এলএসডি কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ, তদন্ত দাবি
মো. সারোয়ার হোসেন অপু,
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, চুক্তিবদ্ধ কয়েকটি চালকল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা অচলপ্রায় থাকলেও এসব মিলের নামে সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করা হয়েছে।
চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৬টি চুক্তিবদ্ধ চালকল থেকে সরকার ৪৯ টাকা কেজি দরে ৩৫৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করছে। এরই মধ্যে কয়েকটি মিল থেকে চাল সরবরাহ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, চুক্তিবদ্ধ মিলগুলোর মধ্যে কিছু চাতাল নিয়মিত উৎপাদনে নেই। এসব বন্ধ বা অচলপ্রায় চাতালের নামে কীভাবে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার কিছু চাতাল মালিক নিজেরা পরিচালনা না করে অন্য ব্যক্তিদের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। ভাড়াটিয়ারা এসব স্থানে ধান শুকানো ও স্টক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব চাতালের নামে সরকারি গুদামে সরবরাহ করা চালের প্রকৃত উৎস নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, কিছু চুক্তিবদ্ধ মিলের নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম না থাকলেও তারা সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের সুযোগ পাচ্ছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট এলএসডি কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে বন্ধ বা অচলপ্রায় চাতালের নামে চাল গ্রহণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি চাতাল ঘুরে দেখা যায়, অনেক চাতালেই নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রমের দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন নেই। কোনো কোনো চাতালের চিমনিতে ঘাস জন্মেছে, কোথাও পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। বেশ কয়েকটি চাতালে নেই শ্রমিক, কর্মচারী বা নিয়মিত কার্যক্রম। আবার কিছু চাতাল ভাড়া দিয়ে সেখানে স্টক ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেসব চাতালে নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম নেই, সেসব চাতালের নামে সরকারি খাদ্যগুদামে সরবরাহ করা চালের উৎস কী? আর ভাড়া দেওয়া চাতালের নামে সরবরাহ করা চাল প্রকৃতপক্ষে কোথা থেকে এসেছে, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।
ভাই ভাই চালকলের মালিক আতাউর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে তার মিলের জন্য ২১ মেট্রিক টন চালের বরাদ্দ রয়েছে। বর্তমানে কয়টি চাতাল চালু রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই ভাই চালকল, শেখ চালকল, আহসান হাবিব চালকল ও বিশ্বাস চালকলসহ মোট পাঁচটি চাতাল সচল রয়েছে। ব্যবসায়িক সমস্যার কারণে অন্য অনেক চাতাল বন্ধ হওয়ার পথে বলেও জানান তিনি।
বদলগাছী এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমানের কাছে অধিকাংশ চাতাল বন্ধ থাকার পরও এসব মিলের চাল কীভাবে সরকারি গুদামে সরবরাহ করা হয়েছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চাতাল মালিকরা শ্রমিক না পেলে চাতাল বন্ধ থাকে।”
অধিকাংশ চাতালে উৎপাদনের দৃশ্যমান কার্যক্রম না থাকা এবং বন্ধ চাতাল থেকে চাল সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তারা কোথা থেকে চাল দেবে, সেটি তাদের বিষয়।”
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেই বরাদ্দ দিয়েছি। চাল কীভাবে দেবে, সেটা চাতাল মালিকরা জানেন। আমরা চাল নিতে চাই।”
এদিকে, সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে চুক্তিবদ্ধ মিলের বাস্তব উৎপাদন সক্ষমতা, মিল সচল থাকা এবং সরবরাহকৃত চালের প্রকৃত উৎস যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তাদের দাবি, কোনো মিল নিজস্ব উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রেখেও যদি চুক্তির আওতায় সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করে থাকে, তাহলে খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে ভাড়া দেওয়া বা অচলপ্রায় চাতালের নামে চাল সরবরাহ হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন।
সচেতন মহল বদলগাছী উপজেলার ১৬টি চুক্তিবদ্ধ চালকলের বরাদ্দ, বাস্তব উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহকৃত চালের পরিমাণ এবং চালের প্রকৃত উৎস যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
Reporter Name 
























