাল হোসেন প্রধান, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি:
নরসিংদীতে অবৈধ কারেন্ট জাল ও রিং জালের ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও মজুদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে তিনজনকে আটক করে মোট ৭১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশক্রমে এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকারের দিকনির্দেশনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী হাট বাজারে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে মাধবদী হাটের খোলা মাঠে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল ও রিং জালের প্রকাশ্য ক্রয়-বিক্রয় চলতে দেখা যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে অধিকাংশ ব্যবসায়ী পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট আইনে তাদের কাছ থেকে মোট ৭১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল ও রিং জাল জব্দ করা হয়। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব জাল দেশের মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
পরে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রওনক জাহানের উপস্থিতিতে নরসিংদীর মদনগঞ্জ সড়কের ৫ নম্বর রোডসংলগ্ন খোলা স্থানে জব্দকৃত জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে সদর উপজেলা মৎস্য অফিস, র্যাব, মাধবদী থানা পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালিদ হোসেন শিমুল। মামলায় প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রওনক জাহান।
প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ কারেন্ট জাল ও রিং জালের উৎপাদন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় এবং ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। মৎস্যসম্পদ ধ্বংসে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Reporter Name 




























